সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

গর্ভধারণ, চাকরি ও নারী

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

গর্ভধারণ মানবজীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও অলৌকিক এক অভিজ্ঞতা। একজন নারীর ভেতর নতুন একটি প্রাণের স্পন্দন জেগে ওঠার এ সফরটি যেমন আনন্দের, তেমনি শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের এক গভীর চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তিজীবনের বন্ধন থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রের আঙিনা–সবখানেই এ সময় একজন অন্তঃসত্ত্বা মা পরম মমতা, সুরক্ষা ও সহমর্মিতা পাওয়ার দাবি রাখেন। তাঁকে মানসিকভাবে স্বস্তিতে রাখা, তাঁর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের যৌথ নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের পেশাগত জীবনের বাস্তবতা কি সেই মানবিকতার কথা বলে?
প্রতিষ্ঠানভেদে চিত্রটি রূপ নেয় প্রচণ্ড নির্মমতায়। অনেক নারীর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই বদলে যায় কর্মস্থলের চেনা পরিবেশ। যে হাতে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব সামলানো হচ্ছিল, সেই হাতগুলোকেই রাতারাতি বিবেচনা করা হয় ‘প্রতিষ্ঠানের বোঝা’ হিসেবে। অবমূল্যায়ন, মানসিক নির্যাতন, জুনিয়রদের সামনে অপদস্থ করা, পদত্যাগের অদৃশ্য চাপ– এমনকি শেষ পর্যন্ত চাকরিচ্যুত করার মতো ঘটনা অহরহই ঘটছে। অথচ মাতৃত্ব কোনো দুর্বলতা নয়; এটি একজন নারীর প্রাক-প্রাকৃতিক অবদান এবং সংবিধান ও আইন দ্বারা স্বীকৃত মৌলিক অধিকার।

জোশিতা সানজানা রিজভান এবং মাহবুবা দিলশাদ ডেইজির ট্র্যাজিক অভিজ্ঞতা আমাদের করপোরেট কাঠামোর সেই অন্ধকার দিকটিই উন্মোচন করে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে একটি বহুজাতিক অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন জোশিতা সানজানা রিজভান। নিয়োগের প্রথম দিনেই তাঁকে বেশ কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল– তিনি বিবাহিত কিনা, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কিনা। চাকরির শুরুতে তাঁর কাজের প্রশংসা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার নানা পরামর্শ দিয়ে কৃত্রিম এক সহানুভূতি দেখায় কর্তৃপক্ষ।
একই বছরের ডিসেম্বরে জোশিতা গর্ভধারণ করেন। শারীরিক জটিলতার আশঙ্কায় শুরুতে বিষয়টি গোপন রাখলেও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তীব্র ‘ভার্টিগো’ ও রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে  ই-মেইলের মাধ্যমে অফিসকে নিজের গর্ভাবস্থার কথা জানান তিনি। জোশিতার অভিযোগ, গর্ভাবস্থার কথা জানার পর থেকেই কর্তৃপক্ষের আচরণ ১৮০ ডিগ্রি বদলে যায়। কারণে-অকারণে তাঁকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, কনিষ্ঠ সহকর্মীদের সামনে অপমানিত করা এবং কাজের সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন বন্ধ করে দেওয়া দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়। উচ্চপদস্থ বস ফোনের ওপার থেকে চিৎকার করে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে

থাকেন।
মার্চ মাসে তাঁকে জোরপূর্বক মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করতে বাধ্য করা হয়। এরপর কোম্পানির আইনজীবীকে হাজির করে এক বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হয়–প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে রয়েছে, তাই তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। জোশিতা অসম্মতি জানালে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়, এমনকি হুমকিও দেওয়া হয়। অপমান ও ভীতিকর পরিবেশ সহ্য করতে না পেরে ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক জিনিসপত্র অফিসে রেখে বেরিয়ে আসেন জোশিতা এবং আইনি সুরক্ষার জন্য থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিড়ম্বনার এখানেই শেষ নয়। কোম্পানি উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও অপপ্রচারের অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ২০২৫ সালের জুনে যখন তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন তাঁকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয় এবং সারারাত থানায় আটকে রাখা হয়।
এই প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মাশুল দিতে হয় তাঁর গর্ভস্থ সন্তানকে। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাত্র ৩৫ সপ্তাহে জন্ম নেয় তাঁর শিশু। নবজাতককে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রেখে জীবন-মৃত্যুর লড়াই চালাতে হয়। আজ সন্তানের বয়স এক বছর পেরিয়ে গেলেও আইনি বেড়াজাল থেকে মুক্তি মেলেনি জোশিতার; অসুস্থ সন্তানকে কোলে নিয়ে তাঁকে এখনও আদালতের বারান্দায় হাজিরা দিতে হচ্ছে। বকেয়া বেতন ও বোনাস বাবদ পাওনা প্রায় ৩২ লাখ টাকা এখনও মেলেনি। পরবর্তী সময়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিলেও অসুস্থ সন্তানের নিয়মিত চিকিৎসার জন্য বারবার ছুটি নিতে গিয়ে সেই চাকরিটিও তাঁকে হারাতে হয়।

বাংলাদেশের আইটি খাতে দীর্ঘ ১৫ বছরের সুনাম কুড়ানো অভিজ্ঞ পেশাজীবী মাহবুবা দিলশাদ ডেইজি। এর আগে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ডেল’-এ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশীয় একটি বড় আইটি গ্রুপে উচ্চপদে যোগ দেন তিনি। এর কিছু দিন পর ডেইজি জানতে পারেন তিনি গর্ভবতী। আইটি খাতের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রবেশন পিরিয়ড দীর্ঘায়িত হওয়ার ভয়ে তিনি শুরুতে বিষয়টি জানাননি। পরে যখন নিজ থেকে রিপোর্টিং বসকে বিষয়টি জানান, বস তাঁর অনুমতি ছাড়াই তা সিইও-কে অবহিত করেন। একটি অল-টিম মিটিংয়ে সিইও প্রকাশ্যে তাঁকে অভিনন্দন জানান; যা তাঁকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com