সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পিত্তথলিতে পাথর হলে যেভাবে বুঝবেন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

পিত্তথলিতে পাথর একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা। অনেক ক্ষেত্রেই এটি দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে পিত্তথলির পাথর ধরা পড়ে অন্য কোনো রোগের পরীক্ষা বা রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়। সাধারণ পেটের এক্স-রেতে কিছু ক্ষেত্রে এটি শনাক্ত হলেও আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে পিত্তথলির পাথর নির্ণয় করা সম্ভব হয়।
পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়লে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন কিনা, নাকি ওষুধে চিকিৎসা সম্ভব। আবার অস্ত্রোপচার করলেও সেটি ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে হবে নাকি পেট কেটে করতে হবে–এ নিয়েও অনেকের দ্বিধা থাকে। তবে চিকিৎসকদের মতে, পিত্তথলির পাথরের কার্যকর ও প্রধান চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার। বর্তমানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে পেট বড় করে কাটার প্রয়োজন হয় না। পেটে ছোট কয়েকটি ছিদ্র করে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে পিত্তথলি অপসারণ করা হয়। এতে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। তবে রোগীর জটিলতা বা বিশেষ পরিস্থিতিতে খোলা অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে।
অনেক সময় পিত্তথলিতে দীর্ঘদিন পাথর থাকলেও কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। পিত্তথলিতে প্রদাহ হলে হঠাৎ পেটের ডান পাশে তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে। এর সঙ্গে জ্বর, বমি এবং ব্যথা কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় খাবার খাওয়ার পর বিশেষ করে তৈলাক্ত খাবারের পরে এই ব্যথা বাড়তে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা হলো অবস্ট্রাক্টিভ জন্ডিস। যখন পাথর মূল পিত্তনালিতে গিয়ে আটকে যায়, তখন পিত্ত শরীর থেকে স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারে না। ফলে শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে জন্ডিস দেখা দেয়। রোগীর চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যেতে পারে, প্রস্রাব গাঢ় হতে পারে এবং শরীরে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় এটি লিভার ও কিডনির জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
পিত্তথলির পাথর থেকে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা একিউট প্যানক্রিয়েটাইটিসও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা শুরু হয়, যা পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বমি, অস্বস্তি এবং শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। অনেক সময় ব্যথার তীব্রতা এত বেশি হয় যে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি না করলে রোগী শকে চলে যেতে পারেন।
দীর্ঘদিন পিত্তথলিতে পাথর থাকলে বিরল হলেও পিত্তথলির ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের কারণে পিত্তথলির ভেতরের আবরণে পরিবর্তন হয়ে পরবর্তী সময়ে ক্যান্সার তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলক কম, তবুও দীর্ঘদিন সমস্যা অবহেলা করা উচিত নয়। পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জটিলতা এড়িয়ে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব।
[অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com