
আইনের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে চাই
শাহ আলম কিরণ পরিচালক
আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাই এই মুহূর্তে চলচ্চিত্র জগতের খবর রাখা হয় কম। তবে শুনেছি, সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেপ্তার হয়েছে। এখন যেহেতু এটা আদালতের বিষয়, আদালতেই নিষ্পত্তি হোক।তাই এই বিষয়ে কোনো মতামত দিতে চাচ্ছি না, আইনের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে চাই। শুধু ছেলেটার জন্য খারাপ লাগে। সালমান আমার ‘সুজন সখি’, ‘বিচার হবে’ ছবিতে অভিনয় করেছিল। ঢাকা শহরে বেড়ে উঠলেও গ্রামীণ চরিত্রে সে অসাধারণ মিশে গিয়েছিল। সে যেদিন মারা গেল, সেদিন আমারই ছবি ‘শেষ ঠিকানা’র শুটিং করার কথা ছিল।এটিই তার সঙ্গে আমার শেষ ছবি। যদিও পরবর্তী সময়ে অমিত হাসানকে দিয়ে ছবিটি সম্পূর্ণ করি। সালমান ছেলে হিসেবে খুবই ভালো ছিল, আমাদের খুব সম্মান করত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে আরো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ভীষণ আবেগপ্রবণ ছিল, এটাই বোধহয় কাল হয়েছিল। যা-ই হোক, এখন সমাধান হওয়াটাই ভালো।

কোনো গোপন সত্য যেন লুকিয়ে না থাকে
তানিম রহমান অংশু পরিচালক
মাত্র ২২ বছর বয়সে যে ছেলেটা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ নিয়ে এসে আমাদের হাসতে শেখালেন, কাঁদতে শেখালেন, আমাদের স্টাইলিং শেখালেন—তাঁর এভাবে চলে যাওয়াটা আমাদের সংস্কৃতির জন্য এক অপূরণীয় আঘাত। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো আমাদের বাংলা সিনেমা পৃথিবীর দরবারে অন্য অবস্থানে থাকত। একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ও ভক্ত হিসেবে আমার চাওয়া খুব স্পষ্ট—তদন্ত প্রতিবেদন যা-ই বলুক, আমরা চাই কোনো গোপন সত্য যেন লুকিয়ে না থাকে। আজও দেশের বহু মানুষ একটা সুষ্ঠু বিচারের অপেক্ষায় দিন গোনে। সালমান শাহ শুধু একটা হারিয়ে যাওয়া নাম নন, তিনি আমাদের বুকের ভেতরে জ্বলতে থাকা এক অসম্পূর্ণ বিচার আর অন্তহীন ভালোবাসার আগুন।

চাই সঠিক ও স্বচ্ছ তদন্ত
হিমেল আশরাফ পরিচালক
সালমান শাহ আমাদের সবার আবেগের জায়গা। সেই ছোটবেলা থেকেই তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা কথা শুনতে পাই। যার অনেকটাই সত্য-অসত্যের বেড়াজালে আবদ্ধ। তাই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। কয়েক বছর পরপরই আলোচনায় আসে তাঁর মৃত্যুরহস্য। আদালতে মামলা হয়। কিন্তু কোনো সুরাহা হয় না। সরকারের উচিত সঠিক এবং স্বচ্ছ তদন্ত করে আসল সত্যটা সবার সামনে প্রকাশ করা। এটার একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া জরুরি মনে করি।