দীর্ঘদিন ধরে দাঁতের সমস্যায় ভুগলে এক পর্যায়ে রোগীদের খাদ্যাভ্যাস বদলে যায়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে ডেন্টাল ক্যাপ।
রুট ক্যানেলের সঙ্গে ক্যাপের সম্পর্ক
রুট ক্যানেল করার পর দাঁতে ক্যাপ করা জরুরি। বেশির ভাগ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতেই রুট ক্যানেল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। ক্যাপ না করলে রুট ক্যানেলে কাজ হবে না এমন নয়, দাঁতের ব্যথা থেকে মুক্তি মিলবে ঠিকই, তবে দাঁতটিতে কোনো আঘাত লাগলে সেটি সহজেই ভেঙে যেতে পারে।
দাঁত ব্যথা কমাতে এর ভেতরের সংক্রমিত মজ্জা বা পাল্পকে বের করে আনা হয়—এটিকেই মেডিক্যাল ভাষায় বলে রুট ক্যানেল চিকিৎসা। পাল্প যখন সুস্থ থাকে, তখন সেটি দাঁতের ডেন্টিন অংশকে পুষ্টি ও পানি সরবরাহ করে। দাঁতের পাল্প নষ্ট বা অপসারিত হলে ডেন্টিন অংশে আর সেগুলো পৌঁছায় না। ফলে পুষ্টি ও পানির অভাবে ধীরে ধীরে ডেন্টিন অংশটি শুকিয়ে ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। রুট ক্যানেল চিকিৎসা দাঁতের ইনফেকশন ও ব্যথা বন্ধ করলেও এই পানি ও পুষ্টির সরবরাহ আগের মতো চালু করতে পারে না অর্থাৎ ডেন্টিন ঠিকই ভঙ্গুর হতে থাকে। ডেন্টিনকে টিকিয়ে রাখতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ক্যাপ। তাই রুট ক্যানেল শেষে ক্যাপ বসানো জরুরি।
ক্যাপের স্থায়িত্ব কত দিন?
পোরসেলিন, জিরকোনিয়া, মেটালসহ বিভিন্ন উপকরণ থেকে তৈরি করা কৃত্রিম ক্যাপ ঠিকমতো যত্নের সঙ্গে ব্যবহার করলে পাঁচ থেকে ২০ বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়। যদি কখনো ক্যাপ বসানোর কেমিক্যাল নষ্ট হয়ে সেটি খুলে যায়, সে ক্ষেত্রে পুনরায় ক্যাপটি লাগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
ক্যাপের যত্ন
প্রাকৃতিক দাঁতের চেয়ে দাঁতের ক্যাপের বাড়তি যত্ন নিতে হয়। বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে যাতে ক্যাপের ফাঁকে খাবার আটকে না থাকে। প্রতিদিন দুই বেলা ব্রাশ করা এবং রাতে একবার ফ্লস ব্যবহার করতে হবে। মাড়িও ম্যাসাজ করা উচিৎ। কিছু রোগীর মাড়ির আকৃতি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ ও মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।