চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুটি খামারে পরীক্ষামূলক দুম্বা পালনে সফলতা এসেছে। উপজেলার ফৌজদারহাট ও বাড়বকুণ্ড এলাকার খামার দুটিতে দুম্বা পালন করে ভেড়ার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি লাভ পাওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন খামারিরা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুটি খামারে পরীক্ষামূলক দুম্বা পালনে সফলতা এসেছে। উপজেলার ফৌজদারহাট ও বাড়বকুণ্ড এলাকার খামার দুটিতে দুম্বা পালন করে ভেড়ার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি লাভ পাওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন খামারিরা।
জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরে সীতাকুণ্ডের দুটি খামারে দুম্বা পালন শুরু হয়েছে। এ খামার দুটি হলো উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ফৌজদারহাটের ইউনিক গোট ফার্ম এবং বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মিয়াজীপাড়ায় অবস্থিত রুপালি অ্যাগ্রো লিমিটেড।
দুম্বা পালন বিষয়ে কথা হয় ইউনিক গোট ফার্মের মালিক আদনান চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি জানান, ২০২১ সালে গাজীপুরের একটি রিসোর্টে গিয়ে দুম্বা দেখে ভালো লাগে তাঁর।
অন্যদিকে বাড়বকুণ্ডের রুপালি অ্যাগ্রো খামারের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, তাঁরা মূলত গরুর খামারি। তাঁদের খামারে ৩৫০টি গরু রয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে মেহেরপুর থেকে দুটি পুরুষ দুম্বা এবং চারটি নারী প্রজাতির দুম্বা কিনে আনেন তাঁরা। প্রতিটি দুম্বা দুই লাখ টাকা করে দাম চাইলেও পরে ৯ লাখ টাকা দিয়ে ছয়টি দুম্বা সংগ্রহ করেন তাঁরা। এখন দুটি মা দুম্বা থেকে আরো তিনটি বাচ্চা হওয়ায় দুম্বার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯। দুম্বাগুলো টার্কি জাতের। দুম্বার খাদ্যাভ্যাস না জানার কারণে শুরুর দিকে খরচ বেশি পড়ছিল তাঁদের। পরে দেশীয় খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় আর অসুবিধা হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, ‘দুম্বার বৃদ্ধি ও লাভ বুঝতে পারায় ভবিষ্যতে এই দুম্বা পালনে ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব।’
এদিকে এরই মধ্যে উপজেলার এ দুটি খামারে মরুর দুম্বা পালনে সফলতার কথা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার আরো অনেক খামারি এই দুটি খামার ঘুরে দেখেছেন। তাঁদেরই একজন কুমিরার খামারি মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘খামার দুটিতে দুম্বাগুলো দেখে পালনের পদ্ধতি জেনে এসেছি। অল্প দিনেই আমিও দুম্বা পালন শুরু করব।’ তাঁর মতো আরো অনেকেই আগ্রহী হয়েছে বলে জানান তিনি।
সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কল্লোল বড়ুয়া বলেন, সীতাকুণ্ডের দুটি খামারে এখন দুম্বা পালন করা হচ্ছে। দুম্বার রোগ-বালাই কম; কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় ছোট খামারিরা ঝুঁকি নিতে চান না। দুম্বার খামারগুলোতে তাঁরা বিভিন্ন সময় পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এখানে এ দুটি খামারের সাফল্যে আগামী দিনে আরো অনেক খামারে দুম্বা পালন শুরু হবে বলে মনে করছেন তিনি।