বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে সমাজ ও বিনোদন জগতের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং নারীর পোশাক নিয়ে সমাজের দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে তার এই অবস্থান নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
কৃতি শ্যাননের প্রতিবাদের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. পুরুষ বনাম নারী নয়, লড়াই মানসিকতার বিরুদ্ধে
কৃতি তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি বার্তা শেয়ার করে স্পষ্ট করেন যে, লিঙ্গভিত্তিক এই লড়াইটি ঢালাওভাবে ‘পুরুষ বনাম নারী’র লড়াই নয়। বরং এটি হলো নারী বনাম পুরুষতান্ত্রিক ও নারীবিদ্বেষী পুরুষ এবং সেইসব মগজধোলাই হওয়া নারীদের বিরুদ্ধে, যারা পিতৃতন্ত্রকে ‘সংস্কার’ বা ঐতিহ্য মনে করে।
২. পোশাক বনাম অপরাধ: সমাজের দ্বিমুখী নীতি
সম্প্রতি একটি উৎসবের বিজ্ঞাপনে কৃতির পোশাক (ব্রালেট) নিয়ে নেটিজেন ও সমালোচকদের একাংশ তীব্র কটাক্ষ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কৃতি সমাজের ‘সিলেক্টিভ আউটরেজ’ বা বেছে বেছে ক্ষোভ প্রকাশের প্রবণতাকে আক্রমণ করেন। তিনি এমন একটি পোস্টে সম্মতি জানান যেখানে বলা হয়েছিল—“এই দেশে একজন অভিনেত্রীর উৎসবের বিজ্ঞাপনে বক্ষবিভাজিকা (Cleavage) দেখানো নিয়ে যতটা শোরগোল ও ক্ষোভ তৈরি হয়, ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা বা যৌতুকের কারণে মৃত্যুর মতো জঘন্য অপরাধে ততটা ক্ষোভ দেখা যায় না; যা আমাদের সমাজের অগ্রাধিকারকে ফুটিয়ে তোলে।”
৩. নারীদের নয়, পুরুষদের জবাবদিহিতা শেখানোর আহ্বান
কৃতি প্রশ্ন তোলেন, কেন সবসময় নারীদেরই সমাজ বা হেনস্তা থেকে নিজেদের রক্ষা করার পাঠ দেওয়া হবে? তার মতে, পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা দূর করতে হলে ছেলেদের ও পুরুষদের সম্মতি (Consent), সম্মান এবং দায়বদ্ধতা শেখানো সবচেয়ে বেশি জরুরি।
৪. বলিউডে লিঙ্গবৈষম্য ও পারিশ্রমিক বিতর্ক
এর আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কৃতি বিনোদন জগতের ভেতরের পুরুষতন্ত্র ও বৈষম্য নিয়ে সরব হয়েছেন:
- পারিশ্রমিক ও বাজেট বৈষম্য: নারীপ্রধান সিনেমার বাজেট পুরুষ অভিনেতাদের সিনেমার তুলনায় অনেক কম রাখা হয়।
- সুযোগ-সুবিধার তফাত: পুরুষ অভিনেতাদের জন্য উন্নতমানের গাড়ি বা হোটেল রুমের মতো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলেও অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে তা সংকুচিত করা হয়, যা কাজের জায়গায় বৈষম্য তৈরি করে।
- সহ-অভিনেতাদের অনিচ্ছা: কৃতি জানান, অনেক পুরুষ অভিনেতা এমন সিনেমায় অভিনয় করতে চান না যেখানে অভিনেত্রীর স্ক্রিন টাইম বা ভূমিকা বেশি থাকে।
তার এই সাম্প্রতিক বিস্ফোরক মন্তব্য মূলত বিহারের জামুইতে দুই স্কুলছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনার পর সমাজজুড়ে চলা প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। কৃতি কোনো রাখঢাক না রেখেই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, নারীর অধিকার ও সুরক্ষার জন্য এই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা উপড়ে ফেলা অত্যন্ত জরুরি।