সিএসএফ নিম্নচাপের কারণ দুটি। মাথা বা মেরুদণ্ড থেকে ফ্লুইড লিক অথবা দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্লুইড উৎপাদন না হওয়া। বেশির ভাগ নিম্নচাপের রোগীর ক্ষেত্রে সমস্যাটি ফ্লুইড লিক থেকে হয়ে থাকে। ফ্লুইড লিক নিজে থেকেও হতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি এ সমস্যাটি হয় সিএসএফ পরীক্ষা করার জন্য লাম্বার পাংকচারের পর। কিছু রোগ শনাক্ত করার জন্য চিকিৎসকদের সিএসএফ পরীক্ষা করতে হয়, যার জন্য মেরুদণ্ডে ছোট ফুটো করে সিএসএফ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। পাংচারের পর মাথা ব্যাথা হলে ধরে নেওয়া হয় যে এটিই কারণ। কিন্তু যদি লাম্বার পাংচারের কোনো ইতিহাস না থাকে, তাহলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত। হয়তো অজান্তেই মেরুদণ্ড বা মাথায় কোনো ইনজুরি হয়েছে।
অতিরিক্ত চাপের বেশ কয়েকটি কারণ হতে পারে। এই সমস্যা বেশি হয় ইডিওপ্যাথিক ইন্টারক্রেনিয়াল হাইপারটেনশনের কারণে, অর্থাৎ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে না। এ ছাড়া মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হওয়া বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও হতে পারে।
উপসর্গ
নিম্নচাপজনিত হলে পুরো মাথায় ভোঁতা ব্যথা অনুভূত হয়। শুয়ে থাকলে কমে যায়, উঠে দাঁড়ালে তীব্র হয়ে ওঠে। রোগীর মনে হবে, মাথার ভেতরে কিছু একটা নিচে টেনে ধরেছে। সিএসএফের উচ্চচাপ থেকে হলে মনে হবে, মাথা অতিরিক্ত ভারী হয়ে আছে, চোখের পেছনে প্রচণ্ড চাপ অনুভব হয়।
দুটি ক্ষেত্রেই বাড়তি উপসর্গ হিসেবে থাকতে পারে—
► বমি বমি ভাব, বমি হওয়া।
► চোখে ঘোলা দেখা, দৃষ্টিশক্তি ব্যাহত হতে পারে।
► কানে তালা লেগে যাওয়া, হৃত্স্পন্দন অনুভূত হওয়া।
► মাথা ঘোরানো, ঘাড় ব্যথা এবং অমনোযোগিতা।
কখন বিপজ্জনক
দীর্ঘ সময় ধরে সিএসএফের চাপজনিত মাথা ব্যথা হওয়া জটিল কোনো সমস্যার লক্ষণ। নিম্নচাপজনিত ব্যথার অর্থ ফ্লুইড কোথাও অনবরত ঝরে যাচ্ছে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। উচ্চচাপ থেকে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। বেশির ভাগ সময় মস্তিষ্কের রক্ত ও ফ্লুইডের নালিগুলো ব্লকড হওয়ার উপসর্গ হিসেবে মাথা ব্যথা দেখা দেয়। দুটি ক্ষেত্রেই দ্রুত এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে জেনে নিতে হবে সমস্যাটি কোথায়। এ জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
চিকিৎসা
নিম্নচাপজনিত মাথা ব্যথা একা একাই ভালো হয়ে যায়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ডুরাল ব্লাড প্যাচ প্রয়োজন হতে পারে। লাম্বার পাংচার টেস্টের পর মাথা ব্যথা প্রতিরোধ করতে রোগীদের শুয়ে থাকতে বলা হয় এবং পরামর্শ দেওয়া হয় প্রচুর পানি পান করার। ক্যাফেইন এ ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। তরলের উচ্চচাপজনিত মাথা ব্যথার ক্ষেত্রে বিশ্রাম যথেষ্ট। তবে কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। এ সমস্যাটি দেহের অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই ফিটনেস ধরে রাখা জরুরি। যদি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ বদলাতে হতে পারে।