মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

আরাফার রোজার বিশেষ ফজিলত

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে
নফল রোজার মধ্যে সবচেয়ে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি হলো আরাফার রোজা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে তা বিগত এক বছর এবং আগত এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দেবে।

’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২) 

উপর্যুক্ত হাদিসে ‘আরাফার দিন’ বলতে ৯ জিলহজের কথা বলা হয়েছে। ৯ জিলহজকে আরাফার দিন বলার তিনটি কারণ বিজ্ঞ আলেমরা উল্লেখ করেছেন।

এক.  ইবরাহিম (আ.) ৮ জিলহজ রাতে স্বপ্ন দেখেছেন যে তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে জবাই করছেন। কিন্তু স্বপ্নটির মর্ম সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারেননি, তাই চিন্তিত ছিলেন।

 

এরপর ৯ জিলহজ আবার ওই স্বপ্ন দেখার পর তার ব্যাখ্যা

সুস্পষ্টরূপে বুঝতে ও চিনতে সক্ষম হন। ঘটনাটির স্মরণে ৯ জিলহজকে ‘আরাফার দিন’ বলা হয়। কেননা ‘আরাফা’ শব্দের অর্থ হলো জানা ও চেনা ইত্যাদি। (তাফসিরে বাগাবি : ৭/৪৮)

দুই.  জিবরাইল (আ.) ৯ জিলহজ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হজের আমলগুলো বিস্তারিত জানিয়েছেন।

আরাফা শব্দের এক অর্থ হলো জানা, তাই ৯ জিলহজকে আরাফার দিন বলা হয়। 

(আলবিনায়া : ৪/২১১)

তিন. এই দিনে হজযাত্রীরা হজের আমল হিসেবে ‘আরাফা’ প্রান্তরে অবস্থান করেন। (আল-ইনসাফ : ৩/২৪৪)

এ আলোচনায় স্পষ্ট হলো আরাফার দিনের নামকরণের একমাত্র কারণ আরাফা প্রান্তরে অবস্থান নয়; বরং অন্য কারণও রয়েছে। তাই এই দিনকে সব দেশের ক্ষেত্রেও আরাফায় অবস্থানের সঙ্গে নির্ধারিত করা ঠিক নয়; বরং ৯ জিলহজ হলো ‘আরাফার দিন’।

এখন যে দেশে যেদিন জিলহজের ৯ তারিখ, ওই দেশের ‘আরাফার দিন’ সেটিই।

হাজিদের আরাফার ময়দানে অবস্থানের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। কেননা আগেই উল্লিখিত হয়েছে যে শুধু আরাফায় অবস্থানের কারণে এটাকে আরাফার দিন বলা হয় না। 

তাই দেশে দেশে অবস্থানরত মুসলিমরা নিজ নিজ দেশের তারিখ অনুসারে জিলহজের ৯ তারিখে রোজা রাখবে। আর এই রোজার সঙ্গে আরাফার ময়দানের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই তো হাজিদের জন্য হজ পালনের সুবিধার্থে আরাফার রোজা না রাখা উত্তম। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আরাফায় অবস্থানকালীন রোজা না রাখার বর্ণনা বিশুদ্ধ হাদিসে রয়েছে। (দেখুন বুখারি, হাদিস : ১৯৮৮)

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জনৈকা স্ত্রী স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ৯ জিলহজ তারিখে রোজা রাখতেন।’

(আবু দাউদ, হাদিস : ২৪৩৭; নাসায়ি, হাদিস : ২৩৭২)

কিছু ভুল-বোঝাবুঝির নিরসন

উপরোক্ত সুস্পষ্ট প্রমাণাদি সত্ত্বেও কিছু ভাই এই ভুল প্রচার করেন যে ‘আরাফা’র রোজা হাজিদের আরাফায় অবস্থানের দিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যদিও তা বাংলাদেশে ৮ জিলহজ! এর পক্ষে কোনো সঠিক দলিল নেই। আমরা এর আগে হাদিসটির সঠিক ব্যাখ্যা অন্য বিশুদ্ধ হাদিসের মাধ্যমেই পেশ করেছি যে হাদিসে ৯ জিলহজের কথা বলা হয়েছে।

তা ছাড়া এই ভাইদের দাবি মানা হলে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয়। নিম্নে কিছু জটিলতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

ক. আরাফার রোজা অন্য ইবাদতের মতো একটি ইবাদত। ইবাদত নিজ নিজ এলাকার সময়েই মুসলিমরা আদায় করেন। এখন যদি আরাফার রোজাকে আরবের সঙ্গে মিলিয়ে সারা বিশ্বে একই দিনে করতে হয়, তাহলে অন্য ইবাদতে ভিন্নতা কেন হবে?

খ. যদি আরাফার দিন বলতে আরবের ৯ জিলহজ অবশ্য পালনীয় হয়, তাহলে রোজার শুরু-শেষও আরবের সময়েই করা উচিত। অথচ তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কেননা যখন আরবের ৯ জিলহজ সুবহে সাদিক হবে, তখন অনেক দেশের সন্ধ্যারাত, তারা কি তখনই রোজা শুরু করবে? তদ্রুপ আরবের ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের সময় অনেক দেশের দিনদুপুর, তারা কি তখনই ইফতার করবে?

গ. পৃথিবীর অনেক দেশে আরবের এক দিন আগে চাঁদ দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে যেদিন আরবের ৯ তারিখ, ওই দিন সেসব দেশে ১০ জিলহজ তথা ঈদুল আজহা। তাদের আরবের সঙ্গে আরাফার রোজা রাখতে হলে ঈদের দিন রোজা রাখতে হবে। অথচ ঈদের দিন রোজা হারাম।

ঘ. ইসলাম শুধু একবিংশ শতাব্দীর যোগাযোগ মাধ্যমের সহজলভ্যতার ধর্মই নয়, বরং সর্বযুগের সব মানুষের ধর্ম। সে ক্ষেত্রে যারা কোনো কারণে যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে, তারা কিভাবে আরবে আরাফার দিন জানতে পারবে?

সারকথা হলো আরবে আরাফায় অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে সব দেশে আরাফার রোজা রাখা ভুল। এটি সব দেশে সম্ভবও নয়। সঠিক হলো সব দেশে অবস্থানরত মুসলিমরা দেশের তারিখ অনুসারে ৯ জিলহজ তারিখে আরাফার রোজা রাখবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com