ভাই ছিল তার তখন তেমন,
স্বভাব তাদের ছিল কেমন?
‘মন্দ না’।
কে বলল? কে বলল?
বলবে কে আর, বলল নাকি
ওদেরই সব মামা-মামি, কাকা-কাকি,
বাবুই-শালিক-চন্দনা।
ভাই ছিল তার তখন তেমন,
স্বভাব তাদের ছিল কেমন?
‘মন্দ না’।
কে বলল? কে বলল?
বলবে কে আর, বলল নাকি
ওদেরই সব মামা-মামি, কাকা-কাকি,
বাবুই-শালিক-চন্দনা।
হবুচন্দ্র রাজা মশায়
রাত দুপুরে মিটিং বসায়
সেই মিটিংয়ে যখন যেমন
আইন বানাল মাইরি এমন
রাজা মশায় ছেড়ে আসন
দিলেন ঝেড়ে দীর্ঘ ভাষণ,
মুচকি হেসে
বলেন শেষে :
বুঝলে গবু মন্ত্রী প্রবর
যাই বলো এই আইনটা জবর
সারকথা তার সহজ কেমন—
‘যখন যেমন তখন তেমন’।
এখন থেকে রাজ্য শাসন
চলবে নতুন আইনে
এখন থেকে আমলা-কোটাল
চাইনে আমার চাইনে,
হুকুম দিলেম আজকে থেকে
বন্ধ সবার মাইনে।
সেদিন থেকেই দেশের কাঁধে
বস্ল করে জুৎ
যখন যেমন তখন তেমন
সিন্দাবাদের ভূত।

একদিন বিবেক বাবু ডাকলেন
বললেন, শোনো, আর যা-ই করো,
তোমার চরিত্র হারিয়ো না কখনো।
শুনে আমি খানিক বিস্মিত হলাম!
বললাম, বিবেকবাবু,
আপনি তো জানেন,
মদ-জুয়া কিংবা পরকীয়া
আমার কিছুতে আসক্তি নেই।
তাহলে চরিত্র হারাব কিসে?
বিবেকবাবু হাসলেন।
বললেন, কিছু মানুষ আছে যারা
সারাক্ষণ অন্যকে খুশি করতে,
অন্যের প্রিয়পাত্র হতে মত্ত থাকে।
কারোর অপ্রিয় হওয়ার সাহস নেই,
মাথা তুলে দাঁড়াবার মেরুদণ্ড নেই।
যেমন পানি। যে পাত্রেই রাখো,
তার আকার নেয়; নিজস্বতা নেই।
যার নিজের রুচি-পছন্দ-ইচ্ছে স্বতন্ত্র,
সে কখনো সকলের প্রিয় হয় না।
আর যে সকলের প্রিয়,
তার কোনো চরিত্র নেই।

এমন দিনে যাকে মনে পড়ে পাই না তাকে কাছে
দেখি তাকে সারাক্ষণ মনে ভাবনায়
কে বলে অতীত হয়ে যায় ক্ষণ
যে আছে সাথে মননে গভীর স্মৃতিতে
সে তো বর্তমান প্রতিক্ষণ
ভবিষ্যৎ বারবার হাতে এসে বর্তমান হয়।