হলুদ প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োাটিক। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ তুলনামূলক বেশি।
ত্বকের যত্নে
ত্বকের ফাঙ্গাল ইনফেকশন, ফুসকুড়ি, র্যাশ বা দাগ ও ব্রণ নিরাময়ে কার্যকর এই হলুদ। ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়া, ফোড়া বা ক্ষত সারাতে পাহাড়ি হলুদ গুঁড়া করে মধু বা দুধ মিশিয়ে লাগালে উপকার হয়। এটি ক্ষতস্থানে অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে।
শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় সর্দি, কাশি ও গলার ব্যথা সারাতে পাহাড়ি হলুদ ও মধুর মিশ্রণ খুবই কার্যকর। তবে অতিরিক্ত সেবনে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। পাহাড়ি হলুদের প্রধান গুণ এর শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য, যা একজিমা, সোরিয়াসিস ও ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
রূপচর্চায়
রূপচর্চার জন্য জনপ্রিয় পাহাড়ি হলুদ। সাধারণ হলুদের মতো এটি ত্বকে হলুদ ছোপ ফেলে না। ফেসপ্যাক, বডি প্যাক তৈরিতে ব্যবহূত হয় এটি। পাহাড়ি হলুদ গুঁড়া করে মধু বা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানানো যায়। হলুদে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের কোষকে ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। অকালবার্ধক্য কমাতেও সাহায্য করে। তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে হলুদের প্যাক। স্কিন অ্যান্ড হেয়ার ক্লিনিকের রূপ বিশেষজ্ঞ কানিজ নিশি বলেন, ‘পাহাড়ি হলুদ প্রায়শই রাসায়নিক সার ও কিটনাশক ব্যবহার ছাড়াই অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ করা হয়ে থাকে। এ জন্য এই হলুদে রূপচর্চায় ভালো ফল পাওয়া যায়। রোদে পোড়া ত্বকে উপকার দেয় পাহাড়ি হলুদ। শুষ্ক ত্বকের জন্য হলুদের রস দুই মিনিট ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর বেসন ও ডিমের কুসুম মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে ফুটিয়ে নেওয়া রসে মুলতানি মাটি মিশিয়ে নিন। এরপর এক চামচ পুদিনাপাতা ও এক চামচ তুলসীপাতার রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।’
কৃষি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
অনেক উদ্যোক্তা পাহাড়ি হলুদ প্রক্রিয়াজাত করে গুঁড়া, সাবান, ফেসপ্যাক ও হারবাল ক্যাপসুল আকারে বাজারজাত করছেন। এটি স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষক ও নারীদের বিকল্প জীবিকার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অর্গানিক চাষের কারণে আন্তর্জাতিক চাহিদাও বাড়ছে।
রান্না ও খাদ্যে ব্যবহার
মাংস, সবজি ও ভর্তায় আলাদা স্বাদ ও রং যোগ করে পাহাড়ি হলুদ। তরকারি, ডাল, স্যুপ, স্ট্যু, আচার, চাটনি, পোলাও, বিরিয়ানি, ভাজাভুজি ও স্ন্যাকস আইটেমে পাহাড়ি হলুদ ব্যবহার করা হয়। পাহাড়ি হলুদ আমাদের দেশের ভেষজ সম্পদ। এটি শুধু রোগ প্রতিরোধই নয়, সৌন্দর্যচর্চা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।