সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মা সব সন্তানের দায়িত্বও সবার

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে
মায়েদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রদর্শন অপরিহার্য। জীবনে চলার পথে প্রতিটি মুহূর্তে সন্তানের সঙ্গী মায়ের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ।

একজন নারীর মা হয়ে ওঠার যাত্রার শুরু কৈশোরে। বয়ঃসন্ধিকালের পুষ্টির ঘাটতির ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দেয় গর্ভধারণের পর, দেখা দেয় নানা শারীরিক জটিলতা। আগামী দিনের মায়েদের যত্ন তাই কিশোর বয়স থেকেই শুরু করতে হবে। একজন গাইনি চিকিৎসক হিসেবে অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই, আমাদের সমাজে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের পরিবারগুলোতে অনেক সময় ছেলে আর মেয়ে শিশুর যত্নে বৈষম্য করা হয়।
কিশোরীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয় না। অথচ এ সময় থেকেই আয়রনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হয় নারীদের; তা না হলে গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। 

মাতৃত্বের মাধ্যমে নারীর জীবনে শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়। শরীর, মন ও দৈনন্দিন জীবনে আসে ছোট-বড় পরিবর্তন।

গর্ভধারণের পর থেকেই একজন মায়ের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। গর্ভের শিশু ও মায়ের প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি, মানসিক প্রশান্তি এবং পরিবারের আন্তরিক সহযোগিতা। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও রক্তস্বল্পতার মতো অনেক জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে এই জটিল সমস্যাগুলো সময়মতো শনাক্ত করা গেলে মা ও শিশুকে অনেক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। গর্ভবতী নারীর জন্য সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত সুপেয় পানি, ঘুম ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা পরিবারের সবার দায়িত্ব।
 

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অনেক নারী ভোগেন পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশনে। মানসিক দুর্বলতা, চাপ ও বিষণ্নতায় ভোগেন তিনি। এই ক্রান্তিলগ্নে মায়ের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, মানসিক সহযোগিতা দেওয়া এবং প্রয়োজনে মানসিক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া পরিবারের সবার কর্তব্য।

একজন নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মধ্যবয়সে যখন নারীরা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার (মেনোপজ) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান, তখন তাঁদের শরীরে বিভিন্ন হরমোনের তারতম্য ঘটে, যা তাঁদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। হাড়ক্ষয়, খিটখিটে মেজাজ এবং ঘুমের ব্যাঘাত মেনোপজের অন্যতম উপসর্গ। এ সময়ও নারীদের প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন। সপ্তাহে দুই দিন লাল-হলুদ রঙিন শাক-সবজি খাওয়ার পাশাপাশি পান করতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি। চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে হাড়ক্ষয় কিছুটা প্রতিরোধ হয়। নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে হাড়ক্ষয় ও অন্যান্য সমস্যাও লাঘব হবে। প্রতিদিন ভোরে ১৫-২০ মিনিট রোদে বসার অভ্যাস করা জরুরি, এতে মিটবে ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি।

বৃদ্ধ মায়েরা একাকিত্বে ভোগেন। এটি তাঁদের মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল করে। তাই আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে উৎসাহিত করা উচিত, যাতে কোনোভাবেই একাকিত্ব তাঁদের গ্রাস না করে। মনে রাখতে হবে, মায়েরা তাঁদের পরিবারের শক্তি, ভালোবাসা ও ভরসার জোগানদাতা। তাঁদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যৎ সুস্থ প্রজন্ম।

 

লেখক : প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং গাইনি ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন

অধ্যাপক, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ

ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com