মাতৃত্বের মাধ্যমে নারীর জীবনে শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়। শরীর, মন ও দৈনন্দিন জীবনে আসে ছোট-বড় পরিবর্তন।
সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অনেক নারী ভোগেন পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশনে। মানসিক দুর্বলতা, চাপ ও বিষণ্নতায় ভোগেন তিনি। এই ক্রান্তিলগ্নে মায়ের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, মানসিক সহযোগিতা দেওয়া এবং প্রয়োজনে মানসিক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া পরিবারের সবার কর্তব্য।
একজন নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মধ্যবয়সে যখন নারীরা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার (মেনোপজ) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান, তখন তাঁদের শরীরে বিভিন্ন হরমোনের তারতম্য ঘটে, যা তাঁদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। হাড়ক্ষয়, খিটখিটে মেজাজ এবং ঘুমের ব্যাঘাত মেনোপজের অন্যতম উপসর্গ। এ সময়ও নারীদের প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন। সপ্তাহে দুই দিন লাল-হলুদ রঙিন শাক-সবজি খাওয়ার পাশাপাশি পান করতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি। চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে হাড়ক্ষয় কিছুটা প্রতিরোধ হয়। নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে হাড়ক্ষয় ও অন্যান্য সমস্যাও লাঘব হবে। প্রতিদিন ভোরে ১৫-২০ মিনিট রোদে বসার অভ্যাস করা জরুরি, এতে মিটবে ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি।
বৃদ্ধ মায়েরা একাকিত্বে ভোগেন। এটি তাঁদের মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল করে। তাই আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে উৎসাহিত করা উচিত, যাতে কোনোভাবেই একাকিত্ব তাঁদের গ্রাস না করে। মনে রাখতে হবে, মায়েরা তাঁদের পরিবারের শক্তি, ভালোবাসা ও ভরসার জোগানদাতা। তাঁদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যৎ সুস্থ প্রজন্ম।
লেখক : প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং গাইনি ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন
অধ্যাপক, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ
ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল