মধ্যে এশিয়ান-আফ্রিকানদের পাশাপাশি আমেরিকানরাও ছিল দলে দলে। প্রায় সব বয়সী মানুষই নিয়েছিল বাস্কেটবল দলের জার্সির সজ্জা। কারো হাতাকাটা, কারো স্রেফ সাদা টি-শার্টের ওপর দলটির লোগো, কেউ অফিসের শার্টের ওপরই জড়িয়েছে প্রিয় দলের জার্সি। নিক্স ৫৩ বছর পর আমেরিকান বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ) শিরোপার খুব কাছে।নিউইয়র্কজুড়ে এখন ১৬ জুন সেখানকার যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ার শঙ্কা নিয়ে আলোচনা। নিউইয়র্কে সেদিন সাত ম্যাচের ফাইনালের ষষ্ঠ ম্যাচটি হবে। একই দিনে নিউজার্সিতে ফিফা বিশ্বকাপের ফ্রান্স-সেনেগাল ম্যাচ, রাত ৮টায় মেডিসন স্কয়ারে এনবিএ ফাইনালস।
মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ম্যাচে পরশু রাতে টেইলর সুইফটের মতো তারকা গলা ফাটিয়েছেন নিক্সের জন্য। অ্যারেনার বাইরে পুরো ম্যানহাটানে দেখা গেছে ‘ওয়াচ পার্টি’। রাস্তা বন্ধ করে বেশ কয়েকটি জায়গায় খেলা দেখার ব্যবস্থা তো ছিলই, বার-পাবগুলোতেও ম্যাচ উপলক্ষে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সাতটি ফাইনালের তিনটিতেই জেতা মানে শিরোপা থেকে নিক্স আর মাত্র একটি জয় দূরে আছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও কথা বলতে হয়েছে এটি নিয়ে। তাতে বিশ্বকাপের বিশালতা তুলে ধরতেও তিনি অবশ্য সময় নেননি, ‘আমি জানি না কতজন এনবিএ ফাইনালস দেখবে টিভিতে, ১০ মিলিয়ন? আর বিশ্বকাপ দেখবেন ছয় বিলিয়ন মানুষ। তাই বিশ্বকাপ খুবই, খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট এনবিএ ফাইনালসের চেয়ে।’ আমেরিকানদের জন্য অবশ্য হিসাবটা আলাদা। ভাবা যায়, মিক্সড মার্শাল আর্ট ইউএফসির (আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ) এবারের আসর বসতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউসের লনে। আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১৪ জুন এই আয়োজন, সেদিন আবার ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও জন্মদিন। ট্রাম্প শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচটিতেও থাকবেন।
ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের দল এই আসরে কেমন করে, তার ওপরও হয়তো আমেরিকানদের বিশ্বকাপ উন্মাদনা অনেকটা নির্ভর করবে। চমক দেখিয়ে টুর্নামেন্টের যত গভীরে যেতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র, যদি যায় সেমিফাইনাল, আমেরিকানদের তখন সকার নিয়েও উন্মাদনাটা নিশ্চয়ই দেখার মতো হবে। নিউইয়র্ক সিটির বেশ কয়েকটি ফ্যান জোনে কনসার্টসহ নানা আয়োজন থাকছে। তবে মাঠের খেলায় একবার জয়ের স্বাদ পেলে জাতীয়তাবোধই নিশ্চিত টেনে নিয়ে যাবে আমেরিকানদের। নিউজার্সিতে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচ নেই। তাদের দুটি খেলা লস অ্যাঞ্জেলেসে, সিয়াটলে অন্যটি। বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা সাফল্য ২০০২ সালের আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন ল্যান্ডন ডোনোভানের প্রথম বিশ্বকাপ ছিল সেটি। ইউরোপ মাতানো পুলিসিকের হাত ধরে আমেরিকানরা এবার সেই অর্জন ছাপিয়ে যেতে পারলে তা বড় ঘটনাই হবে।
বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপছে যখন পুরো বিশ্ব, তখন কেবল আমেরিকানরাই পারে এর উত্তাপ থেকে দূরে থেকে অন্য কিছু নিয়ে মগ্ন থাকতে। বুধবার এনবিএ ফাইনালসের দিনটিকে যেমন ‘কমলা-নীল দিবস’ ঘোষণা দেন মেয়র জোহরান মামদানি। অথচ শহরের অদূরেই পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল অনুশীলন করছে। বেসবল, বাস্কেটবলের মোহ থেকে সকারে আবিষ্ট হতে তাই হয়তো বড় সাফল্যই লাগবে তাদের।