সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় হলুদ পাহাড়ি কাছিমের আরও পাঁচ বাচ্চা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় মহাবিপন্ন প্রজাতির হলুদ পাহাড়ি কাছিমের ৫টি বাচ্চা ফুটেছে। গত চার বছরে এখানে কাছিমের সংখ্যা ৮টি থেকে বেড়ে ১৬টি হলো। এর আগে ২০২৩ সালে ৩টি এবং ২০২৫ সালে ৫টি বাচ্চা জন্ম নিয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সমকালকে তিনি জানান, বাংলাদেশে বন্দি অবস্থায় এই বিপন্ন কাছিমের বংশবৃদ্ধি একটি বড় সাফল্য। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ২০২২ সালে কাছিমগুলোর জন্য আধুনিক ও বড় বাসস্থান তৈরি এবং উন্নত পরিচর্যার ব্যবস্থা করার পর থেকেই এখানে নিয়মিত বাচ্চা ফুটছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিলুপ্তির মুখে থাকায় হলুদ পাহাড়ি কাছিম (যা লম্বা কচ্ছপ নামেও পরিচিত) ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় ‘মহাবিপন্ন’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস এবং অবৈধ শিকার ও পাচারের কারণে এরা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ বনাঞ্চলে এদের দেখা মিললেও প্রাকৃতিকভাবে এদের সংখ্যা দিন দিন কমছে।

ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ জানান, ২০১৩ সালের পর দীর্ঘ সময় চিড়িয়াখানায় এই কাছিম কোনো বাচ্চা দেয়নি। পরে ২০২২ সালে তাদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের মতো করে নতুন বাসস্থান তৈরি করা হয়। এর প্রায় ১৫ মাস পর প্রথমবারের মতো ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। সাধারণত একটি স্ত্রী কাছিম একবারে ৩ থেকে ৫টি ডিম দেয় এবং ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ১২০ থেকে ১৫০ দিন সময় লাগে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, বন্দি অবস্থায় এই মহাবিপন্ন কাছিমের বংশবৃদ্ধি একটি বড় সাফল্য। এর ফলে ভবিষ্যতে এদের টিকিয়ে রাখার কাজ আরও সহজ হবে। উপযুক্ত পরিবেশ এবং সরকারি অনুমতি পেলে কাছিমগুলোর একটি অংশকে পরে আবার বনে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রকৃতি গবেষক ড. আবদুল আজিম শাহ বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা শুধু বিনোদনকেন্দ্র নয়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রজনন কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অতীতে এখানে বাঘ, অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর সফল প্রজনন হয়েছে। এবার মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কাছিমের এই জন্ম দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন আশা জাগিয়েছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com