সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মগজ দখলকারী ছত্রাক

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে
প্রকৃতির রহস্যের কোনো শেষ নেই। আমরা হরর সিনেমায় দেখি কিভাবে কোনো অদৃশ্য ভাইরাস মানুষকে ‘জম্বি’ বানিয়ে দিচ্ছে।

কিন্তু সিনেমার সেই কল্পনাকেও হার মানিয়ে দেয় বাস্তবের এক অদ্ভুত ছত্রাক। বনের গহিনে এমন এক ছত্রাক আছে, যারা আস্ত একেকটি পিঁপড়াকে জীবন্ত রোবটে পরিণত করতে পারে। বিজ্ঞানীদের কাছে এর নাম ‘অফিওকর্ডিসেপস’, তবে সাধারণ মানুষ এটিকে ‘জম্বি ছত্রাক’ নামেই চেনে। 

পুরো ঘটনাটি ঘটে নিভৃতে।

বনের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কোনো এক দলছুট পিঁপড়া হয়তো খাবারের খোঁজে ঘুরছে, ঠিক তখনই বাতাসের সঙ্গে ভেসে আসা এই ছত্রাকের অতি ক্ষুদ্র একটি রেণু বা স্পোর তার গায়ে গিয়ে পড়ে। খালি চোখে এই রেণু দেখা অসম্ভব। কিন্তু এই ক্ষুদ্র কণাটিই পিঁপড়াটির মরণঘণ্টা বাজিয়ে দেয়। ছত্রাকটি ধীরে ধীরে তার এনজাইম ব্যবহার করে পিঁপড়ার শরীরের শক্ত খোলস ফুটো করে ভেতরে ঢুকে পড়ে।
ঢুকেই ছত্রাক নিজের বংশ বিস্তার শুরু করে এবং পিঁপড়ার রক্ত ও নরম কোষ থেকে পুষ্টি নিতে থাকে। সাধারণত প্রাণীর ভেতরে কোনো পরজীবী ঢুকলে তাকে মেরে ফেলে। কিন্তু এই জম্বি ছত্রাক পিঁপড়াকে সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলে না; বরং এটি অদ্ভুতভাবে পিঁপড়ার শরীরের পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে দেখা যায়, পিঁপড়াটি তার স্বাভাবিক কাজ ছেড়ে দিয়ে একদম অন্য রকম আচরণ করছে। সে তার আপনজনদের ছেড়ে টলতে টলতে একা বনের নির্জন কোনো জায়গায় চলে যায়।
বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, ছত্রাকটি এমন কিছু রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা পিঁপড়ার মগজকে একরকম দাসে পরিণত করে। 

ছত্রাকটি পিঁপড়াকে দিয়ে ঠিক সেই কাজটিই করায়, যা তার বংশবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে উপযোগী। আক্রান্ত পিঁপড়া বনের অন্ধকার অংশ ছেড়ে আলোর দিকে আসার চেষ্টা করে এবং একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় গাছের পাতায় গিয়ে উঠে পড়ে। এরপর সে সেই পাতার উল্টো পিঠে অর্থাৎ শিরার ওপর তার শক্ত চোয়াল দিয়ে কামড় বসায়। একে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘ডেথ গ্রিপ’ বা মরণকামড়। এই কামড় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পিঁপড়াটি মারা যায়। কিন্তু পিঁপড়া মারা গেলেও ছত্রাক বেঁচে থাকে। সে মৃতদেহের ভেতরে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং পিঁপড়ার মাথার ঠিক মাঝখান দিয়ে সরু একটি দণ্ডের মতো ডাল বের করে আনে। এই দণ্ডটি যখন পূর্ণতা পায়, তখন এটি ফেটে গিয়ে আবার হাজার হাজার নতুন রেণু বাতাসে ছেড়ে দেয়। যেহেতু পিঁপড়াটি উঁচু জায়গায় মারা গিয়েছিল, তাই বাতাস সেই রেণুগুলোকে অনেক দূরে ছড়িয়ে দিতে পারে। এভাবেই বনের অন্য কোনো সুস্থ পিঁপড়াকে আক্রমণ করার জন্য নতুন এক জাল বিছিয়ে দেয় এই মগজ দখলকারী ছত্রাক।

প্রকৃতিতে এই ছত্রাকের উপস্থিতি কিছুটা ভয়ংকর মনে হলেও এটি কিন্তু বাস্তুতন্ত্রের জন্য বেশ জরুরি। কোনো বিশেষ প্রজাতির পোকা-মাকড়ের সংখ্যা যেন বনের মধ্যে খুব বেশি বেড়ে না যায়, তা নিয়ন্ত্রণ করতে এই ছত্রাক প্রাকৃতিক পাহারাদারের মতো কাজ করে। পোকা-মাকড়ের জন্য এটি কালজয়ী শত্রু হলেও জম্বি ছত্রাক কিন্তু মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। উল্টো তিব্বত বা চীনের পাহাড়ি এলাকায় এই ছত্রাকের কিছু প্রজাতি মানুষ কয়েক হাজার বছর ধরে ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। প্রকৃতির এই বিচিত্র এবং কিছুটা রহস্যময় ভারসাম্য আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়, আমাদের চারপাশের ক্ষুদ্র একেকটি প্রাণের জগতেও কত বিস্ময়কর আর রোমাঞ্চকর সব কাণ্ড ঘটে চলেছে!

 

তথ্যসূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, আর্থ ডটকম

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com