সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বিশেষ শিশুদের জন্য তাসমিমের ‘সেবা’

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

তাসমিম আলম তৃষ্ণা। তরুণ ইন্টারনাল বিহেভিয়ার অ্যানালিস্ট এবং কোয়ালিফায়েড অ্যানালিস্ট। তিনি দেশের এবিএ ক্ষেত্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছেন। এবিএ (Applied Behavior Analysis) থেরাপি হলো–অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) এবং অন্যান্য আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক ও গবেষণাধর্মী চিকিৎসা পদ্ধতি। সহজ কথায়, এটি শেখানো এবং আচরণের বিজ্ঞান। এদিকে থেরাপিস্ট হিসেবে শুধু কাজ করছেন না তাসমিম, বরং তরুণদের এবিএ শেখানোর কাজও করে যাচ্ছেন। তাসমিমের বেড়ে ওঠা ঢাকায়। স্কুলজীবনে ছিলেন শান্ত স্বভাবের এবং পর্যবেক্ষণপ্রবণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে পড়ার সময়ে উপলব্ধি করেন একজন মানুষের আচরণের পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণ থাকে এবং সঠিক পদ্ধতিতে কাজ করলে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তখন থেকেই মূলত বিশেষ চাহিদার শিশুদের নিয়ে কাজ করার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। বিশেষ করে অটিজম, স্পিচ ডিলে, হাইপারঅ্যাক্টিভিটি এবং ডেভেলপমেন্ট ডিলে থাকা শিশুদের প্রতি তাঁর আলাদা অনুভূতি তৈরি হয়। এরপর শুরুতে একাকি এবং পরে তরুণদের যুক্ত করার জন্য গড়ে তোলেন ‘সেবা ট্রেনিং সেন্টার’। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি তরুণদের এবিএ থেরাপি, প্যারেন্ট ট্রেনিং, স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম আইবিএ ও আবিটিএ ট্রেনিং পরিচালনা করেন। দেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের এবিএ প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কাজ করছেন; যাতে দক্ষ থেরাপিস্ট তৈরি হয় এবং পরিবারগুলোও সঠিক সহায়তা পায়। কেবল তাই নয়; এই প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের এবিএ থেরাপি দেওয়া হয়। এখানে প্রতিটি শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা আলাদা প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়। কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন প্রতিটি শিশু আলাদা এবং প্রতিটি শিশুর শেখার পদ্ধতিও আলাদা।
সেবাতে শিশুদের যেসব বিষয়ে কাজ করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে–কথা বলা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো, নিজের চাওয়া প্রকাশ করা শেখানো, চোখে চোখ রেখে কথা বলা, নির্দেশ অনুসরণ করা, বসে থাকা ও মনোযোগ বাড়ানো, খেলাধুলা শেখানো, স্পেশাল স্কিল উন্নত করা, ডেইলি লাইভিং স্কিল শেখানো, টয়লেট ট্রেনিং, খাওয়া ও নিজে নিজে কাজ করা শেখানো, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিমূলক দক্ষতা তৈরি করা এবং সমস্যাযুক্ত আচরণ কমানো। অনেক শিশু চিৎকার করে, মারধর করে, জিনিস ছুড়ে ফেলে বা নিজের চাওয়া প্রকাশ করতে পারে না। এবিএ থেরাপির মাধ্যমে এসব আচরণের কারণ খুঁজে বের করা হয় এবং শিশুকে বিকল্প ও ভালো আচরণ শেখানো হয়। সেবার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে এর প্রতিষ্ঠাতা তাসমিম আলম তৃষ্ণা বলেন, ‘এখানে শিশুর পাশাপাশি অভিভাবকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কারণ শুধু থেরাপি সেন্টারে কাজ করলেই হবে না; শিশুর উন্নতির জন্য পরিবারকেও শেখা জরুরি। আমি চাই, দেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক মানের এবিএ শিক্ষা পাক এবং দক্ষ থেরাপিস্ট হিসেবে গড়ে উঠুক। এই এবিএ থেরাপি শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি দায়িত্ব। কারণ একটি শিশুর ছোট ছোট উন্নতি একটি পরিবারের জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। একটি শিশু যখন প্রথমবার নিজের চাওয়া প্রকাশ করতে পারে, নিজের নাম শুনে সাড়া দেয় বা নিজে নিজে কোনো কাজ করতে শেখে–সেই মুহূর্তগুলোই তার কাজের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আগামীতেও এবিএ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার কাজ করে যেতে চাই। সেই সঙ্গে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই তরুণদের নিয়ে যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও সমান
গুরুত্ব পাবে।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com