মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

যখন তখন ব্যথার ওষুধ নয়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

ব্যথার সমস্যা নেই এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। কারও শরীরে ব্যথা, আবার কারও ব্যথা মনে। মনের ব্যথা নিরাময়ে কার্যকর কোনো ওষুধ চিকিৎসাবিজ্ঞান উপহার দিতে না পারলেও শরীরের ব্যথা উপশমের কার্যকর ওষুধ রয়েছে অসংখ্য। অনেকেই আছেন শরীরের কোথাও ব্যথা হলেই হরহামেশা ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকেন। কিন্তু এই ব্যথানাশক ওষুধগুলোর সঠিক নির্দেশনা, সেবনের মাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা সম্পর্কে না জেনে সেবন করলে তা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে।

যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশে শুধু ব্যথানাশক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাবে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও এর চিত্র যে ভয়াবহ, তা সহজে অনুমান করা যায়। কারণ, শুধু ব্যথার জন্য, তা সে মাথাব্যথাই হোক আর গিঁটে ব্যথা, বেশির ভাগ মানুষই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ কিনে সেবন করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বিক্রির আইনগত বাধা অথবা যথেষ্ট তদারকির অভাবের মূল কারণ। কিন্তু এভাবে সঠিক নির্দেশনা না জেনে ব্যথানাশক ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার হিতে বিপরীত হতে পারে।
ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের অন্যতম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে পেপটিক আলসার বা অন্ত্রের ক্ষত এবং কিডনি বৈকল্য বা রেনাল ফেইলিওর। প্রায় ৩০ শতাংশ পেপটিক আলসারের মূল কারণ ব্যথানাশক ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার। এর ফলে রক্তবমি বা কালো পায়খানা (যা পাকস্থলী বা খাদ্যনালির ভেতরে রক্তপাতের জন্য হয়ে থাকে) এমনকি খাদ্যনালি ও পাকস্থলী ফুটোও হয়ে যেতে পারে, যা একজন মানুষকে অনায়াসে মৃত্যুর কোলে ধাবিত করতে পারে।

ব্যথানাশক ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপসহ হৃদরোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া ত্বকে ফুসকুড়ি, শরীরে পানি আসা, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়াসহ রয়েছে নানা বিপত্তি। সাধারণত অতিরিক্ত বয়স, ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস। একই সঙ্গে একাধিক ওষুধের ব্যবহার, ব্যথানাশক ওষুধের উচ্চমাত্রা, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের ব্যবহার, ব্যথার ওষুধজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রয়ার ইতিহাস অথবা পেপটিক আলসার বা কিডনি সমস্যার ইতিহাস– এসব ব্যথানাশক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দেয় বহুলাংশে। ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়া উচিত।
লেখক: কনসালট্যান্ট, ইমপালস হাসপাতাল।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com