সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও ট্রেজারি বিল চালুর সিদ্ধান্ত

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে
দেশে ইসলামিক অর্থায়নের পরিধি বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সুদবিহীন শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও ইসলামিক ট্রেজারি বিল চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ। সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরো বৈচিত্র্যময় ও ব্যয়সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগের ফলে ইসলামী শরিয়াহ অনুসরণকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থ বিভাগের নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিডিএমসি) সাম্প্রতিক সভায় এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আগামী বছরের শুরুতেই নতুন এই সঞ্চয়পত্র ও ট্রেজারি বিল বাজারে আসতে পারে। রাজস্ব আয় দিয়ে সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটানো সম্ভব না হওয়ায় প্রতিবছর দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়।

স্থানীয় ঋণের বড় অংশ আসে ট্রেজারি বিল থেকে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিলের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় সরকারের সুদ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ব্যয় কমাতে শরিয়াহভিত্তিক ট্রেজারি বিল ও সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে অর্থ বিভাগ। 

এর আগে ২০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি ইসলামিক ট্রেজারি বিল ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। 

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগের চাহিদা অনেক বেশি হলেও বিনিয়োগযোগ্য পণ্যের সংখ্যা সীমিত। এখন পর্যন্ত ছয়টি সরকারি সুকুক ইস্যু করা হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাহিদা বরাদ্দের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ছিল। সর্বশেষ পাঁচ হাজার ৯০০ কোটি টাকার সুকুকের বিপরীতে ৭২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়ে, যা নির্ধারিত পরিমাণের প্রায় ১২ গুণ।

সরকারের ধারণা, শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র চালু হলে ইসলামী বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

একই সঙ্গে সরকারের জন্যও এটি তুলনামূলক কম ব্যয়ে অর্থ সংগ্রহের একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের পেশ করা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি পূরণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য আছে। 

চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) নিট বিক্রি হয়েছে ঋণাত্মক ৫৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই আট মাসে যত টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, মেয়াদপূর্তি এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভেঙে ফেলার কারণে তার চেয়ে ৫৫৫ কোটি টাকা বেশি ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে। এর মানে, বাজেটের ঘাটতি পূরণে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে কোনো টাকা নিতে পারছে না। উল্টো বাড়তি টাকা খরচ করে সঞ্চয়পত্রের ভাঙানো টাকার জোগান দিতে হচ্ছে।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com