থাইরয়েড ক্যান্সারের সঠিক কারণ প্রায় রোগীর ক্ষেত্রেই অজানা রয়ে যায়। তবে বিভিন্ন গবেষণায় কিছু ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে, যেমন
রেডিয়েশন থেরাপি : মাথা বা ঘাড়ে যদি শৈশবে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে থাইরয়েড ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
পারিবারিক ইতিহাস : যদি পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের থাইরয়েড ক্যান্সার থাকে, সে ক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছুটা বাড়তি ধরে নেওয়া হয়।
নির্দিষ্ট জেনেটিক সিনড্রোম : কিছু বিরল জেনেটিক সিনড্রোম, যেমন—একাধিক এন্ডোক্রাইন নিওপ্লাসিয়া টাইপ ২ জিন থাকলে থাইরয়েড ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আয়োডিনের অভাব : থাইরয়েড ক্যান্সারের একটি পরোক্ষ কারণ হতে পারে আয়োডিনের অভাব।
লক্ষণ ও উপসর্গ
সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের কোনো লক্ষণ থাকে না।থাইরয়েড ক্যান্সার নির্ণয়ে সবচেয়ে বড় বাধা এটিই। প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে :
ঘাড়ে একটি পিণ্ড বা ফোলাভাব। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যথাহীন
খাবার গিলতে অসুবিধা
স্বর পরিবর্তন, কণ্ঠ কর্কশ হয়ে যেতে পারে
শ্বাস নিতে অসুবিধা
দীর্ঘ সময় ধরে কাশি, যা সর্দি বা ফ্লুর মতো রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। কেননা একই লক্ষণ সাধারণ অন্যান্য সব রোগের কারণেও হতে পারে।যদি একাধিক লক্ষণ দেখা দেয় তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
লক্ষণ দেখা দিলে একজন নাক, কান, গলার ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। তিনি শারীরিক পরীক্ষা, আলট্রাসাউন্ড, বায়োপসি, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েড ক্যান্সার হয়েছে কি না সেটি নির্ণয় করবেন। থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসায় সাধারণত অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকে। থাইরয়েডের ক্যান্সারযুক্ত অংশবিশেষ বা পুরোটাই অপসারণ করার প্রয়োজন হতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রেডিও-অ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি এবং কেমোথেরাপির মাধ্যমেও চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন করা হয় রোগীর বয়স, ক্যান্সারের ধরন এবং রোগের বিস্তারের ওপর ভিত্তি করে।
প্রতিরোধ ও সচেতনতা
থাইরয়েড ক্যান্সার সরাসরি প্রতিরোধের কোনো নির্দিষ্ট উপায় নেই। স্বাস্থ্য সচেতনতায় কিছু পদক্ষেপ নিলে রোগটির ঝুঁকি কিছুটা কমে। এর মধ্যে আছে—
আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার : পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়োডিন গ্রহণ থাইরয়েড কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
অযাচিত এক্স-রে বা রেডিয়েশন এড়িয়ে চলা : এটি বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অপরিণত বয়সে অবশ্যই অতীব প্রয়োজন ছাড়া এক্স-রে বা রেডিয়েশন এড়িয়ে চলা উচিত।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা : যাদের এ ক্যান্সার দেখা দেওয়ার বাড়তি ঝুঁকি আছে তাদের অবশ্যই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। সব ধরনের ক্যান্সার দ্রুত নির্ণয়ের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।
লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা : থাইরয়েড ক্যান্সারের লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং যেকোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।
মনে রাখতে হবে, থাইরয়েড ক্যান্সারের সফল চিকিৎসার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।








