দুর্দান্ত গতি মেশানো ড্রিবলিংয়ের সঙ্গে গোল করার দক্ষতা দেখিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন ফ্রান্সম্যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। কাতার বিশ্বকাপে তারুণ্যের ঝান্ডা ছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাঁধে। তবে আলো কেড়েছিলেন তরুণ দুই আর্জেন্টাইন জুলিয়ান আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্দেজ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপে ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালের ওপর থাকবে ওই আলো। তর্কসাপেক্ষে এবারের টুর্নামেন্টের সেরা ড্রিবলার এই স্প্যানিশ। ইউরো জিতে এরই মধ্যে সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়েছেন। বার্সেলোনার জার্সিতে শেষ দুই মৌসুমে ৪২ গোল করা ইয়ামালের মতো ফুটবলার আছেন বলেই স্পেনকে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট বলা হচ্ছে।
দ্যুতি ছড়ানোর চাপ থাকবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর। রাশিয়া বিশ্বকাপে উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা এই স্ট্রাইকার কাতারে ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। ফাইনালে হারলেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। গোল্ডেন বুট উঠেছিল তাঁর হাতে। দুই বিশ্বকাপে ১২ গোল করা ফরোয়ার্ড রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে সদ্য শেষ মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন। ২৭ বছরেই লেস ব্লুজদের জার্সিতে ৫৬ গোল করা ফ্রান্স ফরোয়ার্ড বয়স, ফর্ম, ফিটনেস এবং ব্যক্তিগত ও দলীয় অভিজ্ঞতা মিলিয়ে এবারের টুর্নামেন্টের সেরা তারকা। যদিও মৌসুমে শিরোপা সাফল্য তারই সতীর্থ উসমান ডেম্বেলের পক্ষে গেছে। ক্লাবের ৪০ ম্যাচে ২০ গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লিগ ওয়ান জিতেছেন তিনি।
‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ।’ কথাটা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির সঙ্গে মিলে যায়। রাশিয়া বিশ্বকাপের পর তাদের খেলে যাওয়া নিয়ে সংশয় ছিল। কাতার বিশ্বকাপেই ‘শেষ’ লিখে দেওয়া হয়েছিল। অথচ ৪১ বছর বয়সেও বিশ্বকাপ শিরোপার পানে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে আছেন সিআরসেভেন। তাঁর দল পর্তুগালকে আসরের ডার্ক হর্স বলা হচ্ছে। অতীতের ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে হলে দ্যুতি ছড়াতে হবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ (১৪৩) গোলদাতাকে। ইউরোপ জয় করে সৌদি প্রো লিগ মাতাচ্ছেন তিনি। ক্লাব জার্সিতে মৌসুমে ৩০ গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাকে বুড়ো ভাবলে প্রতিপক্ষ ভুল করবে।
‘ও দলে থাকলে প্রতিপক্ষের সব কৌশল ওলট-পালট হয়ে যায়’। কথাটা মেসিকে নিয়ে বলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। জাতীয় দল ও ক্লাবের জার্সিতে বহুবার কথাটা প্রমাণ করেছেন তিনি। আটটি ব্যালন ডি’অর এবং ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বজয়ী মেসির কাঁধে এখনো আকাশি-সাদার ভার। তরুণ-অভিজ্ঞ মিলিয়ে বিশ্বকাপে দারুণ এক দল নিয়ে হাজির আর্জেন্টিনা। তবু মেসি আছেন বলেই বিশ্বকাপের টপ ফেভারিট আলবিসেলেস্তেরা।
ওই অর্থে নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে সেলেকাও ভক্তদের মধ্যে তেমন উচ্ছ্বাস নেই। গত চারটা বছরের অধিকাংশ সময় ইনজুরিতে কাটিয়েছেন তিনি। তিন বছর ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চড়াতে পারেননি। বিশ্বকাপেও এসেছেন পায়ের ব্যথা নিয়ে। তবে ফিট হয়ে ফিরতে পারলে সাবেক বার্সা-পিএসজি তারকার দিকেই আলো চলে যাবে। নেইমার না থাকলে ব্রাজিলের ব্যাটন টানতে হবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে। ক্লাবে দারুণ ছন্দে থাকলেও জাতীয় দলের জার্সিতে তার পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক নয়। যদিও কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো ভালো গেছে ভিনির। ক্লাবের পারফরম্যান্স রাফিনিয়াও টানতে পারেননি দেশের জার্সিতে। মাঠে ফিরে নেইমারকেই তাই নিতে হবে দ্যুতি ছড়ানোর দায়িত্ব।
তালিকায় রাখতে হবে ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকেও। গোল করার সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা ও ক্লাব মৌসুম মিলিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা বিশেষজ্ঞ সেন্টার ফরোয়ার্ড তিনি। বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে সদ্য শেষ মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। রাশিয়া বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী তিনি। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড সাফল্যের বড় নির্ধারক হবেন দেশটির সর্বাধিক গোলদাতা (৭৯) কেইন।