সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি প্রায় ভরা। একে তো ওয়ানডে ম্যাচ, তার ওপর সকালে খেলা হওয়ায় সর্বশেষ কয়েক সিরিজে খুব বেশি দর্শক হয়নি গ্যালারিতে।

কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার ভিন্ন চিত্রই দেখা গেল। বৃষ্টিতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পরও গ্যালারিতে দর্শকসংখ্যা বেড়েছে। তারা এসেছিল ইতিহাসের সাক্ষী হতে। চোখে-মুখে তৃপ্তি নিয়েই মাঠ ছাড়তে পেরেছে এই সমর্থকরা।
যাওয়ার সময় খণ্ড খণ্ড মিছিলে তারা ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকার করে স্টেডিয়াম এলাকা মুখরও করে তোলে। কারণ গতকাল অজিদের বিপক্ষে ইতিহাস গড়েছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবার দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। সেটিও নিজেদের ঘরের মাঠে, এক ম্যাচ হাতে রেখেই।
 

সকালের সূর্য দেখেই নাকি দিনটা কেমন যাবে, তা বোঝা যায়! টস হেরে ফিল্ডিং করতে নামা স্বাগতিকরা খেলার শুরুতে তেমন আভাসই দেয়। গ্যালারিতে তখন খুব বেশি দর্শকও প্রবেশ করেনি। যারা এসেছিল, তারাও পছন্দমতো বসার জায়গা খুঁজে পাওয়ার আগেই ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনে। শূন্য রানে সফরকারীদের তিন উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার স্কোরবোর্ডে কোনো রান না করেই ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

২০০৩ সালের পর এই প্রথম এমন ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব ক্রিকেট। শুরুতে ফেরেন ম্যাথু শর্ট। প্রথম ওয়ানডের মতো গতকালও তাসকিনের করা প্রথম ওভারে বোল্ড হন এই ওপেনার। পরের ওভারে জোড়া আঘাত মুস্তাফিজের। এই বাঁহাতি পেসারের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন কুপার কনোলি। নতুন ব্যাটার ম্যাট রেনশ’ ওই ওভারে আর ঝুঁকি নিতে চাননি। এ জন্য পরের চার বল ডট দেন। তবে শেষ বলে রেনশ’কে বোকা বানিয়ে উইকেট আদায় করে নেন মুস্তাফিজ। 

শূন্য রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক জস ইংলিশ ও অ্যালেক্স ক্যারি। তবে এই জুটিকেও বড় হতে দেননি মুস্তাফিজ। ক্যারিকে ১৩ রানে থামিয়ে ২৫ রানের জুটি ভাঙেন তিনি। এরপর ইংলিশ ৩৪ এবং ক্যামেরুন গ্রিন ২৫ রান করে আউট হলে ৮১ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে আবার অল্পতেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে অজিরা। তবে এই উইকেটে যে থিতু হলে রান করা যায়, সেটি বুঝিয়ে দেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। দেখেশুনে খেলে ১০৩ রানের জুটিতে ফিফটি করেন দুজনই। এই জুটিতে যখন ২০০ ছাড়ানোর অপেক্ষায় সফরকারীরা, তখন আক্রমণে এসে জোড়া আঘাত তাসকিনের। ৪১তম ওভারে শুরুতে বার্টলেটকে (৫২) এবং পরে অ্যাডাম জাম্পাকে (০) আউট করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। পরের ওভার শেষে যখন বৃষ্টি শুরু হয়, তখন আট উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৮৭ রান। ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন লাবুশেন। কিন্তু মাঠ যতক্ষণে খেলার উপযোগী হয়, তখন আবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ ছিল না অজিদের। পরে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় বাংলাদেশের সামনে।

নাগালের মধ্যে থাকা রান তাড়ায়ও শুরুতে ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বোলার বার্টলেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামেন ওপেনার তানজিদ হাসান। একই ওভারে তানজিদের মতোই ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেনও। তবে এবার ধরতে পারেননি সফরকারী দলের পেসার। শেষ বলে এলবিডব্লিউর আবেদনে সফলও হয় অজিরা। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বাঁচেন নাজমুল। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সাইফ হাসানের পরিবর্তে একাদশে ফেরা সৌম্য সরকারকে নিয়ে হাল ধরেন তিনি। কিন্তু বেশ নড়বড়ে ছিলেন সৌম্য। দুইবার ক্যাচ দিয়ে বাঁচেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। পরে অবশ্য থিতুও হন। গড়েন ৮৬ রানের জুটি; কিন্তু রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ৪২ রানে থামেন সৌম্য। একটু পর নাজমুলও ফেরেন ৪১ রানে। এতে ১০০ রানের আগে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ। এই চাপ আরো বাড়িয়ে দ্রুত আউট হন লিটন দাস (২১) ও মোসাদ্দেক হোসেন (১৫)। তবে বিপদে পড়তে হয়নি স্বাগতিকদের। ষষ্ঠ উইকেটে তাওহিদ হৃদয় (৪০) এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের (২২) অবিচ্ছেদ্য ৫১ রানের জুটিতে ৪২ বল আগেই ম্যাচ জেতার পাশাপাশি সিরিজও জেতে বাংলাদেশ দল। এই নিয়ে ঘরের মাঠে টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ জিতলেন মিরাজরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এত দিন সিরিজ জয়ের অপূর্ণতাও ঘুচল তাতে। এখন বাকি রইল শুধু ইংল্যান্ড!

অস্ট্রেলিয়া : ৪২ ওভারে ১৮৭/৮

বাংলাদেশ : ৩৫ ওভারে ১৯৫/৫

ফল : বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা : মুস্তাফিজুর রহমান

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com