পানিশূন্যতা
গরম আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়।
♦ পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করার বিকল্প নেই।
♦ চিড়ার পানি, চিড়া খাওয়া যেতে পারে।
♦ চিনি ছাড়া তরমুজ, বাঙ্গি, সিজনাল ফলের জুস।
♦ শসা, পুদিনার জুস, ডাবের পানি, লাচ্ছি, ঘোল খাওয়া যেতে পারে।
রোগীদের জন্য পরামর্শ
ঈদুল আজহায় বিভিন্ন রকমের মাংসের পদের আয়োজন থাকে। গরু, খাসি, মহিষ বা উটের মতো লাল মাংসই খাওয়া হয় বেশি।
ডায়াবেটিস
♦ ডায়াবেটিসের রোগীরা অবশ্যই মিষ্টিজাতীয় খাবার, ডেজার্ট, কোমল পানীয় এড়িয়ে চলবেন।
♦ প্রতিদিন খাবেন টক ফল, ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার।
♦ পোলাও, বিরিয়ানি কম খাবেন, লাল চালের ভাত খাবেন।
♦ গরু বা খাসির মাংসের পরিমাণ যাতে অতিরিক্ত না হয় এবং তেল বা চর্বি যেন কম থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
কিডনি রোগী
♦ ঈদের আগেই পুষ্টিবিদের পরামর্শে ডায়েট চার্ট করে নিন।
♦ প্রোটিনজাতীয় খাদ্য, যেমন—ডাল, বাদাম, বিচি, মাংস ইত্যাদি কম খান।
♦ কোনোক্রমেই অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া যাবে না।
♦ কিডনি রোগীর যদি পানি পানের নির্ধারিত মাত্রা থাকে, তবে তা মেনে চলুন।
কোষ্ঠকাঠিন্য/অ্যানালফিশার/পাইলস
অতিরিক্ত রেড মিট বা গরু-খাসির মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যায়। তাই—
♦ মাংস না খেয়ে শাক-সবজি, মাছের তরকারি, শাক, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
♦ লাউ, পেঁপে, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পটোল ইত্যাদি গরমের সবজিগুলো দিয়ে সহজপাচ্য খাবার তৈরি করুন।
♦ কোরবানির ঈদে যেহেতু প্রধান খাবার মাংস, তাই এ সময় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
♦ তোকমা, ইসবগুলের ভুসি, চিয়া সিডস খেতে পারেন।
♦ চিনি ছাড়া শরবত, ফলের রসসহ অন্যান্য তরল খাবার বেশি করে খেতে পারেন।
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস)
♦ যাঁদের আইবিএস আছে, তাঁরা শাকজাতীয়, দুগ্ধজাত ও গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। সহজপাচ্য সব খাবার খান, সব খাবার পরিমিত খান, অতিভোজন পরিহার করুন।
♦ রাতের খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে পড়বেন না। খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর বিছানায় যাবেন।
♦ খাবারের মধ্যে পানি খাবেন না, এতে হজম রসগুলো পাতলা হয়ে যায়। ফলে হজমে অসুবিধা হয়। তাই খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করুন।
মনে রাখবেন
♦ মূল সমস্যাটা খাবারের পরিমাণে। প্রচুর পরিমাণ তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার একসঙ্গে খেয়ে ফেলেন কেউ কেউ। ফলে হজমে সমস্যা হয়। নিজেকে সংযত করুন।
♦ চিনিযুক্ত কোমল পানীয় পান না করাই ভালো। পরিবর্তে চিনি ছাড়া জুস, লেবুর শরবত, বোরহানি, টক দই, পুদিনা লাচ্ছি, ডাবের পানি ইত্যাদি খেতে পারেন।
♦ নিজেকে অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত করবেন না। অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমবে।
♦ খাবার আগে পানি বা সালাদ, ফল ইত্যাদি কম ক্যালরির, সহজপাচ্য খাবার খেয়ে নিন। তাহলে কম খাওয়া হবে।
♦ মাংসে তেল বা ঘিয়ের পরিমাণ কমিয়ে অল্প আঁচে ধীরে রান্না করলে মাংসের নিজস্ব তেল বেরিয়ে আসে। এতে স্বাদও বহুগুণে বেড়ে যায়।
♦ দিনে এক বেলা মাছ খান। মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আছে, যা শরীরের জন্য খুবই জরুরি।
♦ মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি ইত্যাদি গুরুপাক খাবারের সঙ্গে প্রচুর সালাদ খাবেন। এটি হজমে সাহায্য করে। টক দই, বোরহানি, লেবুর শরবত (চিনি ছাড়া) ইত্যাদি খাবারও হজমে সহায়ক।
ব্যায়াম করতে ভুলবেন না
ঈদুল আজহায় যেহেতু অনেক মাংস খাওয়া হয়ে থাকে, তাই অবশ্যই হালকা ব্যায়াম বা কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করতে ভুলবেন না। ব্যায়াম, ইয়োগা, মেডিটেশন ইত্যাদির অভ্যাস থাকলে সেটা অব্যাহত রাখুন।
লেখক : পুষ্টিবিদ ও ডায়েটিশিয়ান
আপন হেলথকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং
উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটাল, উত্তরা, ঢাকা