শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ নিশ্চিত করতে চাই পুষ্টিকর খাবার। নইলে মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি, কাজে মনোযোগ ও একাগ্রতা, নতুন কিছু শেখা ও মনে রাখার ক্ষমতা এবং সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতিতে সাহায্য করে বেশ কিছু খাবার। দীর্ঘদিন একই ধরনের খাবার দেওয়া হলে শিশুর মনে অনীহা তৈরি করতে পারে।
তাই কিছুদিন পর পর খাবার বদল করা জরুরি।
মস্তিষ্কের বিকাশে শিশুকে যা খাওয়াবেন
► তেলযুক্ত মাছ; যেমন—স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকারেল বা ইলিশ। এ ধরনের মাছের মধ্যে আছে দুই ধরনের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এটি মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে এবং বাড়ায় স্মৃতিশক্তি।
► ডিমের মধ্যে আছে কোলিন, ভিটামিন বি৬, বি১২ ও উচ্চমানের প্রোটিন। প্রতিটি উপাদান স্নায়ুকোষকে রাখে সক্রিয় এবং শিশুর নতুন কিছু শেখার সক্ষমতা বাড়ায়।
► দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ানো খুবই জরুরি। এর মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, বি ও প্রোটিন স্নায়ুতন্ত্র এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
► বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ; যেমন—আখরোট, কাঠবাদাম, চিয়া, ফ্ল্যাক্সসিড ও সূর্যমুখীর বীজ। প্রতিটি খাবারে আছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ই। এগুলো মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
► শিশুকে সবুজ শাক-সবজি; যেমন—পালং শাক, কলমি শাক ও ব্রকোলি খাওয়ানো জরুরি। আয়রন, ফলেট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ করে, মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বাড়ায়।
► খাবারের তালিকায় ফল রাখা প্রয়োজন। ব্লুবেরি, আঙুর, কমলা, কলা ও আপেল রাখুন খাবারের তালিকায়। এর মধ্যে থাকা বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মস্তিষ্ককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে।
► ডার্ক চকোলেট (সীমিত পরিমাণে) দেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যাফেইন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মনোযোগ ও মুড ভালো রাখতে সাহায্য করে।
মনে রাখা চাই
► প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি খাওয়া জরুরি।
► অতিরিক্ত চিনি, জাংক ফুড ও সফট ড্রিংকস কমাতে হবে।
► ঘুম ও শারীরিক কার্যকলাপও মস্তিষ্কের উন্নতির জন্য অপরিহার্য।