সুযোগ পাওয়ার পর নিজের আবেগ লুকাননি সেনেসি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘আমি ভীষণ খুশি। ছোটবেলা থেকে যে স্বপ্ন দেখেছি, বিশ্বকাপে খেলার সেই সুযোগ অবশেষে পেয়েছি।’ দ্রুত দলের সঙ্গে যোগ দিতে মুখিয়ে আছেন এই ডিফেন্ডার, ‘এখন সব গুছিয়ে যত দ্রুত সম্ভব যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছি। খুব শিগগির দেখা হবে।
আর্জেন্টিনার কনকর্ডিয়া শহরে ১৯৯৭ সালের ১০ মে জন্ম সেনেসির। ফুটবলের হাতেখড়ি সান লোরেঞ্জো দে আলমাগ্রোর যুব একাডেমিতে। সেখান থেকেই ধাপে ধাপে উঠে আসা। ২০১৬ সালে এই একাডেমির মূল দলে অভিষেকের পর তিন মৌসুমে ৭২টি ম্যাচ খেলেন; কিন্তু তাঁর স্বপ্নের পরিধি ছিল আরো বড়। তাই ২০১৯ সালে পাড়ি জমান ইউরোপে। নেদারল্যান্ডসের ফেইনুর্ডেই যেন নতুন করে পরিচয় মেলে তাঁর। দৃঢ় রক্ষণ, বল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর দক্ষতা খুব দ্রুতই তাঁকে আলাদা করে তোলে। ধারাবাহিক সেই পারফরম্যান্স দেখিয়েই একসময় আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়েন।
২০২২ সালে ফিনালিসিমাকে সামনে রেখে ইতালি ও আর্জেন্টিনা—দুই দেশ থেকেই ডাক পান সেনেসি। সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেননি। জন্মভূমির জার্সিই বাছেন তিনি। পরে এক সাক্ষাৎকারে জানান, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাই ছিল তাঁর স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের প্রথম স্পর্শ আসে এস্তোনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে, জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় তাঁর।
তবে এরপর গল্পটা খুব একটা সহজ ছিল না। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দলে জায়গা হয়নি, ২০২৪ কোপা আমেরিকায়ও কোচের আস্থা অর্জন করতে পারেননি। জাতীয় দলের বাইরে থেকে দেখেছেন সতীর্থদের সাফল্য। অনেকের ক্যারিয়ার এমন অবস্থায় থমকে যায়; কিন্তু সেনেসি অপেক্ষা করেছেন। নিজের কাজটা করে গেছেন নীরবে। সেই নীরব পরিশ্রমের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি পেলেন এবার। বালের্দির ছিটকে যাওয়া এবং নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর চোটে রক্ষণভাগে একজন বাঁ পায়ের সেন্টার-ব্যাকের প্রয়োজন ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এতেই কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখ গিয়ে থামে সেনেসির ওপর।