সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ঈদে দাঁতের বাড়তি যত্ন নিন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে
ঈদ আনন্দ উদযাপনের ফাঁকে অনেকেই দাঁতের স্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, ঈদের আমেজ শেষ হতে না হতেই শুরু হয় দাঁতের শিরশিরানি, মাড়ি ফোলা বা তীব্র ব্যথা।

ঈদুল আজহায় রান্না হয় মাংসের হরেক রকম পদ, যা দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। তাই এ সময় দাঁতের সুস্থতায় সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 

 

সঠিক উপায়ে দাঁত পরিষ্কার

ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবেই মাংস বেশি খাওয়া হয়। মাংসের আঁশ খুব সহজেই দাঁতের ফাঁকে আটকে যায়।

সময়মতো পরিষ্কার না করলে এতে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে, সৃষ্টি করে মাড়ির প্রদাহ (Gingivitis) এবং দুর্গন্ধ। 

টুথপিক ব্যবহার করবেন না : দাঁতের ফাঁকে মাংস আটকে গেলে অনেকেই কাঠ বা প্লাস্টিকের টুথপিক দিয়ে তা খোঁচানোর চেষ্টা করেন। এতে মাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা হয়ে যায়। টুথপিকের পরিবর্তে ‘ডেন্টাল ফ্লস’ (Dental Floss) দিয়ে আলতোভাবে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করুন।

এটি দাঁত ও মাড়ির কোনো ক্ষতি না করেই আটকে থাকা খাবার বের করে আনে। 

 

ব্রাশ করতে ভুলবেন না

মাংস ও অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর রাতে ব্রাশ না করা অত্যন্ত ক্ষতিকর। রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে নাশতার পর অবশ্যই অন্তত দুই মিনিট ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ভালো করে ব্রাশ করতে হবে।

 

হাড়ে কামড় দেবেন না

শক্ত হাড় কামড় দিয়ে হাড়ের মজ্জা (Bone Marrow) খাওয়ার চেষ্টা করেন অনেকেই। এটি দাঁতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

অতিরিক্ত শক্ত হাড়ে কামড় দেওয়ার কারণে দাঁত ফ্র্যাকচার বা ভেঙে যেতে পারে, এমনকি দাঁতের ফিলিং কিংবা ক্যাপ থাকলে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই হাড় চিবানো থেকে বিরত থাকুন। 

 

কুলকুচি করা জরুরি

তেল-চর্বিযুক্ত ভারী খাবার খাওয়ার পর প্রতিবারই ভালো করে কুলকুচি করা উচিত। সম্ভব হলে হালকা কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করুন। এটি মাড়ির রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে এবং ব্যাকটেরিয়া জমতে দেয় না। রাতে ব্রাশ করার পর ভালো মানের অ্যালকোহলমুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।

 

মিষ্টি খাবেন সাবধানে

ঈদে মাংসের পাশাপাশি সেমাই, পুডিং বা কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া হয়। মিষ্টি ও অ্যাসিডিক খাবার দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং ক্যাভিটি বা ক্যারিজ তৈরি করে। তাই এগুলো খাওয়ার পরপরই জলদি কুলকুচি করা উচিত।

 

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

♦ মাড়ি ফুলে গেছে বা ব্রাশ করার সময় রক্ত পড়ছে

♦ দাঁতে তীব্র ব্যথা বা ঠাণ্ডা-গরম কিছু খেলে প্রচণ্ড শিরশির করছে

♦ কোনো শক্ত হাড়ে কামড় লেগে দাঁত নড়ে গেছে বা ভেঙে গেছে

এসব ক্ষেত্রে ঘরোয়া চিকিৎসা না করে দ্রুত একজন নিবন্ধিত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন। উৎসবের আনন্দ বজায় থাকুক, তবে তা যেন স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে। একটু সচেতনতা আর নিয়মিত যত্নই পারে ঈদের পরও আপনার মুখের হাসি সুন্দর ও রোগমুক্ত রাখতে।

 

লেখক : বিডিএস (ডিইউ) পিজিটি (কনজারভেটিভ)

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

কনসালট্যান্ট

ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com