সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মাথা ব্যথা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
অবসাদ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা বা মাইগ্রেনের কারণে সৃষ্ট মাথা ব্যথার সঙ্গে কমবেশি সবাই পরিচিত। এর বাইরে আরেকটি কারণে সাধারণত মাথা ব্যথা হয়ে থাকে, সেটি হচ্ছে মস্তিষ্কের ফ্লুইডের চাপে তারতম্য। বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে এ ধরনের মাথা ব্যথা কিছু সময়ের পর নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে দেহের বড় সমস্যার উপসর্গ হতে পারে এটি।

দুটি অঙ্গই এই বিশেষ তরলের মধ্যে ডুবে থাকে। এর কাজ ঝাঁকুনি বা আঘাত শুষে নেওয়া। রক্তের মতো এ তরলটিও প্রতিনিয়ত দেহে তৈরি হয়, যা পুরনো তরলকে প্রতিস্থাপন করে। প্রতিটি তরলের নিজস্ব চাপ আছে, রক্তচাপের মতো সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডেরও চাপ ওঠানামা করে।
চাপে অল্পবিস্তর হেরফের হলে সেটি তেমন প্রভাব ফেলে না। যদি এর চাপে বড় পরিবর্তন হয়, তখন দেখা দেয় মাথা ব্যথা। কিছু ক্ষেত্রে সেটি তীব্র মাথা ব্যথায় পরিণত হতে পারে। অনেক রোগী একে মাইগ্রেন ভেবে থাকেন। ফলে সঠিক চিকিৎসা হয় না।
বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে নিম্নচাপের তুলনায় অতিরিক্ত চাপ বেশি দেখা যায়।কারণ

সিএসএফ নিম্নচাপের কারণ দুটি। মাথা বা মেরুদণ্ড থেকে ফ্লুইড লিক অথবা দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্লুইড উৎপাদন না হওয়া। বেশির ভাগ নিম্নচাপের রোগীর ক্ষেত্রে সমস্যাটি ফ্লুইড লিক থেকে হয়ে থাকে। ফ্লুইড লিক নিজে থেকেও হতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি এ সমস্যাটি হয় সিএসএফ পরীক্ষা করার জন্য লাম্বার পাংকচারের পর। কিছু রোগ শনাক্ত করার জন্য চিকিৎসকদের সিএসএফ পরীক্ষা করতে হয়, যার জন্য মেরুদণ্ডে ছোট ফুটো করে সিএসএফ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। পাংচারের পর মাথা ব্যাথা হলে ধরে নেওয়া হয় যে এটিই কারণ। কিন্তু যদি লাম্বার পাংচারের কোনো ইতিহাস না থাকে, তাহলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত। হয়তো অজান্তেই মেরুদণ্ড বা মাথায় কোনো ইনজুরি হয়েছে।

অতিরিক্ত চাপের বেশ কয়েকটি কারণ হতে পারে। এই সমস্যা বেশি হয় ইডিওপ্যাথিক ইন্টারক্রেনিয়াল হাইপারটেনশনের কারণে, অর্থাৎ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে না। এ ছাড়া মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হওয়া বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও হতে পারে।

উপসর্গ

নিম্নচাপজনিত হলে পুরো মাথায় ভোঁতা ব্যথা অনুভূত হয়। শুয়ে থাকলে কমে যায়, উঠে দাঁড়ালে তীব্র হয়ে ওঠে। রোগীর মনে হবে, মাথার ভেতরে কিছু একটা নিচে টেনে ধরেছে। সিএসএফের উচ্চচাপ থেকে হলে মনে হবে, মাথা অতিরিক্ত ভারী হয়ে আছে, চোখের পেছনে প্রচণ্ড চাপ অনুভব হয়।

দুটি ক্ষেত্রেই বাড়তি উপসর্গ হিসেবে থাকতে পারে—

► বমি বমি ভাব, বমি হওয়া।

► চোখে ঘোলা দেখা, দৃষ্টিশক্তি ব্যাহত হতে পারে।

► কানে তালা লেগে যাওয়া, হৃত্স্পন্দন অনুভূত হওয়া।

► মাথা ঘোরানো, ঘাড় ব্যথা এবং অমনোযোগিতা।

 

কখন বিপজ্জনক

দীর্ঘ সময় ধরে সিএসএফের চাপজনিত মাথা ব্যথা হওয়া জটিল কোনো সমস্যার লক্ষণ। নিম্নচাপজনিত ব্যথার অর্থ ফ্লুইড কোথাও অনবরত ঝরে যাচ্ছে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। উচ্চচাপ থেকে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। বেশির ভাগ সময় মস্তিষ্কের রক্ত ও ফ্লুইডের নালিগুলো ব্লকড হওয়ার উপসর্গ হিসেবে মাথা ব্যথা দেখা দেয়। দুটি ক্ষেত্রেই দ্রুত এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে জেনে নিতে হবে সমস্যাটি কোথায়। এ জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

চিকিৎসা

নিম্নচাপজনিত মাথা ব্যথা একা একাই ভালো হয়ে যায়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ডুরাল ব্লাড প্যাচ প্রয়োজন হতে পারে। লাম্বার পাংচার টেস্টের পর মাথা ব্যথা প্রতিরোধ করতে রোগীদের শুয়ে থাকতে বলা হয় এবং পরামর্শ দেওয়া হয় প্রচুর পানি পান করার। ক্যাফেইন এ ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। তরলের উচ্চচাপজনিত মাথা ব্যথার ক্ষেত্রে বিশ্রাম যথেষ্ট। তবে কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। এ সমস্যাটি দেহের অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই ফিটনেস ধরে রাখা জরুরি। যদি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ বদলাতে হতে পারে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com