এতে মোট চারটি গান থাকছে। গানগুলোর চিত্রায়ণ করা হয়েছে কুয়াকাটায়। অনেকে বলেন, এটা মিনি সুইজারল্যান্ড, এমনই সুন্দর জায়গায় ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। দেখুন, নানা কারণে তো এখন এসব অনুষ্ঠান কমে এসেছে, পৃষ্ঠপোষকতার সংকটও আছে।তবু চ্যানেল আই ভীষণ আন্তরিকতার সঙ্গে এ অনুষ্ঠান বানিয়েছে। আমরা সমুদ্রতটে, বেলাভূমিতে গান করেছি, এই জোয়ার, আবার এই ভাটা; কী যে অপূর্ব জায়গা। সেখানে আবার সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ বনও আছে। গানগুলোর মাধ্যমে সে জায়গার সৌন্দর্যের কথাও মানুষ জানবে, প্রচার-প্রসার হবে।
এগুলো বেশ আগের গান। প্রমিত সুর ও বাণীতে নজরুলের গান; এ ভাবনায় আমি একটি প্রজেক্ট শুরু করেছিলাম, সেই সিডির আমলে। নাম দিয়েছিলাম ‘একক কণ্ঠে হাজার গান’। এগুলো সেই প্রজেক্টেরই গান।সংগীত পরিচালনা করেছিলেন সুজেয় শ্যাম। এখন নতুন করে ভিডিও আকারে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এ অনুষ্ঠান ছাড়া নজরুলের প্রয়াণ দিবসটি আপনার কিভাবে কাটবে?
সামনে আর কী কী অনুষ্ঠান আছে?
বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে গাইবার কথা রয়েছে। ২৮ আগস্ট গাইব অফিসার্স ক্লাবে। পরের দিন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা মিলনায়তনে একটি প্রোগ্রাম আছে। ৩০ আগস্ট নজরুল পরিষদের উদ্যোগে ধানমণ্ডি ক্লাবে অনুষ্ঠান হবে। এতে নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা গান করবে। ১ সেপ্টেম্বর ফেনীতে একটি অনুষ্ঠান করার কথা চলছে; অনেকটা দূরে তো, তাই এখনো চূড়ান্ত করিনি। দেখা যাক।জন্মদিন কিংবা প্রয়াণ দিবস এলেই কবিকে নিয়ে এমন আয়োজনের পসরা দেখা যায়। অন্য সময়ে কেন নয়?
নজরুল এমন এক কবি, যিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য লিখে গেছেন—এমন বৈচিত্র্যময় লেখনী আর কোনো কবির নেই। তাঁকে নিয়ে তো সারা বছর অনুষ্ঠান হতে পারে। সে রকম ভাণ্ডার তিনি রেখে গেছেন। আসলে আমরাই দুর্ভাগা, প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক নানা সংকট আমাদের লেগেই থাকে। যার কারণে অনেক কিছুই সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবু এখনো যা হচ্ছে, সেগুলোর জন্যও আয়োজকদের প্রতি ধন্যবাদ জানাতে চাই।
কিছুদিন আগে মানিক মিয়া এভিনিউতে ‘নজরুল কনসার্ট’ হয়েছিল। সেখানে শুধু কয়েকটি ব্যান্ড অংশ নিয়েছিল। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিল, আপনাদের মতো গুণী শিল্পীদের কেন রাখা হয়নি। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?
ওই কনসার্ট নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে হয়েছিল। দেখুন, সংগীত হলো বহতা নদীর মতো। এটাকে বাধা দিয়ে আটকে রাখা যাবে না। আটকানোর প্রয়োজনও নেই। নজরুলের গানের ধারা ও ধরনের অভাব নেই। সবগুলো ধারাকেই চলতে দিতে হবে। কবির এমন কিছু গান রয়েছে, যেগুলো ব্যান্ডের পরিবেশনায় ভালো শোনায়, তরুণরাও তা গ্রহণ করতে পারে। নজরুলের গান ও বাণী সবার মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়াই হলো বড় বিষয়। আর শুরুটা তো হোক, ভুলত্রুটি নিয়ে সমালোচনা হবেই। এটারও প্রয়োজন আছে। মানুষ চর্চা করবে এবং তার মধ্য দিয়ে নজরুলকে আরো বেশি করে জানবে। ওই অনুষ্ঠানের পরে কিন্তু নজরুল ইনস্টিটিউটে আরেকটি প্রোগ্রাম হয়েছিল, সেখানে ব্যান্ডের মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে আমরা নজরুলসংগীত শিল্পীরা গেয়েছি; একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা পেয়েছিল দর্শক। সে জন্য আমি বলি, সবার কণ্ঠে বাজুক নজরুল। আমার শুধু একটি চাওয়া আছে, দেশে তো বটেই, সারা বিশ্বে নজরুলের গানের প্রচার ও প্রসার। এ জায়গায় কমতি আছে, আরো শক্তিশালী উদ্যোগ দেখতে চাই।
আপনার জীবনে নজরুলের আগমন কিভাবে?
পরিবার থেকেই। আমার বোনেরা গান করতেন। গানটা রক্তেই পেয়েছি। সৃষ্টিকর্তা দিয়েছেন। ছোটবেলায় তো আমি নাচ করতাম। কিন্তু কিভাবে যেন গানের প্রেমে পড়ে গেলাম। বিশেষ করে রাগাশ্রয়ী গানের প্রতি ভালোবাসা কাজ করত। তখন তো বুঝতাম না, বড় হয়ে সেসব গানের অর্থ বুঝেছি।
কার কণ্ঠে নজরুলগীতি শুনতে ভালো লাগে?
আমার বড় তিন বোনই অসাধারণ গাইতেন। এক কথায় অতুলনীয় শিল্পী ছিলেন তাঁরা। এ কথা ফিরোজা বেগম থেকে শুরু করে নীলুফার ইয়াসমিন, সবাই বলতেন। তা ছাড়া অন্যদের কণ্ঠেও ভালো লাগে। কারণ প্রত্যেকের গায়কীর ধরই ভিন্ন। আমার বোন কিংবা সে সময়ের গুণীজন যাঁরা ছিলেন, সবার প্রতি আমার শ্রদ্ধা। তাঁদের গান আমাকে উৎসাহিত করেছে।