সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ঘুমের হেরফেরে বাড়ে ডায়াবেটিস

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ঘুমপাড়ানি মাসি-পিসিরা একটু সাবধান! এবার থেকে কিন্তু ঘুমের ঝুঁপি খুলতে হবে সন্তর্পণে। কারণ এগলেও বিপদ, পিছলেও। এ এক নিদারুণ উভয়সংকট । কিন্তু কেন? উত্তরটা রয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, মাঝবয়সি ও বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে ঘুমের হেরফেরে বাড়ে ডায়াবেটিসের আশঙ্কা। আর কম ঘুমালে কিডনির সমস্যা। মানে ঘুম বেশি হলেও বিপদ। আবার কম হলেও বিপদ। অগত্যা এবার থেকে নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমের অভ্যাসটা শিকেয় তুলে রাখাই ভালো। পাশাপাশি বেশি রাত পর্যন্ত এটা ওটা নিয়ে সময় কাটানোর নির্ঘন্টা যাঁদের, অভ্যাসটা বদলে ফেলার সময় এসেছে তাঁদেরও। কাজেই ঘড়িতেই অ্যালার্ম সেটা করুন এক্কেবারে কাঁটা মেপে। এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু বিপত্তির একশেষ!কিন্তু প্রশ্ন হল, ঘুমাবেন কতক্ষণ? গবেষকেরা বলেছেন, দিনে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায় এর এদিক-ওদিক হলেই। যাঁদের ক্রনিক শর্ট স্লিপ রয়েছে (ছ’ঘন্টা বা তার থেকেও কম ঘুম), তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। আবার স্বাভাবিকের থেকে দু’ঘন্টা বা তারও বেশি ঘুমাচ্ছেন যাঁরা, বিপদঘন্টি ঝুলছে তাঁদের শিয়রেও। গবেষকেরা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা স্বাভাবিকের থেকে বেশি ঘুমিয়ে চলেছেন, তাঁদের টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ভাবুন একবার“ সারাদিনের খাটাখাটনির পর একটু শান্তির ঘুম কেনা-চায়! তখন তো গোটা রাজ্যের ঘুম চোখে এসে ভর করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটুকুরও আর জো রইল না! হিসাব কষে, ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে না-চাইলেই যে বিপদ! অন্তত গবেষকেরা সেকথাই বলেছেন। তাঁরা বলেছেন, দিনে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুম হয় যাঁদের, ডায়াবেটিসের আশঙ্কা সবচেয়ে কম তাঁদের ক্ষেত্রে।গবেষকরা এক সমীক্ষা করেছিলেন ৫৯ হাজার মহিলাকে নিয়ে। তাঁদের প্রত্যেকের বয়স ৫৫ থেকে ৮৩ বছরের মধ্যে। মার্কিন মুলুকে তাঁরা নার্সিং পেশার সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ, সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকেই পেশাদার বা অবসরপ্রাপ্ত নার্স। এদের সর্ম্পকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে দীর্ঘ মেয়াদি ভিত্তিতে। অর্থাৎ বহু বছর ধরে। খাওয়া-দাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও অন্যান্য ফ্যাক্টরগুলো আপডেট করা হয়েছে দুই থেকে চার বছর অন্তর। সেই তথ্যগুলো নিয়ে কম্পিউটার মডেলিংকে ব্যবহার করা হয়েছে ঘুমের কারণে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি নির্ণয়ের কাজে। সমীক্ষার নেতৃত্বে ছিলেন হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর চিকিৎসক এলিজাবেথ সেসপেডেস। তিনি বলেছেন, ঘুম মাত্রাতিরিক্ত কমে গেলে বা স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে গেলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এখানেই শেষ নয়।ঘুমের পরিমাণ কমে গেলে আবার অন্য ধরনের বিপদও অপেক্ষা করতে পারে আপনার জন্য। অন্য একটি গবেষণায় আবার দেখা গিয়েছে, এর ফলে কিডনির গোলযোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আমাদের শারীরিক প্রক্রিয়ার অনেক কিছুই একটি স্বাভাবিক দৈনিক ছন্দ মেনে চলে। তথাকথিতভাবে যাকে বলে ‘সার্কেডিয়ান ক্লক’। দৈনিক নিদ্রা-জাগরণের চক্র মোতাবেক চলে এটি। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই স্বাভাবিক চক্রটি ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়ে কিডনির কাজকর্মের উপর। এই গবেষণায় ছিলেন চিকিৎসক সিয়ারান জোসেফ ম্যাকমুলান। সমীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৪ হাজার ২৩৮ জন সদস্য। ১১ বছরের মেয়াদে অন্তত দু’দফায় কিডনির কাজকর্ম পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে তাঁদের। গবেষকরা লক্ষ করেছেন, যাঁদের ঘুম কম হয়, কিডনির গোলযোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাঁদের। উদাহরণ হিসাবে বলা হয়েছে, যেসব মহিলা প্রতি রাতে পাঁচ ঘন্টা ঘুমান দের ক্ষেত্রে কিডনির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com