আবদুল মান্নান পলাশ
চাটমোহর (পাবনা), ১ জুলাই : ‘বউ কথা কও’ পাখি নিয়ে অনেক গাল-গল্প ছড়িয়ে আছে গ্রামে-গঞ্জে। শৈশবে গ্রামের আনাচে-কানাচে চিরচেনা এই পাখির ডাক শুনে মুখ ভাঙ্গিয়ে খেপায়নি, এমন কে আছে।
আর এখন গ্রামে গাছের ডালে ডালে তন্নতন্ন করে খুঁজেও সুকণ্ঠি এ পাখিটির দেখা মেলা কঠিন।
‘বউ কথা কও’ নিজের নামেই নয়, আরো অনেক কথা ছিলো তার কন্ঠে। যেমন- পঁচার বউরো, পঁচা কাঠাল, খাবি কিডা, পঁচা খাবি, বউ সরষে কোটো, বউয়ের দাঁতে পোকা আরো কত কথা।
সব ঋতুতে গ্রাম বাংলার নিঃতরঙ্গ পরিবেশ মাতিয়ে রাখতো এই পাখিটা। বাড়ীর আঙ্গিনার পেয়ারা গাছে এ গাছে সেগাছে বসে ডাকতো, আর শিশুরা মুখ ভাঙ্গিয়ে খেপাতো। এখন পরিবেশের ভারসাম্যহীনতায় পাখিটি লুপ্ত হতে বসেছে।
সব ঋতুতে গ্রাম বাংলার নিঃতরঙ্গ পরিবেশ মাতিয়ে রাখতো এই পাখিটা। বাড়ীর আঙ্গিনার পেয়ারা গাছে এ গাছে সেগাছে বসে ডাকতো, আর শিশুরা মুখ ভাঙ্গিয়ে খেপাতো। এখন পরিবেশের ভারসাম্যহীনতায় পাখিটি লুপ্ত হতে বসেছে।
আজকের নতুন প্রজন্মের কাছে পাখিটি অপরিচিত। পাখিটি আকৃতিতে অনেকটা শালিক পাখির মতো। দৈর্ঘ্য ২৪ সেন্টিমিটার। পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম ওরিওলিদি এবং ইংরেজী নাম অরিওল।
গায়ের পালক উজ্জ্বল হলুদ। লেজ ও পাখার অগ্রভাগের পালক কালো। গলা ও মাথার রং চিকচিকে কালো হলেও ঠোঁট ও চোখ লাল টকটকে। আর পা দু’টো হালকা কালো।এরা সাধারনতঃ ঝোপ-ঝাড়ে, শুকনো ডালপালা, খড়কুটো বা আগাছা দিয়ে গাছের ডালে বাসা বানায়। বসন্ত ও গ্রীষ্মের মাঝামাঝি এদের প্রজনন মৌসুম। সাদা রংয়ের বাদামী ফোঁটাযুক্ত ৩/৪ টি ডিম পাড়ে। পুরুষ ও মেয়ে পাখি দু’জন মিলে ডিমে তা দিয়ে ১৫ থেকে ১৭ দিনে বাচ্চা ফোঁটায়।
লম্বা ঠোটওয়ালা হলদে পাখিটি পোকা-মাকড় ও ফল সবই খায়। বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, ইন্দ্রোনেশিয়া তথা ক্রান্তীয় দক্ষিন এশিয় দেশ গুলোতে পাওয়া যায়।
বিভুতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ‘আরণ্যক’ উপন্যাসেও এই পাখির উল্লেখ রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষক বন্ধু পাখিটি বিলুপ্তির শেষ ধাপে রয়েছে। ফসলের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড়ই এদের প্রধান খাদ্য। সে কারনে পাখিটি বিলুপ্ত হওয়ায় কৃষকের ক্ষতি হয়েছে।