এবারের আর্জেন্টাইন দলটি তারুণ্য ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মিশেলে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। আলবিসেলেস্তে এবারের টুর্নামেন্টে বিশ্বকাপ ট্রফি জেতার অন্যতম দাবিদার হতে পারে। যদিও তা সহজ হবে না, এটা নিশ্চিত। কিন্তু আমার মতে, আর্জেন্টিনা এমন দলগুলোর অন্যতম, যারা সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিরোপা জিততে সক্ষম। কোচ স্কালোনি চমৎকার একটি দল গড়েছেন। টুর্নামেন্টে ফ্রান্স ও স্পেনের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা অন্যতম ফেভারিট।
অনেকেই প্রশ্ন করেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সেরা খেলোয়াড় সম্পর্কে। মেসি ও ম্যারাডোনার মধ্যে কে সেরা– সেই বিতর্কে যেতে চাই না আমি। এই প্রসঙ্গে আলোচনাও অহেতুক মনে করি। আসলে মেসির সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। সে সর্বকালের সেরা। কিন্তু ফুটবল মানেই হচ্ছে দিয়েগো। ফুটবলের সঙ্গে আনুষঙ্গিক যেসব বিষয় যায়, সব ম্যারাডোনার ছিল। যেমন– ক্যারিশমা, ব্যক্তিত্ব এবং আমি কখনোই তাঁকে একবারের জন্যও কোনো সতীর্থকে আক্রমণ করতে শুনিনি। সে ছিল সত্যিকারভাবে দলের জন্য নিবেদিত একজন দলীয় খেলোয়াড়। সবকিছু মিলিয়ে মেসি ও ম্যারাডোনার মধ্যে তুলনা চলে না। তারা আর্জেন্টাইন ফুটবল আকাশের উজ্জ্বল দুই নক্ষত্র।
দিয়েগো (ম্যারাডোনা) আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি ছিলেন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সতীর্থ এবং তাঁর মধ্যে লড়াই করার প্রবল ইচ্ছা ছিল। মাঠে ও মাঠের বাইরে সবাই তাঁকে সম্মান করতেন। যে পরিস্থিতিই হোক, তিনি সব সময় মনখুলে কথা বলতেন। সেই সময়েই আমরা তাঁর মহত্ত্ব দেখে মুগ্ধ হতাম। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং কখনও নিজেকে নিয়ে বা দলে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে ঢাকঢোল পেটাতেন না। বিশ্বকাপে আমি দিয়েগোর রুমমেট হতে পেরে ভাগ্যবান ছিলাম বলতে হবে।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে আমরা ভাবতেই পারিনি দিয়েগো ইংল্যান্ড গোলরক্ষক (পিটার) শিল্টনকে পরাস্ত করতে সক্ষম হবেন। শিল্টন ছিলেন অত্যন্ত লম্বা একজন খেলোয়াড় এবং তিনি যখন গোলপোস্টের নিচে দুই হাত প্রসারিত করতেন, তখন গোল করা খুবই দুরূহ ছিল। আর দিয়েগো ছিল এমনকি আমার চেয়েও খাটো। আমি এখনও বুঝে উঠতে পারি না সে কী করে ওমনভাবে লাফিয়ে উঠে শিল্টনকে পরাস্ত করতে সক্ষম হলো। ওই গোলটি হ্যান্ডবল ছিল কিনা, সে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না। আমি ভেবেছিলাম, তাঁর সব গোলই অনিন্দ্যসুন্দর। কিন্তু তাঁর ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ছিল অতিমানবীয় কিছু। নিজেদের সীমানা থেকে প্রতিপক্ষের একের পর এক খেলোয়াড়কে পরাস্ত করে গোল করা অধিকাংশ খেলোয়াড়ের জন্য এটা প্রায় অসম্ভব হতো। কারণ, তাঁকে একই সঙ্গে ক্রমাগত নিজের পা, বল এবং প্রতিপক্ষের দিকে নজর দিতে হতো। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ আসর বসতে যাচ্ছে। মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনা দলের জন্য অসাধারণ। তাদের ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন ছিল চমৎকার।