সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ঈদ: আনন্দে ভরা তারকাদের স্মৃতির ভাণ্ডার

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবার আর ভালোবাসার এক অনন্য উৎসব। এই আনন্দে ভাসে পুরো দেশ। শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও এর বাইরে নন। কেউ ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে, কেউ পরিবারের সঙ্গে কাটান ব্যস্ত সময়। আবার কারও মনে উঁকি দেয় শৈশবের ঈদ, সিনেমা মুক্তির উত্তেজনা কিংবা কোরবানির পশুকে ঘিরে মায়ামাখা স্মৃতি। ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকাদের ঈদ নিয়ে আজকের আয়োজন।

 

শাবনাজ: রান্না শিখেছেন স্বামী নাঈমের কাছ থেকে
এক সময় ঢালিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি ছিলেন শাবনাজ ও নাঈম। নব্বইয়ের দশকে ঈদ মানেই ছিল এই জুটির নতুন সিনেমা। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে শাবনাজ বলেন, “ঈদের আগে আমরা খুব এক্সাইটেড থাকতাম। পোস্টার কেমন হলো, ব্যানারে ছবিগুলো কেমন এসেছে- এসব নিয়ে প্রচণ্ড কৌতূহল কাজ করত। আমি, নাঈম, সাদেক বাচ্চু ও পরিচালক মিলে রাতে হলে হলে ঘুরতাম। পরদিন প্রথম শো নিয়ে এমন টেনশন হতো যে রাতে ঘুমই আসত না।”

 

 

বিয়ের পর প্রথম ঈদ শ্বশুরবাড়ি টাঙ্গাইলে করেছিলেন তিনি। সেই স্মৃতি এখনও ভোলেননি। “গ্রামের সবাই আমাকে দেখতে এসেছিল। সকালে নিজেই রান্না করেছিলাম, যদিও তখন রান্না ভালো পারতাম না,” বলেন তিনি।

 

মজার বিষয় হলো, রান্নাটা তিনি শিখেছেন স্বামী নাঈমের কাছ থেকেই। আর নাঈমের রান্না করা গরুর পায়া এখনও তার সবচেয়ে প্রিয় খাবারের একটি।

জয়া আহসান: ছোটবেলার ঈদই ছিল আসল আনন্দ
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান বলেন, ছোটবেলায় ঈদের আনন্দ ছিল অন্যরকম। “রোজার ঈদের পর থেকেই কোরবানির ঈদের অপেক্ষা শুরু হয়ে যেত। মনে হতো, প্রতি মাসেই যদি ঈদ হতো!”
কোরবানির ঈদে দলবেঁধে বিভিন্ন বাড়িতে গরু দেখতে যাওয়ার স্মৃতি এখনও ভোলেননি তিনি। এখনকার ঈদকে কিছুটা যান্ত্রিক মনে হয় তার কাছে। “ঈদের আসল আনন্দটা আসলে ছোটবেলাতেই ছিল,” বলেন জয়া।

 

পরীমনি: গরুর সঙ্গে হয়ে যায় প্রেম
চিত্রনায়িকা পরীমনি কোরবানির পশুর প্রতি নিজের আবেগের কথা জানালেন অকপটে। “আমার ঈদের গরু হতে হবে সেরা গরু। তাই সবচেয়ে ভালো গরু কেনার চেষ্টা করি। একদিনেই গরুটার প্রেমে পড়ে যাই। ওকে গোসল করিয়ে সাজিয়ে রাখতে খুব ভালো লাগে।’

কেবল নিজের আনন্দ নয়, ঈদের বড় আনন্দ তিনি খুঁজে পান মাংস বিতরণেও। “গরিব মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করতে অনেক ভালো লাগে,” বলেন তিনি।

 

এফডিসিতে কোরবানি দেওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। “২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত এফডিসির সবার সঙ্গে কোরবানি করেছি। আমি চাই, সহশিল্পীরা যেন আনন্দ নিয়ে ঈদ করতে পারেন। তবে এখন আবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

নুসরাত ফারিয়া: কোরবানির সময় কান্না পায়
চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া এবার অনলাইনে কোরবানির গরু কিনেছেন। কারণ গরুর হাটে যাওয়ার অভ্যাস কখনও তৈরি হয়নি তার। “মানুষ কোরবানির হাটে যায়, কিন্তু আমার কখনো যেতে ইচ্ছা করেনি। গরু কোরবানি দেওয়ার সময় খুব কষ্ট হয়, কান্না পায়। ছোটবেলায় ঈদের দিন শুরু হতো কান্না দিয়ে,”-বলেন তিনি।

 

আঁচল আঁখি: বোরখা পরে গরুর হাটে
চিত্রনায়িকা আঁচল আঁখি জানান, গরুর হাটে যেতে তার বেশ ভালো লাগে। তবে পরিচিতি এড়াতে বোরখা পরে হাটে যান। “বেশি মোটাতাজা গরু পছন্দ করি না। চর্বি বেশি থাকে। লাল রঙের গরু আমার বেশি পছন্দ, আর গরুর স্বাস্থ্য টাইট হতে হবে,”-বলেন তিনি।

ববি: ছোটবেলার ঈদ ছিল প্রতিযোগিতার মতো
চিত্রনায়িকা ববি বলেন, “ঈদের শপিং আর গরু কেনার আনন্দ এখনও তাকে টানে। ছোটবেলার ঈদ অনেক মজার ছিল। তখন সালামি, নতুন জামা আর কার ড্রেস বেশি সুন্দর- এসব নিয়ে আলাদা প্রতিযোগিতা চলত। গরু কেনার ক্ষেত্রে লম্বা-চওড়া গরুই বেশি পছন্দ।”-বলেন তিনি।

 

আইরিন: যশোরের ঈদই সবচেয়ে আপন
চিত্রনায়িকা আইরিন প্রায় প্রতি বছরই যশোরে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেন। “কোরবানির ঈদে মাকে কাজে সাহায্য করতে হয়। রান্নাবান্না আর অতিথি আপ্যায়নে সময় কেটে যায়,”-বলেন তিনি।

জাকিয়া বারী মম: নানাবাড়ির ঈদ এখনও মনে পড়ে
অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম বলেন, “ছোটবেলার ঈদ মানেই ছিল নানাবাড়ি। এখন আর সবসময় যাওয়া হয় না। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঈদের স্মৃতিগুলো এখনও খুব মনে পড়ে।”- বলেন তিনি।

মৌমিতা মৌ: এবারের ঈদে বাবাকে খুব মনে পড়বে
অভিনেত্রী মৌমিতা মৌ জানান, ঈদে কখনোই ঢাকায় থাকা হয় না তার।
“মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করব। তবে এবারের ঈদে বাবাকে খুব মিস করব। চলতি বছর বাবা না ফেরার দেশে চলে গেছেন,” বলেন তিনি আবেগঘন কণ্ঠে।

পুষ্পিতা পপি: ফ্রান্সে থেকেও মন পড়ে থাকে চাঁদপুরে
অভিনেত্রী পুষ্পিতা পপি বলেন, “ঈদ মানেই তার কাছে মা আর গ্রামের বাড়ি। “চাঁদপুরে মায়ের সঙ্গে ঈদ করা হয়। ফ্রান্সে থাকার কারণে এবার সেই আনন্দটা খুব মিস করব,”-বলেন তিনি।
ঈদের দিন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে দেখা করাটাই তার সবচেয়ে ভালো লাগে।

ঈদ বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু স্মৃতির রঙ বদলায়নি। তারকাদের এই গল্পগুলো যেন মনে করিয়ে দেয়, খ্যাতির আড়ালেও তারা আমাদের মতোই পরিবার, ভালোবাসা আর স্মৃতির মানুষ।

 

সম্পর্কিত বিষয়:

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com