পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাবয়িত্রী এবং কারয়িত্রী প্রতিভার নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)। জন্মের পর ১৬৫ বছর অতিক্রান্ত, তাঁর মহাপ্রয়াণের পরও আমরা পেরিয়ে এসেছি ৮৫টি বছর, তবু পৃথিবীর মানুষের কাছে রবীন্দ্রনাথের অব্যাহত প্রভাব দেখে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই।তাঁর সাহিত্যকর্মের পরিমাণ বিপুল, লিখেছেন তিন হাজারের বেশি গান, এঁকেছেন দুই হাজারেরও বেশি চিত্র, প্রতিষ্ঠা করেছেন মানবকল্যাণমূলক অনেক প্রতিষ্ঠান। দ্বিমাত্রিক এই প্রয়াস এবং উদ্যোগের কথা স্মরণে রেখেই আমি দেখতে চাই, ভাবতে ভালোবাসি রবীন্দ্রনাথকে। যাকে বলব বহুমাত্রিক সাহিত্যপ্রতিভা, রবীন্দ্রনাথ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ছড়া, ব্যক্তিগত রচনা, ভ্রমণসাহিত্য, চিঠিপত্র, সংগীত—কোন রূপকল্পে না লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ? বাংলা কবিতাকে প্রাদেশিকতার সীমানা ছাড়িয়ে তিনি করে তুলেছেন আন্তর্জাতিক।বাংলা ছোটগল্পের নির্মাতা তিনি, বাংলা উপন্যাসে তিনিই প্রথম দিয়েছেন আধুনিকতার স্পর্শ। নাট্যসাহিত্যের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ঐতিহাসিক ও দূরসঞ্চারী। সংগীত, চিত্রকলা, ভ্রমণসাহিত্য, চিঠিপত্র, ভাষাবিষয়ক প্রবন্ধ, ব্যক্তিগত রচনা—সর্বত্রই রবীন্দ্রনাথের ভুবনবিজয়ী সার্থকতা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-সংস্কৃতির চিরকালের সম্পদ। সৃষ্টি-প্রয়াসে তিনি নিজেকেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবেছেন; পৌনঃপুনিকভাবে বাঁকবদল করেছেন আপন চিন্তাধারা ও রূপকল্পের।প্রাচ্য-প্রতীচ্যের যা কিছু শ্রেষ্ঠ, তা পরমজ্ঞানে আত্তীকরণের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ নির্মাণ করেছেন বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত এক রূপ। সুদীর্ঘ সাধনায় সংস্কৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ যে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন, তা জন্ম দিয়েছে নতুন এক সংস্কৃতি, যার নাম দেওয়া যায় ‘রবীন্দ্রসংস্কৃতি’। রবীন্দ্রসংস্কৃতি বৃহৎ অর্থে গভীর ব্যঞ্জনায় আধুনিক বঙ্গসংস্কৃতিরই পরিমার্জিত সংস্করণ। বঙ্গসংস্কৃতি, ভারতসংস্কৃতি, বিশ্বসংস্কৃতি তথা মানবের সদর্থক শাশ্বত স্রোতে অবগাহন করেই স্নাতক হয়ে আবির্ভূত হয়েছে রবীন্দ্রসংস্কৃতি। রবীন্দ্রনাথ বাঙালির ভাষা জুগিয়েছেন, বুকে দিয়েছেন ভরসা, চোখে পরিয়েছেন স্বপ্নকাজল, আর চিত্তে সঞ্চার করেছেন আত্মবিকাশের অফুরান বাণী।প্রাচ্য-প্রতীচ্যের যা কিছু শ্রেষ্ঠ, তা পরমজ্ঞানে আত্তীকরণের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ নির্মাণ করেছেন বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত এক রূপ। সুদীর্ঘ সাধনায় সংস্কৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ যে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন, তা জন্ম দিয়েছে নতুন এক সংস্কৃতি, যার নাম দেওয়া যায় ‘রবীন্দ্রসংস্কৃতি’। রবীন্দ্রসংস্কৃতি বৃহৎ অর্থে গভীর ব্যঞ্জনায় আধুনিক বঙ্গসংস্কৃতিরই পরিমার্জিত সংস্করণ। বঙ্গসংস্কৃতি, ভারতসংস্কৃতি, বিশ্বসংস্কৃতি তথা মানবের সদর্থক শাশ্বত স্রোতে অবগাহন করেই স্নাতক হয়ে আবির্ভূত হয়েছে রবীন্দ্রসংস্কৃতি। রবীন্দ্রনাথ বাঙালির ভাষা জুগিয়েছেন, বুকে দিয়েছেন ভরসা, চোখে পরিয়েছেন স্বপ্নকাজল, আর চিত্তে সঞ্চার করেছেন আত্মবিকাশের অফুরান বাণী।