সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বাড়ছে স্ট্রোকের প্রাদুর্ভাব

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্তক্ষরণের ফলে স্নায়ুবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে ফেলা একটি রোগ। এটি শুধুমাত্র রোগী নয়, পরিবারের জীবন ও অর্থনীতিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্ট্রোক বিশ্বের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ এবং দীর্ঘমেয়াদী পঙ্গুত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশেও এর প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়ছে। জীবনধারা, রক্তচাপ ও হার্টের সমস্যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। তবে সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট কিনুন

> বিশ্বব্যাপী স্ট্রোকের বোঝা (২০২৫ সালের পরিসংখ্যান): –

নতুন স্ট্রোক রোগী : বছরে প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।
* পুরুষ: ≈৫৩% * নারী: ≈৪৭% * তরুণ (১৫-৪৯ বছর): ≈১৫% * স্ট্রোক নিয়ে বেঁচে থাকা: বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি ৩৮ লাখ মানুষ স্ট্রোক-পরবর্তী অবস্থায় বেঁচে আছেন।
* পুরুষ: ≈৫১% * নারী: ≈৪৯% * তরুণ-যুবা: ≈২২% * মৃত্যু: প্রতি বছর প্রায় ৭২.৫ লাখ মানুষ স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যায়। * পুরুষ: ≈৫২% * নারী: ≈৪৮%

* বিপাকীয় (উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা) ৬৯%
* পরিবেশগত (বায়ুদূষণ, তাপমাত্রা, ঘরের ধোঁয়া) ৩৭%
* আচরণগত (ধূমপান, অ্যালকোহল, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা) ৩৫%
> বাংলাদেশে স্ট্রোক (২০২৫ সালের চিত্র)
* প্রেভেলেন্স: প্রতি ১ লক্ষে ১১৩৯ জন স্ট্রোক রোগী।
* বার্ষিক নতুন রোগী : ≈৩ প্রতি ১,০০০ জন (০.৩%)।

> ধরণ:

* ইস্কেমিক স্ট্রোক: ≈৫৩-৬১%
* হেমোরেজিক স্ট্রোক : ≈৩৯-৪৫%
* সেরিব্রাল ভেনাস থ্রম্বোসিস: তরুণ নারী ও গর্ভবতীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

> স্ট্রোকের কারণ-
স্ট্রোক হঠাৎ ঘটলেও এর পিছনে বহুদিনের ঝুঁকি কাজ করে।
* উচ্চ রক্তচাপ: সবচেয়ে বড় ঝুঁকি * ডায়াবেটিস ও স্থূলতা * ধূমপান ও তামাক ব্যবহার
* রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল * অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বা হৃদরোগ
> বায়ুদূষণ ও পরিবেশগত চাপ
* জন্মগত হৃদরোগ ও জিনগত সমস্যা (শিশুদের ক্ষেত্রে)
* গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত জটিলতা (প্রি-এক্ল্যামসিয়া, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস)
>> নারী, পুরুষ ও শিশুদের স্ট্রোক
> পুরুষ :-
* ধূমপান, অ্যালকোহল, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা-পুরুষদের প্রধান ঝুঁকি।
* তুলনামূলকভাবে কম বয়সেই স্ট্রোক হয়।

> নারী :-

* আজীবন স্ট্রোক-ঝুঁকি সামান্য বেশি।
* গর্ভাবস্থা, হরমোন থেরাপি, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, মাইগ্রেন উইথ অরা নারীর বিশেষ ঝুঁকি।
* স্ট্রোক-পরবর্তী জটিলতা ও মৃত্যু নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
> শিশু : * শিশুদের মধ্যে স্ট্রোক বিরল হলেও প্রতি বছর হাজারো শিশু আক্রান্ত হয়।
* প্রধান কারণ: জন্মগত হৃদরোগ, সিক্ল সেল এনিমিয়া, সংক্রমণ, ভাস্কুলার অস্বাভাবিকতা, আঘাত।
* বাংলাদেশে সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও : বড় বড় হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত কেস ধরা পড়ে।

* হঠাৎ মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো
* দৃষ্টি কমে যাওয়া (এক বা দুই চোখে)
* অবস হয়ে মুখ একপাশ ঝুলে পড়া
* অবস হয়ে হাত/পা দুর্বল হয়ে যাওয়া
* কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্পষ্ট উচ্চারণ
* দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া-প্রতি মিনিটে মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হয়
* অতিরিক্ত লক্ষণ: তীব্র মাথাব্যথা, হঠাৎ খিঁচুনি, বমি, জ্ঞান হারানো, শরীরের একপাশ অসাড় হওয়া।

> স্ট্রোকের রোগ নির্ণয়-

স্ট্রোক নিশ্চিত করতে সময়ই সবচেয়ে গুত্বপূর্ণ। তাই দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে রুগীকে নিয়ে যেতে হবে। হাসপাতালে পৌঁছার পর সাধারণত: রোগের ও রুগীর পূর্ব ইতিহাস, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা, শারীরিক ও স্নায়বিক লক্ষণ মূল্যায়ন, স্ট্রোক ইস্কেমিক নাকি হেমোরেজিক তা চিহ্নিত করার কাজ সবচেয়ে দ্রুত করতে হয়। ফলে কোন ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই চিকিৎসা শুরু করা যায়। এমআরআই-ছোট বা প্রাথমিক স্ট্রোক শনাক্তে বেশি কার্যকর। সিটি স্ক্যানও করা হয়। রক্ত পরীক্ষা: শর্করা, কোলেস্টেরল, ক্লটিং টাইম, ইনফেকশন ইত্যাদি। ইসিজি ও ইকো-হার্টে ক্লট বা রিদমের সমস্যা আছে কিনা তা জানার জন্য। প্রয়োজনে ক্যারোটিড ডপলার-মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীর ব্লক বা সংকোচন পরীক্ষা।
>> জটিলতা: তাৎক্ষণিক: * মস্তিষ্কে এডিমা * হেমোরেজিক রূপান্তর * স্ট্রোক-অ্যাসোসিয়েটেড নিউমোনিয়া * ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস, সংক্রমণ, ডিলিরিয়াম।

> দীর্ঘমেয়াদী: * পোস্ট-স্ট্রোক ডিপ্রেশন (≈২৫%)
* স্মৃতিভ্রংশ/ডিমেনশিয়া * পোস্ট-স্ট্রোক এপিলেপসি * স্পাস্টিসিটি, চলাফেরা ও কথা বলার অসুবিধা * বেডসোর, মূত্র-মল নিয়ন্ত্রণহীনতা।
> প্রতিরোধে করণীয় :
* উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ (১২০/৮০ এর কাছে রাখা) * ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ * ধূমপান ও তামাক পরিহার * সুষম খাদ্য ও লবণ কম খাওয়া (≤৫ গ্রাম/দিন) * শারীরিক ব্যায়াম (সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট) * এয়ার পলিউশন কমানো, পরিচ্ছন্ন রান্নার চুলা ব্যবহার * অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন রোগীদের অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট ব্যবহার * নারী-শিশুর বিশেষ যতœ: গর্ভাবস্থা-পরবর্তী যতœ, শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ স্ক্রিনিং।
পরিবার ও সমাজের প্রতিটি মানুষকে স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে, সচেতনতা ও প্রতিরোধই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com