সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

রবীন্দ্রসংগীত তাসের ঘর

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

“তাসের ঘর” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত, যেখানে জীবনের অনিত্যতা, মানব গর্বের ভঙ্গুরতা ও আত্মজিজ্ঞাসার গভীর দার্শনিক ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। এই গানে কবি জীবনের অসারতা ও অহংকারের অস্থায়ীত্বকে “তাসের ঘর” এরূপ এক দুর্বল কাঠামোর সাথে তুলনা করেছেন।

গান: তাসের ঘর

রচয়িতা ও সুরকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তাসের ঘর করে যে রসিক,
তাস খসে পড়ে হেসে সে দেখে।

ভেঙে পড়ে তার গর্বের তাজমহল,
রিক্ত সে ফিরে চলে নিরাভরণ পায়ে।

গানের বিভিন্ন সংস্করণে পংক্তির হালকা ভিন্নতা থাকতে পারে

গানের ব্যাখ্যা ও দার্শনিক অর্থ

তাসের ঘর – ভঙ্গুর জীবনের প্রতীক

তাস দিয়ে বানানো ঘর খুব সুন্দর মনে হলেও এটি আসলে খুবই ভঙ্গুর। একটু বাতাসেই তা ভেঙে পড়ে। কবি মানুষের গড়া অহংকার, ক্ষমতা, সম্পদ, সাফল্য – সবকিছুকেই এই তাসের ঘরের মতো বলছেন।

মানব গর্ব ও তার পতন

মানুষ নিজের গড়া সাফল্যে অহংকার করে, কিন্তু তা অনর্থক। জীবনের এক ছোট ধাক্কাতেই তা ভেঙে যেতে পারে – মৃত্যু, ব্যর্থতা বা প্রিয়জন হারানোর মতো ঘটনাগুলোই তা স্মরণ করিয়ে দেয়।

নিরাভরণে ফিরে যাওয়া

যখন তাসের ঘর ভেঙে পড়ে, তখন মানুষ ফিরে যায় শূন্য হাতে — যেমন এসেছিল তেমন করেই চলে যেতে হয়।

এই ভাবনাটি ভারতীয় দর্শনের “সব মায়া”, “অহংকার ক্ষণস্থায়ী” ইত্যাদি মূল ভাবের সঙ্গে মেলে।

সুর ও সংগীতশৈলী

এই গানটি সাধারণত ধীর লয়, গভীর অনুভব ও আধ্যাত্মিক সুরে গাওয়া হয়। এটি শ্রোতাকে অন্তর্মুখী করে তোলে, ভাবায়, থামিয়ে দেয়।

গানটি বিভিন্ন শিল্পী যেমন: সৈয়দ আব্দুল হাদী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, দেবজ্যোতি মিশ্র, প্রমুখরা পরিবেশন করেছেন।

রবীন্দ্রদর্শনের ছায়া

এই গান রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুচিন্তা, অনিত্যজ্ঞান এবং আত্মজিজ্ঞাসার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। তিনি নিজেই জীবনের অন্তিমে এসে বহুবার বলেছেন:

“শেষদিনের আলোরে আমি দেখেছি মৃত্যু কত সুন্দর।”

তাসের ঘর গানের মাধ্যমে তিনি সেই সুন্দরতাকে উপলব্ধি করতে চেয়েছেন — জীবনের ক্ষণস্থায়ী রূপকে স্বীকার করে তাকে অতীত করে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

উপসংহার

“তাসের ঘর” গানটি রবীন্দ্রসংগীতের গভীরতম দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক চেতনার অন্যতম প্রতিফলন। এটি আমাদের শেখায়—জীবনের গর্ব, সাফল্য সব ক্ষণস্থায়ী। আসল মূল্য আত্মজ্ঞান ও সত্য উপলব্ধি।

আপনি চাইলে গানটির পুরো লিরিক, সুরের বিশ্লেষণ বা চিত্র-ভিত্তিক ব্যাখ্যা চাইতে পারেন — আমি সাহায্য করতে প্রস্তুত। বলুন, কোন দিকটি বেশি জানতে চান?

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com