পিত্তথলি পিত্তরসের (হজমে সহায়ক রস) সঞ্চয় রাখে। এটি পেটের ডানে উপরের দিকে, লিভারের নীচে থাকে। যখন চর্বিযুক্ত খাদ্যগ্রহণ করা হয় তখন পিত্তথলি হজমে সাহায্যের জন্য পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরস অন্ত্রে ঠেলে দেয়।
পিত্তরসের যেকোন পরিবর্তনের জন্য পিত্তথলিতে ছোট ছোট নুড়ির মতো পাথর জমে থাকে, যাকে আমরা পিত্তথলি পাথর বা পিত্তপাথর বলি।
পিত্তথলির পাথর কখনো গল্ফবলের মতো আবার কখনো ছোট নুড়ির মতো হতে পারা এটি বড় পাথর বা অনেকগুলো ছোট পাথরের সংমিশ্রণে থাকে।
ত্রিশোর্ধ্ব এর উপর বয়সী ব্যক্তিদের প্রতি ১০০ জনে ১৫ জনের মধ্যে পিত্তথলিতে পাথর থাকে।
প্রকার
পিত্তথলির পাথর দুই প্রকার-
পিগমেন্ট পিত্তপাথর-পিত্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেশী থাকলে এগুলো তৈরী হয়। এগুলো গাঢ় বাদামী বা কালো রঙের
কোলেস্টেরল পিত্তপাথর-দ্রবীভূত কোলেস্টেরল নিয়ে ও আরো অনেক উপাদান নিয়ে এগুলো তৈরী হয়। এগুলোর রং হলুদ বর্ণের হয়।
কারণ
জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, গর্ভাবস্থা
স্থলতা, ডায়াবেটিস
লিভারের রোগ বা দ্রুত ওজন হ্রাস
পিত্তথলিতে পাথরের পারিবারিক ইতিহাস
পিত্তরসে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকলে এটি জমে পাথর তৈরী করে
পিত্তরস সঠিকভাবে প্রবাহিত না হলে
পিত্তরসে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে
পিত্তরসের মধ্যে কোনো কারণে পিত্ত লবণের মাত্রা কমে গেলে
নারীদের দেহে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরণ হরমোনের আধিক্যতা
নিয়মিত ব্যয়াম না করা
ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রবণতা
রক্ত পরীক্ষা
এক্স-রে
ওরাল কোলেসিষ্টোগ্রাফি
পিটিসি, ইআরসিপি ইত্যাদি।
জটিলতা
পিত্তথলির পাথরে চিকিৎসা না করালে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে-
সংক্রমণ হতে পারে
পিত্তনালী ব্লক এবং গ্রন্থি ফেটে যেতে পারে
প্যানক্রিয়াটিস সৃষ্টি করতে পারে
এক জরিপে দেখা গেছে, পাথরের আকার চার সেন্টিমিটারের বেশী হলে পিত্তথলিতে ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
লক্ষণ প্রকাশ না হলে বা শারীরিক সমস্যা না হলে রুগী জানতেও পারে না যে তার পাথর আছে তখন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। লক্ষণ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পরলে কোলেসিস্টেক্টমি বা পাথরসহ পিত্ত ফেলে দেয়াই একমাত্র চিকিৎসা।
প্রতিদিনের খাদ্যভ্যাসে উচ্চ আঁশসমৃদ্ধ খাবার যেমন-ফল, শাক-সবজি এবং গোটা শস্য খেতে হবে
খাবার বাদ দেয়া বা দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস বাদ দিতে হবে
ধীরে ধীরে ওজন কমাতে হবে
স্থুলতা ও অতিরিক্ত ওজন পিত্তপাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত ব্যয়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ করতে হবে
অধিক পরিমাণ উদ্ভিজ্জ তৈল বা ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ তৈল (যেমন-সূর্যমুখী তৈল ও অলিভ অয়েল) গ্রহণ করা
অধিক প্রাণিজ চর্বি গ্রহণ এড়িয়ে চলা
প্রতিদিন ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করতে হবে।