শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন আজ বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জন, সিঁদুর খেলা ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দেবী দুর্গার বিদায়কে ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে বিরাজ করছে বিষাদময় পরিবেশ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। তাই দেবীর বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে দেখা দেয় আবেগ ও বিষাদের ছায়া। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকালে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বিহিত পূজা। পূজা শেষে প্রচলিত ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দর্পণ বিসর্জন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। পরে স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিজয়া দশমী শুধু দেবী দুর্গার বিদায়ের দিন নয়, এর রয়েছে বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। তাঁদের বিশ্বাস, মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়াই এই দিনের অন্যতম শিক্ষা। পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তাও বহন করে বিজয়া দশমী।
এদিকে দেবীর বিদায়ের আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আয়োজন করা হবে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলার। এ আয়োজনে অংশ নেবেন সনাতনী নারীরা। দেবী দুর্গার চরণে সিঁদুর নিবেদন করে তাঁরা একে অপরের সিঁথি ও মুখে সিঁদুর লাগিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। ধর্মীয় ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, অনেক নারী স্বামীর মঙ্গল কামনায় দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পান ও মিষ্টি নিবেদনসহ নানা রীতির মধ্য দিয়ে দেবীর কাছে বিদায় প্রার্থনা করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোড়ায় চড়ে এবং গমন করবেন নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে।
পাঁচ দিনের পূজা, আনন্দ, প্রার্থনা ও মিলনমেলার পর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবীর বিদায়ের বেদনার পাশাপাশি ভক্তদের প্রত্যাশা, আগামী বছর আবারও ফিরে আসবেন দেবী দুর্গা—নিয়ে আসবেন শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির বার্তা।