সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

৩৭.৫% পুরুষ ভুগছেন কোনো না কোনো যৌন সমস্যায়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে বন্ধ্যত্বের শিকার প্রতি তিনজন পুরুষের মধ্যে অন্তত একজন কোনো না কোনো যৌন সমস্যায় ভুগছেন। তবে নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যার হার তুলনামূলক কম হলেও তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ, মানসিক বিষণ্ণতা এবং পারিবারিক বা সম্পর্কগত সংকটের প্রভাব অনেক বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ও বারডেম উইমেনস অ্যান্ড চিলড্রেন হাসপাতালের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি ‘সেক্সুয়াল মেডিসিন’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। বিএমইউর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে বিএমইউ এবং বারডেম উইমেনস অ্যান্ড চিলড্রেন হাসপাতালের ইনফার্টিলিটি (বন্ধ্যত্ব) বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত মোট ৬৫৮ জন নারী-পুরুষ অংশ নেন; যার মধ্যে ৩২০ জন পুরুষ এবং ৩৩৮ জন নারী ছিলেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত পুরুষদের ৩৭.৫ শতাংশের অন্তত একটি যৌন সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩.৭ শতাংশ উত্থানজনিত সমস্যায় (ইরেকটাইল ডিসফাংশন) এবং ১৩.১ শতাংশ অকাল বীর্যপাতের সমস্যায় ভুগছেন। অন্যদিকে নারীদের মধ্যে যৌন সমস্যার হার ১৩.৯ শতাংশ।

 

গবেষকদের মতে, এই ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ায় প্রচলিত ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।সমাজে বন্ধ্যত্বের দায় সাধারণত নারীর ওপর চাপানো হলেও যৌন স্বাস্থ্যগত জটিলতায় পুরুষরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গবেষণায় এ ঘটনাকে ‘জেন্ডার প্যারাডক্স’ বা লিঙ্গভিত্তিক বৈপরীত্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণার প্রধান গবেষক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শামসুল আহসান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের আগে কোনো যৌন সমস্যা ছিল না, বন্ধ্যত্ব নির্ণয়ের পর তাঁদের মধ্যে নতুন করে সমস্যা তৈরির ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে এ প্রবণতা বেশি।

তিনি বলেন, বন্ধ্যত্ব নির্ণয়ের পর অনেক নারীর ক্ষেত্রে যৌনমিলনের আগ্রহ ও হার বেড়ে যায়। কারণ তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় সন্তান লাভ। ফলে সম্পর্কের আবেগিক দিকটি আড়ালে চলে যায়, গুরুত্ব পায় সন্তান নেওয়ার বিষয়টি। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে যৌনমিলনের হার কমে যেতে দেখা যায়, যা দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান নেওয়ার সামাজিক চাপ, পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের প্রত্যাশা এবং নির্দিষ্ট সময়ে যৌনমিলনের বাধ্যবাধকতা পুরুষদের মধ্যে মানসিক চাপ ও কর্মক্ষমতাসংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিক দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতা অনেক ক্ষেত্রে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে ‘সন্তান নেওয়ার প্রকল্পে’ রূপ নেয়।

নারীদের মধ্যে বেশি দাম্পত্য অশান্তি

যৌন সমস্যার হার কম হলেও বন্ধ্যত্বের মানসিক ও সামাজিক প্রভাব নারীদের ওপর বেশি পড়ছে। গবেষণায় দেখা যায়, বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত নারীদের ৩৪ শতাংশ বৈবাহিক অশান্তি বা সম্পর্কগত সংকটে ভুগছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ১৭.২ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় সন্তান না হওয়ার দায় এখনো অনেক ক্ষেত্রেই নারীর ওপর চাপানো হয়। ফলে তাঁরা সামাজিক অপবাদ, পারিবারিক চাপ এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রশ্নের মুখে বেশি পড়েন। এসব কারণে তাঁদের মানসিক চাপ বাড়ে এবং দাম্পত্য জীবনে অসন্তোষ তৈরি হয়। তবে একই সঙ্গে দেখা গেছে, নারীরা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে তুলনামূলক বেশি উদ্যোগী। তারা পারিবারিক আলোচনা, যৌথ কর্মকাণ্ড এবং সম্পর্ক রক্ষার প্রচেষ্টায় বেশি সক্রিয় থাকেন। অর্থাৎ সম্পর্কে অসন্তোষ থাকলেও সেটি ধরে রাখার জন্য অতিরিক্ত চেষ্টা করেন।

গবেষণায় যৌন স্বাস্থ্য ও দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যাঁদের যৌন জীবন স্বাভাবিক, তাদের মধ্যে দাম্পত্য সন্তুষ্টি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বেশি। বিপরীতে যৌন সমস্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের মান কমতে দেখা গেছে।

বিশেষ করে অকাল বীর্যপাতের সমস্যার সঙ্গে বৈবাহিক অশান্তির উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, যৌন ঘনিষ্ঠতা কমে গেলে দম্পতির মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়, যা দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্কের স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন মানসিক সহায়তাও

গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মতো সমাজে সন্তানহীনতা শুধু চিকিৎসাগত বিষয় নয়; এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানসিক বাস্তবতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। ফলে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসাকে শুধু ওষুধ, পরীক্ষা বা সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।

ডা. শামসুল আহসান বলেন, ‘বাংলাদেশে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অথচ রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও যৌন স্বাস্থ্যের বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। আমরা যদি চিকিৎসাকে সফল করতে চাই, তাহলে ওষুধের পাশাপাশি দম্পতিদের মানসিক ও যৌন স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।’

তার মতে, নিয়মিত যৌন স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, মনোসামাজিক সহায়তা এবং দম্পতিভিত্তিক কাউন্সেলিং যুক্ত করা গেলে শুধু মানসিক চাপই কমবে না, বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার সাফল্যের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

গবেষকদের ভাষ্য, বন্ধ্যত্ব একটি জৈবিক সমস্যা হলেও এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে মানুষের মন, সম্পর্ক ও যৌন জীবনে। তাই এ সমস্যার সমাধানও হতে হবে সমন্বিত—যেখানে চিকিৎসার পাশাপাশি সমান গুরুত্ব পাবে মানসিক ও দাম্পত্য সুস্থতা।

#পুরুষ #বাংলাদেশ

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com