সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আগামী বছরের শুরুতেই নতুন এই সঞ্চয়পত্র ও ট্রেজারি বিল বাজারে আসতে পারে। রাজস্ব আয় দিয়ে সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটানো সম্ভব না হওয়ায় প্রতিবছর দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়।
স্থানীয় ঋণের বড় অংশ আসে ট্রেজারি বিল থেকে।
এর আগে ২০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি ইসলামিক ট্রেজারি বিল ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগের চাহিদা অনেক বেশি হলেও বিনিয়োগযোগ্য পণ্যের সংখ্যা সীমিত। এখন পর্যন্ত ছয়টি সরকারি সুকুক ইস্যু করা হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাহিদা বরাদ্দের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ছিল। সর্বশেষ পাঁচ হাজার ৯০০ কোটি টাকার সুকুকের বিপরীতে ৭২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়ে, যা নির্ধারিত পরিমাণের প্রায় ১২ গুণ।
সরকারের ধারণা, শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র চালু হলে ইসলামী বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) নিট বিক্রি হয়েছে ঋণাত্মক ৫৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই আট মাসে যত টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, মেয়াদপূর্তি এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভেঙে ফেলার কারণে তার চেয়ে ৫৫৫ কোটি টাকা বেশি ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে। এর মানে, বাজেটের ঘাটতি পূরণে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে কোনো টাকা নিতে পারছে না। উল্টো বাড়তি টাকা খরচ করে সঞ্চয়পত্রের ভাঙানো টাকার জোগান দিতে হচ্ছে।