সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

চোখের রেটিনায় সমস্যা?

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

রেটিনাজনিত কারণে চোখে কম দেখার বিষয়টি রোগীর পক্ষে বুঝতে পারা বেশ কঠিন। রেটিনা বিশেষজ্ঞ ছাড়া এই রোগ সরাসরি শনাক্ত করা সম্ভব নয়। চশমা ব্যবহারের পরও চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত না হলে, আঘাতজনিত কারণে চোখে কম দেখলে, চোখের সামনে কালো কিছু ভাসতে থাকলে, আলোর ঝলকানি দেখা দিলে, চোখের সামনে কালো পর্দার মতো কিছু পড়েছে মনে হলে কিংবা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে রেটিনাজনিত সমস্যা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
রেটিনার রোগ বয়স ও কারণভেদে বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। কিছু রোগ জন্মের কয়েক দিনের মধ্যে চিকিৎসা না করালে সারা জীবনের জন্য অন্ধত্ব বরণ করতে হতে পারে। যেসব শিশু নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই ভূমিষ্ঠ হয় কিংবা জন্মের সময় ওজন দেড় কেজি বা তার কম থাকে, সেসব শিশুর জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই রেটিনা পরীক্ষা করা জরুরি। নতুবা তারা ‘রেট্রোলেন্টাল ফিফথ প্লাসিয়া’ (RoP) নামক গুরুতর রেটিনার রোগে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে।
শিশুদের আরও একটি ভয়ানক রোগ হলো রেটিনার টিউমার (রেটিনোব্লাস্টোমা)। সাধারণত তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুরা চোখে কম দেখলে কিংবা চোখের মণি সাদা দেখা গেলে সাধারণ মানুষ প্রায়ই এটিকে জন্মগত ছানি ভেবে ভুল করেন।
আমাদের শরীরের বেশ কিছু রোগ–যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা ও বার্ধক্যজনিত কারণেও রেটিনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যাদের ৩০ বছরের আগে ডায়াবেটিস ধরা পড়ে এবং ইনসুলিন ছাড়া নিয়ন্ত্রণ হয় না, সাধারণত ২০ বছর পর তাদের প্রায় সবারই রেটিনার সমস্যা দেখা দেয়। যাদের ডায়াবেটিস ৩০ বছরের পর ধরা পড়ে, তাদের রোগ শনাক্ত হওয়ার পরপরই চোখের রেটিনা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। এ ছাড়া ডায়াবেটিক রোগীর হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে বা চোখের সামনে কালো কিছু ভাসতে দেখলে দ্রুত রেটিনা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উচ্চ রক্তচাপের কারণে রেটিনার রক্তনালি বন্ধ হয়ে ক্ষতি হতে পারে। বার্ধক্যজনিত কারণে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো রেটিনাও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। চশমা ব্যবহার সত্ত্বেও দৃষ্টির উন্নতি না হওয়া, বস্তু আঁকাবাঁকা ও অস্পষ্ট দেখা কিংবা ক্রমাগত দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকা রেটিনার সমস্যার পূর্বলক্ষণ।
রেটিনা রোগীদের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে করা সম্ভব। প্রাথমিক অবস্থায় সচেতনতা পারে রেটিনাজনিত অন্ধত্ব থেকে মানুষকে রক্ষা করতে।v

সমাজসেবা করুন

[লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, চক্ষু বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়]

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com