ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ১৫ আগস্ট। দিনটি যেন জন্মদিনের স্মৃতি আর চিরবিদায়ের বেদনা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।কিন্তু এই দিনটি আর আগের বছরের মতো নয়। কারণ এই প্রথম কোনো জন্মদিনে তিনি নেই, নেই কোনো আনুষ্ঠানিকতা, নেই কেক কাটার আনন্দ, নেই ফুলের বন্যা। আছে শুধু স্মৃতি, আছে গভীর ভালোবাসা, আছে অশ্রুসিক্ত নীরবতা। তাঁর পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আজ মা-হারানোর অপার কষ্ট, যে বেদনা তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মাঝেও একাকী বয়ে চলেছেন।জনগণের সেবার মাধ্যমেই খুঁজে চলেছেন তাঁর মায়ের আদর্শের প্রতিফলন। সঙ্গে বাবা হারানোর বেদনা তো রয়েছেই—১৯৮১ সালের ৩০ মে যখন শহীদ হন জিয়াউর রহমান, তারেক রহমান তখন মাত্র ১৬ বছরের কিশোর।
প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পতাকায়, প্রতিটি নিপীড়িত মানুষের হৃদয়ে তিনি আজও বিদ্যমান। যিনি স্বৈরাচারের দুর্গ কাঁপিয়েছেন, যিনি কারাগারের স্যাঁতসেঁতে প্রকোষ্ঠকেও সংগ্রামের প্রেক্ষাগৃহে পরিণত করেছেন, যিনি সন্তান হারিয়েও কখনো নীতি থেকে বিচ্যুত হননি, তাঁরই এই জন্মদিন আজ এক জাতির মনঃকষ্টের প্রতীক।
বাংলার ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব কাহিনি। এক সাধারণ গৃহবধূর অসাধারণ রাজনৈতিক উত্থানের মহাকাব্য। ১৯৪৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরের মাটিতে যখন ‘পুতুল’ নামের সেই কন্যাসন্তানটির আবির্ভাব ঘটেছিল, তখন কে জানত এই শিশুটিই একদিন বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়াবে? কে জানত তিনি একদিন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লৌহমানবী হয়ে উঠবেন? কে জানত তিনিই হবেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান? সময় যেন তাঁকে ডেকে এনেছিল ইতিহাসের এক অমোঘ প্রয়োজনে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে গ্রেপ্তার করে সেনানিবাসে বন্দি করে রেখেছিল, তখনো তিনি দুই পুত্রকে বুকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। আর আজ সেই দুই সন্তানের একজন চিরবিদায় নিয়েছেন ২০১৫ সালে।