সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণদের হৃদরোগ নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা চালিয়েছে বিভিন্ন গবেষকদল। সর্বশেষ গবেষণাটির ফল প্রকাশিত হয়েছে জুলাইয়ের মধ্যভাগে। প্রতিটি গবেষণার ফল প্রায় অভিন্ন—হৃদরোগ ও হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা হারিয়ে মৃত্যুর হার তরুণদের মধ্যে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে।

তরুণদের মধ্যে এটি হওয়ার মূল কারণ হতে পারে অ্যারিদমিয়া, করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা বিভিন্ন প্রকারের কার্ডিওমাইয়োপ্যাথি। অল্পবয়সীদের মধ্যে হৃদরোগের চেকআপ করানোর অনীহা থাকায় সমস্যাগুলো অজানা রয়ে যায়, ধীরে ধীরে প্রকোপ বাড়তে থাকে, যা একদিন প্রকাশ পায় সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট অর্থাৎ হৃৎপিণ্ড কাজ বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে। হাসপাতালের বাইরে হলে এ থেকে বেঁচে ফেরার হার ৬ থেকে ২২ শতাংশ অর্থাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি।যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৫ সালে চালানো এক গবেষণা এবং এর ২০২৪ সালের রিভিউতে দেখা গেছে, ১৭ থেকে ২৪ বছর বয়সী হৃদরোগীদের মধ্যে অ্যারিদমিয়ার মতো ইলেকট্রিক্যাল ইমপালসজনিত সমস্যার তুলনায় আর্টারি ডিজিজের হার বাড়ছে।
এ রোগটিতে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনের ধমনিগুলোতে কোলেস্টেরল জমে অথবা অন্যান্য কারণে ধমনিগুলো শক্ত হয়ে চিকন হয়ে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনের পরিমাণ কমে যায়। এ সমস্যাটি সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়। তরুণদের মধ্যে আগে খুব কম সময়েই শনাক্ত হতো এটা। এখন সেই দৃশ্যপট বদলে গেছে। প্রতিনিয়ত অপেক্ষাকৃত অল্পবয়সীদের মধ্যেই আর্টারির সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অবশ্য অ্যারিদমিয়ার প্রকোপ কমে গেছে এমন নয়। যেসব শারীরিকভাবে ফিট তরুণের মধ্যে হৃদরোগ দেখা যায়, তাদের ৪০ শতাংশের মধ্যেই এই সমস্যা থাকে। এটি মূলত জেনেটিক সমস্যা, তবে অন্যান্য কারণেও হতে পারে।কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে হৃদরোগ বেড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে লাইফস্টাইলগত সমস্যা। প্রত্যেকেই এখন প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে কাজ করছে, যা একেবারেই অনুচিত। এর পাশাপাশি আছে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা। এ ছাড়াও রয়েছে—♦ অতিরিক্ত সময় শুয়ে-বসে কাটানো, শারীরিক কসরতের অভাব।

♦ ঠিকমতো না ঘুমানো।

♦ অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়া।

♦ ধূমপান, অ্যালকোহল ও ড্রাগ গ্রহণ।

♦ উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ না নেওয়া।

♦ ভাইরাসজনিত রোগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব।

কিভাবে অল্পবয়সে হার্ট ফেইলর প্রতিরোধ করা যায়—এ প্রশ্নের জবাবে গবেষক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা একটিই কথা বলেছেন, সুস্থ থাকলেও নিয়মিত হৃদরোগ পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ইসিজি এবং ইইজির পাশাপাশি প্রয়োজনে ইকোকার্ডিওগ্রাম ও রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। অন্তত রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত সবার। এর পাশাপাশি যতটা সম্ভব মানসিক চাপ পরিহার করে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলে রুটিনমাফিক ঘুমাতেও হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com