পোড়ার চিকিৎসা বা “বার্ন ট্রিটমেন্ট” নির্ভর করে পোড়ার ধরন ও তীব্রতার ওপর। পোড়াকে সাধারণত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়:
চিহ্ন: ত্বক লাল, ব্যথা হয়, কোনো ফোসকা হয় না।
চিকিৎসা:
ঠাণ্ডা পানিতে পোড়া জায়গা ধুয়ে দিন (কমপক্ষে ১০–১৫ মিনিট)।
অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রিম বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন নেওয়া যায়।
স্থানটি পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
চিহ্ন: ফোসকা পড়ে, ব্যথা বেশি হয়, ত্বকে ফুলে যাওয়া দেখা যায়।
চিকিৎসা:
পোড়া জায়গা ঠাণ্ডা পানিতে রাখুন।
ফোসকা ফাটাবেন না।
জীবাণুনাশক অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম দিন (যেমন সিলভার সালফাডায়াজিন)।
ব্যান্ডেজ দিন কিন্তু আলগা ভাবে।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, বিশেষত যদি বড় অংশে পোড়া হয়।
চিহ্ন: চামড়া পুড়ে যায়, রঙ কালো বা সাদা হয়ে যায়, ব্যথা কম হতে পারে কারণ স্নায়ু পুড়ে যায়।
চিকিৎসা:
এটি মারাত্মক এবং হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
ইনট্রাভেনাস (IV) ফ্লুইড দেওয়া লাগে শরীরের পানিশূন্যতা পূরণে।
অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক, এবং টিটানাস প্রতিরোধের টিকা প্রয়োজন হতে পারে।
অনেক সময় চামড়া প্রতিস্থাপন (Skin graft) লাগে।
দীর্ঘমেয়াদে ফিজিওথেরাপি ও মনোসামাজিক সহায়তাও দরকার হতে পারে।
পোড়া যদি মুখ, হাত, পা, যৌনাঙ্গ বা বড় অংশে হয় — চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি।
কোনো ধরনের পোড়া হলে “পুড়ার পর বরফ দেবেন না” — এতে ক্ষতি হতে পারে।