নীচের ছবিগুলো SM Sultan-এর কিছু পরিচিত শিল্পকর্ম—আমার প্রথম ‘Farmer’ সিরিজের একটি দৃশ্য, একটি জমিষঢ় দৃশ্য, রঙিন গ্রামজীবনের অনুভূতি এবং একটি উচ্চকূল শিল্পকর্মের আভাস—যা তাঁর শক্তিশালী স্টাইল, গ্রামীণ জীবনের প্রতি ভালোবাসা এবং শিল্পে শরীরের ভর ও ভঙ্গির গভীর প্রকাশ ঘটায়।
শৈখ মুহাম্মদ সুলতান (১০ আগস্ট ১৯২৩ – ১০ অক্টোবর ১৯৯৪), যার নাম SM Sultan, বাংলা অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট “ডিকোলোনিয়াল” শিল্পী, যিনি তাঁর চিত্রকর্ম ও আঁকার মাধ্যমে গ্রামীণ মেহনতি মানুষের অবচেতন শক্তি ও জাগতিক অস্তিত্ব উজ্জ্বলভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
Sultan-এর জন্ম হয়েছিল মাশিমদিয়া (বর্তমান নড়াইল) গ্রামে, ষে বছর বয়সে স্কুল ছাড়িয়ে পিতার সাথে কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি নির্মাণপ্রাঙ্গনে কাজ করা পিতার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে চারcoal ও ড্রয়িংয়ে প্রবৃত্ত হন।
১৯৩৮ সালে স্থানীয় জমিদারের অর্থায়নে কলকাতার Government School of Art-এ প্রবেশ করেন, তাতে দারুণ প্রভাবশালী শেখিদ সোহরাওয়ার্দীর সাহায্য ছিল। তবে তিন বছরের পড়ালেখার পর তিনি হঠাৎই স্কুল ছাড়েন—কারণ তাঁর স্বাধীনচেতা মন ও বিকৃষ্ট প্রকৃতিকে আনুগত্যে আবদ্ধ রাখা কঠিন ছিল ।
কলকাতা ছাড়ার পর থেকে তিনি মিত্র সৈন্যদের ছবি আঁকের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন, এবং ১৯৪৬ সালে শিমলা-তে প্রথম একক প্রদর্শনী করেন(। ১৯৪৮–৪৯ সালে পাকিস্তানের লাহোর ও করাচিতে প্রদর্শনী করেন(।
পাকিস্তান সরকারের মাধ্যমে তাকে আমেরিকার আন্তর্জাতিক আর্ট প্রোগ্রামে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, বোস্টন, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ও মিচিগান–এ প্রদর্শনী করেন। পরে ইংল্যান্ডে লন্ডনের Hampstead-এ হয় প্রদর্শনী।
১৯৫৩ সালে নিজ দেশে ফিরে Narail-এ স্থায়ীভাবে থাকতেন—প্রকৃতি ও স্থানীয় মানুষদের মাঝে, প্রিয় পশুপাখি ও শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতেন(।
Sultan-এর অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল গ্রামীণ মেহনতি মানুষ—তাঁরা ছিলেন “অতিমাংসপেশীবিশিষ্ট” (hyper-muscular), যেগুলো তাঁর আঁকায় একধরনের শক্তি, জীবনী ও মহাকাব্যিকতা প্রকাশ করে। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শৈলী ছিল প্রাথমিকভাবে ইমপ্রেশনিস্ট—পরবর্তীতে তিনি দেশীয় রীতি ও “ডিকোলোনিয়াল” দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন(।
তার প্রতিনিধিত্বশীল শিল্পকর্মগুলো হলো:
তিনি ১৯৮২ সালে Ekushey Padak, ১৯৮৬ সালে Bangladesh Charu Shilpi Sangsad Award, এবং ১৯৯৩ সালে Independence Day Award লাভ করেন(। ১৯৮২ সালে University of Cambridge তাঁকে “Man of Asia” পুনরায় ঘোষণা করে(
Sultan-এর শিল্পকর্ম সংরক্ষিত আছে বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর, National Art Gallery, SM Sultan Memorial Museum ও Bengal Foundation-এ। প্রতিবার জন্মদিনে “Sultan Mela” ও সিলসিলা আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি তাঁর ১০১তম জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভা, প্রদর্শনী ও বই প্রকাশের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে ।
SM Sultan ছিলেন একাধারে শিল্পী, দর্শনে বিশ্বাসী, একজন সংস্কারক—যিনি নিজেকে আর্টইকরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন মানব এবং ভূগোল-উভয়ের মাধ্যমে। তাঁর শক্তিশালী রঙ, বিশালমানুষ-চিত্র এবং জীবনমুখী বিমর্শ আজও যুগান্তকারীভাবে বাংলাদেশের শিল্পচেতনাকে প্রভাবিত করে।