টিকা নেওয়ার কারণে জরায়ুমুখ (সার্ভিক্যাল) ক্যান্সারে তরুণীদের মারা যাওয়ার ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ১২-১৩ বছর বয়সে এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকা নিলেই এই ঝুঁকিমুক্ত হওয়া সম্ভব।
টিকা নেওয়ার কারণে জরায়ুমুখ (সার্ভিক্যাল) ক্যান্সারে তরুণীদের মারা যাওয়ার ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ১২-১৩ বছর বয়সে এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকা নিলেই এই ঝুঁকিমুক্ত হওয়া সম্ভব।
২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের এই টিকা দেওয়া শুরু হয়। এর পর থেকে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে মৃত্যুর হার নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই টিকার সুবাদে শুধু ইংল্যান্ডেই এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ নারীর জীবন রক্ষা পেয়েছে।
লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির প্রধান গবেষক অধ্যাপক পিটার স্যাসিয়েনি বলেন, ‘ভাবতেই অবিশ্বাস্য লাগে যে মাত্র একটি টিকাই এই ক্যান্সারকে প্রায় সম্পূর্ণ নির্মূল করে দিতে পারে।’
যুক্তরাজ্যে নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার এখনো ১৪তম সাধারণ ক্যান্সার, যেখানে প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার ৩০০ জন এই এই রোগে আক্রান্ত হন। ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই চামড়ার সংস্পর্শে এইচপিভি ভাইরাস ছড়ায় বলে মনে করা হয়।
ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের প্রধান নির্বাহী মিশেল মিচেল এই ফলাফলকে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইংল্যান্ডে এখনো এই টিকাদানের হার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪ শতাংশ কম। ২০৪০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকার কাজ করছে এবং টিকাদানের হার বাড়াতে কমিউনিটি ফার্মেসিগুলোর মাধ্যমে বিশেষ ক্যাম্পেইন ও স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষার কিট বিতরণের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে। গবেষকদের মতে, টিকা নেওয়া এই প্রজন্ম যত বয়স্ক হবে, মৃত্যুঝুঁকি তত কমবে। তবে ভ্যাকসিন নেওয়া সত্ত্বেও ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীদের নিয়মিত জরায়ুমুখ স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে ছেলেদেরও এই টিকা দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের নিজস্ব কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধের পাশাপাশি মেয়েদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়ানোর ঝুঁকিও হ্রাস করছে। সূত্র : বিবিসি