সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মেক্সিকান ঢেউ আছড়ে পড়েছিল নিউইয়র্কে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে
সন্দেহ হচ্ছিল, নিউইয়র্কের মেট্রোতেই আছি তো, নাকি এটা মেক্সিকো সিটির কোনো ট্রেন, নিয়ে যাচ্ছে আজতেকা স্টেডিয়ামে। আমার গন্তব্য আসলে ছিল নিউইয়র্কের বিখ্যাত বিলি জিন কিং টেনিস সেন্টার, যেখানে ইউএস ওপেন হয়ে থাকে।

তবে টেনিস নয়, সেখানে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের উন্মাদনা ছড়াতে আয়োজন ছিল জায়ান্ট স্ক্রিনে সরাসরি খেলা দেখানোর। 

মেক্সিকান ঢেউ আছড়ে পড়েছিল নিউইয়র্কেএই বিশ্বকাপের মৌসুমেও যেসব মেক্সিকান দেশে ফিরতে পারেননি, যেতে পারেননি আজতেকায়, নিউইয়র্কের সেই সব মেক্সিকানের একটাই গন্তব্য ছিল ফ্ল্যাশিং মিডোর টেনিস সেন্টার। মেট্রোতে মেক্সিকান জার্সি গায়ে নানা সাজে তাদেরই ভিড়। গায়ে উল্কি আঁকা, মাথায় মেক্সিকান টুপি, নেচেগেয়ে সবাই চলছে মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে।

ট্রেনের ভেতর সেই উন্মাদনার মধ্যে বসে আন্দাজ করা কঠিন ছিল, নিউইয়র্কেই আছি। 

মেক্সিকান ঢেউ আছড়ে পড়েছিল নিউইয়র্কেটেনিস কোর্টের এক পাশে বসানো হয় জায়ান্ট স্ক্রিন, আর তার তিন দিকে গ্যালারিতে দর্শক। মেক্সিকোর সবুজ জার্সিতে সেই গ্যালারি ছেয়ে গিয়েছিল। আজতেকায় ম্যাচের ক্ষণে ক্ষণে যেমন ঢেউ উঠছিল, গ্যালারিতে এখানেও তা-ই।

পতাকা, ভুভুজেলার অনুষঙ্গ তো ছিলই। মেক্সিকানদের খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি, নবম মিনিটেই প্রথম গোল পেয়ে গেলে স্টেডিয়াম উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। ফিফার আয়োজনেই ছিল এই সরাসরি খেলা দেখা এবং সেই উপলক্ষে ফ্যান ফেস্ট। নিউইয়র্কের আরো তিনটি জায়গায় বিশ্বকাপজুড়ে কয়েকটি ধাপে হবে সমর্থকদের এই উৎসব। ফ্ল্যাশিং মিডোতে এই উৎসব চলবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো নিয়ে।
গতকাল শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্র নেমেছে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে। নিউ ইয়র্কে সেই ম্যাচ দেখারও মূল আয়োজন এখানটাতেই। যারা মাঠে গিয়ে ব্রাজিলের খেলা দেখতে পারবে না, টিকিট পায়নি – তারাও আসবে বিলি জিন কিং সেন্টারে। একসঙ্গে বসে ব্রাজিলিয়ান সাম্বার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইবে তারা। মেক্সিকানরা প্রথম দিন রং ছড়িয়েছে, তবে এই উৎসব চলবে আসলে প্রতিটি ম্যাচের দিনই। 

এদিন ফ্যান ফেস্ট থেকে বের হয়ে রেলস্টেশনের দিকে যেতেই অবশ্য আরো একটি বড় দলের সামনে পড়ে যেতে হয়। টেনিস সেন্টারের পাশেই বেসবলের সিটি ফিল্ড, যেখানে সেদিন ম্যাচ ছিল নিউইয়র্ক মেটসের। মনে হলো যত দর্শক ফ্যান ফেস্টে এসেছে, তত বা তার চেয়ে বেশি দর্শক মেটসের খেলা দেখে বের হচ্ছে সিটি ফিল্ড থেকে। সবার গায়ে মেটসের নীল-সাদা জার্সি। বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যেই এমন দৃশ্য ব্যতিক্রমই। কিন্তু আমেরিকায় আসলে এটিই স্বাভাবিক। কথা হয় মেটস ভক্ত পেইসের সঙ্গে। বিশ্বকাপের মধ্যেও বেসবল নিয়ে মেতে ওঠার ব্যাখ্যা দিলেন তিনি, ‘বিশ্বকাপের টিকিটের যে মূল্য, তাতে আমাদের মতো অনেকেরই সেখানে গিয়ে খেলা দেখা সম্ভব নয়। এখানে ৩০ ডলারে আমরা নিজের দলের ম্যাচ দেখছি। তবে অবশ্যই বিশ্বকাপ নিয়ে আমারও আগ্রহ আছে। ফ্যান ফেস্টেও ঢু দেব।’

আমেরিকানরা বেসবল, বাস্কেটবলের প্রাত্যহিক এই উন্মাদনায়ই অভ্যস্ত। ছেলে-বুড়ো সবাই নিজ দলের জার্সি পরে তৈরি হয়ে মাঠে যায়, দারুণ কিছু সময় পার করে। খেলা নিয়ে আগ্রহ বা মাতামাতি তাদের মজ্জাগত। বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনাও তাই তাদের কাছে হয়তো বেশি কিছু নয়। তবে নিউইয়র্ক বৈশ্বিক নগরী। ফ্যান ফেস্ট বা মেটলাইফ স্টেডিয়ামও তাই রং ছড়াবে তার সহজাত নিয়মেই।

 

 

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com