সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মেঘ কেন ভাসে? বৃষ্টি কেন আসে?

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

আকাশে সাদা সাদা তুলার মতো কিংবা ধূসর কালো বস্তু ভাসতে দেখা যায়। সাধারণভাবে তাকে বলা হয় মেঘ। অর্থাৎ মেঘ হলো বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে অসংখ্য হালকা জলকণার সমষ্টি।
সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে। সেই তাপে উত্তপ্ত হয় পৃথিবী ও ভূ-পৃষ্ঠে অবস্থিত পানি। উত্তপ্ত পানি বাষ্পীভূত হয়। বাষ্পীভূত পানি বায়ুমণ্ডলে ওপরের দিকে উঠতে থাকে। উঠতে উঠতে পানি শীতল হয়। তারপর ঘনীভূত হয়ে তা মেঘে পরিণত হয়।
বাতাসের চেয়ে ভারী
ধবধবে সাদা কিংবা ধূসর কালো এই মেঘগুলো আকাশে ভেসে থাকে কীভাবে? অথচ অভিকর্ষের প্রভাবে তো মাটিতে পড়ার কথা! তা নিচে না পড়ে দিব্যি বাতাসে ভেসে বেড়ায়! কীভাবে?
যেহেতু মেঘ পানিকণা ও জমাটবাঁধা বরফে তৈরি, সে কারণে এর ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় বেশি। তারপরও মেঘ কীভাবে শূন্যে ভেসে থাকে সেটিই আশ্চর্যের বিষয়। যদিও আমরা জানি, কম ঘনত্বের পদার্থ বেশি ঘনত্বের পদার্থে ভেসে থাকার কথা। এখানে উল্টো ঘটনা ঘটে। মেঘ বাতাসে ভেসে থাকে বলে মেঘ যে বাতাসের তুলনায় হালকা তা মোটেও ঠিক নয়।
মেঘের ওজন কত?
তুমি জেনে অবাক হবে যে, ১ ঘন কিলোমিটার বা ১ বিলিয়ন ঘন মিটার মেঘের ওজন প্রায় ৫ লাখ কিলোগ্রাম, যা কিনা প্রায় ১০০টি হাতির ভরের সমান। আর হ্যাঁ, এমন ভারী হওয়া সত্ত্বেও মেঘ দিব্বি আমাদের বায়ুমণ্ডলে ভেসে বেড়াচ্ছে। কী আশ্চর্য, তাই না!
এই মেঘ কিন্তু সবসময় একই স্থানে থাকে না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়ায়। ঠিক যেন তোমারই মতো! তুমি যেমন সারাদিন এখানে ওখানে ছুটে বেড়াও, ঠিক তাই। মেঘের উচ্চতার অবস্থান অনুসারে মেঘকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উঁচু আকাশের মেঘ, মাঝারি আকাশের মেঘ এবং নিচু আকাশের মেঘ।
ভেসে থাকার কারণ
উঁচু আকাশের মেঘ সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার মিটারের মধ্যে, মাঝারি আকাশের মেঘ সাধারণত ২ হাজার মিটার থেকে ৬ হাজার মিটারের মধ্যে এবং নিচু আকাশের মেঘ সাধারণত ২ হাজার মিটারের নিচে অবস্থান করে।
বায়ুমণ্ডলে মেঘের ভেসে থাকার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে দুটি কারণ বিজ্ঞান সমর্থিত।
যেভাবে ওপরে ওঠে
প্রথম কারণটি হলো–মেঘের কণার আকৃতি। আমরা জানি মেঘ অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানিকণা দ্বারা তৈরি। যাদের বলা হয় ড্রপ-লেট। এরা এতটাই ক্ষুদ্র যে একটি মেঘের পানির বিন্দুর গড় আকৃতি মাত্র ২০ মাইক্রোমিটারের মতো। তুলনা করলে একটি চুলের অর্ধেক প্রশস্ত ও একটি ক্ষুদ্র ধূলিকণার সমান।
ওপরে ওঠার দ্বিতীয় কারণ
মেঘ বাতাসে ভেসে থাকার দ্বিতীয় কারণ হলো–বায়ুমণ্ডলের নিম্নভাগ থেকে ক্রমাগত ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ বায়ুর প্রবাহ। ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে থাকা বায়ুর তাপ তুলনামূলক বেশি থাকে। এ কারণে বায়ুমণ্ডলের ওপরের দিকে থাকা শীতল বা ঠান্ডা বায়ুর চেয়ে এদের ঘনত্ব কমে এবং তুলনামূলক হালকা হয়ে যায়। এভাবে উষ্ণ ও হালকা বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে এবং ওপরের শীতল ভারী বাতাস নিচের দিকে নামতে থাকে। ক্রমাগত এমন ঊর্ধ্বমুখী উষ্ণ বায়ুর প্রবাহ মেঘকে ওপরের দিকে একটি বল প্রয়োগ করে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
মেঘের অতিক্ষুদ্র ড্রপ-লেট বা পানিকণার পক্ষে এমন ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহে ভেসে থাকা তেমন কঠিন কিছু নয়। যেহেতু পানিকণা খুবই ক্ষুদ্র, সুতরাং এদের ওপর পৃথিবীর অভিকর্ষ বলও খুবই নগণ্য। তাই মেঘ খুব সহজে এই আকর্ষণ বলকে আমলে না নিয়ে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।
বৃষ্টি হয়ে ঝরে
তবে মেঘ কিন্তু চিরকাল ভাসে না। আমরা বৃষ্টিপাত থেকে সহজে বুঝতে পারি। কখনও কখনও মেঘের অতিক্ষুদ্র ড্রপ-লেট বা পানিকণা এত বড় ও আর্দ্র হয়ে যায় যে, এরা একে অপরের সাথে লেগে যেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এরা আকারে বড় হতে থাকে। পানির ফোঁটাগুলো এত বড় হয়ে যায় যে, তারা আর ধূলিকণার মতো আচরণ করে না। এমনকি ফোঁটাগুলো তখন আর বাতাসে ভেসে থাকতেও পারে না। অভিকর্ষের প্রভাবে নিচের দিকে ঝরে পড়তে শুরু করে, যাকে আমরা বৃষ্টি বলি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com