সময় দিন
সঙ্গ পছন্দ করে বিড়াল।আপনার পোষা বিড়ালটিকে সময় দিন, ওর সঙ্গে খেলুন। খেলনা কিনে দিন। প্রতিদিন ছাদে বা বাইরে নিয়ে যাওয়া ভালো। এতে ওর মন ভালো থাকে।
নিরাপত্তা
বাসা ক্যাটপ্রুফ অর্থাত্ বিড়ালের উপযোগী করে নেওয়া আবশ্যক। যাতে বিড়াল বাইরে যেতে বা পড়ে যেতে না পারে। এমনকি বাথরুমের জানালাতেও ছোট ফাঁসের নেট লাগিয়ে দিন। রাসায়নিকের সংস্পর্শ, আগুন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। একদম ছোট বিড়ালের বাচ্চাদের মা বিড়াল থেকে আলাদা করবেন না। মা ও ভাই-বোনদের শরীরের ওমেই এরা বেঁচে থাকার মতো দরকারি তাপ পায়।
টিকা
বিড়ালের দুই মাস বয়সে কম্বাইন্ড টিকা দিন। এর ২১/২৮তম দিনে দিতে হয় বুস্টার ডোজ। অন্য প্রাণীর কামড় বা আঁচড় থেকে নিরাপদ রাখতে তিন মাস বয়সে জলাতঙ্কের টিকা দিন। টিকা দেওয়া বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ে মানুষের জলাতঙ্কের ঝুঁকি নেই। বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জনকে দিয়ে পুরুষ বিড়ালকে নিউটার এবং স্ত্রী বিড়ালকে স্প্রে করে দিন। এতে বিড়াল আর বাচ্চা জন্ম দিতে পারবে না। ঘরছাড়া বা আগ্রাসী আচরণ কম হবে। থাকবে সুস্থও।
বাইরে নিয়ে গেলে
বাইরে গেলে লিশের (বিড়ালের গলার বেল্ট) লম্বা প্রান্ত হাতে ধরে রাখুন। নয়তো পাখি ধরতে গিয়ে লাফ দিয়ে পড়ে যেতে পারে। গলায় কলার পরালে সতর্ক থাকুন। কলার কোনো কিছুর সঙ্গে আটকে বিপদ ঘটতে পারে।
খাবার ও পানি
পরিষ্কার পানি খেতে দিন। আলাদা পাত্রে পানি ও খাবার নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন। নিয়মিত পানি বদলে দিন। ঘরে তৈরি করা খাবার বিড়ালের জন্য সবচেয়ে ভালো। চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস সিদ্ধ, সিদ্ধ কলিজা, সিদ্ধ মাছ, ডিম, কুমড়া, লাউ, শসা, মটর, গাজর, শিমের বিচি, ব্রকোলি, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, গম সিদ্ধ করে দিতে পারেন। বাজারে ক্যাটফুড পাওয়া যায়। এগুলোও খেতে দিতে পারেন। বারান্দায় ঘাস রাখতে পারেন। প্রয়োজন হলে ওরা ঘাস খেয়ে নেয়, বিষাক্ত পদার্থ ঘাসের সঙ্গে বমি করে উগরিয়েও দেয়। তরল খাবার বা ওষুধ মুখের এক পাশ থেকে দিন। কাঁচা মাছ-মাংস, আঙুর, চকোলেট, চা, কফি, চিনি, অ্যালকোহল দেবেন না। ছোট্ট বিড়াল মায়ের দুধ না পেলে তরল দুধের সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে খেতে দিন।
পরিচ্ছন্নতা
বিড়ালের প্রস্রাব-পায়খানার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানে লিটার বক্সের ব্যবস্থা করে দিন। এখানে তাকে প্রস্রাব-পায়খানায় অভ্যস্ত করান। দু-এক সপ্তাহ পর পর লিটার বক্সের লিটার বদলে দিন। গোসল করাতে আলাদা সাবান-শ্যাম্পুর ব্যবস্থা করুন। কখনোই খুব গভীর করে নখ কাটা ঠিক নয়। ঘুমের সময় ছাড়া বিড়ালকে একলা ঘরে রাখলে আলোর ব্যবস্থা রাখুন। কিছুদিনের জন্য কোথাও যেতে হলে পরিচিত ও নিরাপদ কোনো আশ্রয়ে ওকে রেখে যান।