ইউরিক এসিড মূলত আমাদের হাড় ও কিডনির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হলে এবং কিছুটা রাশ টানলেই এই জটিল সমস্যা এড়ানো সম্ভব। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, রক্তে ইউরিক এসিড বৃদ্ধির প্রাথমিক উপসর্গ সম্পর্কে অনেকেরই তেমন কোনো স্বচ্ছ ধারণা নেই। অনেকের পায়ে প্রচণ্ড ব্যথার কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়, যা অনেক সময় বাত ভেবে ভুল করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় উচ্চ মাত্রায় ইউরিক এসিড জমে হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা ও প্রদাহ সৃষ্টির এ অবস্থাকে বলা হয় ‘হাইপারইউরিসেমিয়া’। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন বা থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। এ ছাড়া যারা নিয়মিত মদ্যপান করেন, তাদের রক্তেও ইউরিক এসিডের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে।
এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা, তা বোঝার উপায় হলো কিছু সুনির্দিষ্ট শারীরিক লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখা। প্রথমত, ইউরিক এসিডের সমস্যা বাড়লে প্রস্রাব করার সময় অনেকেরই তীব্র জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। এই অস্বস্তি বা জ্বালা অনেক ক্ষেত্রে এতটাই বেশি হয় যে রোগী প্রস্রাব করতে ভয় পান। দীর্ঘ মেয়াদে এটি কিডনিতে পাথর সৃষ্টির কারণ হতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবে তীব্র দুর্গন্ধ হওয়াও এই রোগের একটি পরিচিত লক্ষণ। দ্বিতীয়ত, শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে পিঠের নিচের দিকে, তলপেটে কিংবা কুচকিতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তৃতীয়ত, রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে বারবার প্রস্রাব পাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। কারণ, আমাদের কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড ছেঁকে বের করে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা করে। এই ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা ছাড়াও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত হতে পারে। এমনকি এটি ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআইর ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।
লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক