সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কানে ফাঙ্গাস: কীভাবে বুঝবেন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

কয়েক দিন আগে চেম্বারে একজন ভদ্রমহিলা কানের সমস্যা নিয়ে আসেন। তাঁর প্রধান সমস্যা ছিল কানে অসহ্য চুলকানি এবং কান বন্ধ হয়ে থাকা। এছাড়া ডান কানে প্রচণ্ড ব্যথা এবং কান থেকে পানির মতো কালো ময়লা বের হচ্ছিল, যা তাঁর জন্য একদমই নতুন ও বিব্রতকর অভিজ্ঞতা ছিল। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কারণে তিনি স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্মেও বেশ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। যেহেতু ওই ভদ্রমহিলা একজন ডায়াবেটিক রোগী ছিলেন, তাই তাঁর আক্রান্ত কান পরীক্ষা করে দেখা গেল তিনি কানের ছত্রাক সংক্রমণ বা ফাঙ্গাস বা ‘অটোমাইকোসিস’ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

অটোমাইকোসিস কী এবং কেন হয়?
কানের এই বিশেষ ধরনের সংক্রমণ মূলত ছত্রাকজাতীয় জীবাণু থেকে হয়ে থাকে। এই জীবাণুগুলো সাধারণত কানের অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে দ্রুত বাড়ে। এর পেছনে প্রধানত দুই ধরনের ছত্রাক দায়ী:
l  অ্যাসপারজিলাস নাইজার: এটি প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী। এই ছত্রাকের সংক্রমণে কানে কালো ময়লার মতো ফাঙ্গাসের দলা জমা হয়।
l  ক্যানডিডা অ্যালবিকানস: এটি ১০ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী। এর ফলে কানে ভেজা পত্রিকার পাতার মতো সাদা দলা দেখতে পাওয়া যায়।

ফাঙ্গাসের লক্ষণ
আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত নিচের সমস্যাগুলো নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন:
l  অতিরিক্ত চুলকানির পাশাপাশি কানে তীব্র অস্বস্তি অনুভব করা।
l যদি ছত্রাকের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ যুক্ত হয়, তবে কানে অসহ্য ব্যথা হতে পারে।
l কান ভারী লাগা বা কানের ভেতর কিছু জমা হয়ে বন্ধ হয়ে আছে এমন অনুভূতি হওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে কানে কম শুনতে পাওয়া।
l কান থেকে ধূসর, হলুদ কিংবা সাদা রঙের তরল পদার্থ বের হওয়া।
l কানে শোনার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হওয়া; যা অনেক সময় রোগীকে মানসিকভাবে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়।

এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কাদের বেশি?
কিছু বিশেষ অভ্যাসের কারণে বা শারীরিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই রোগটি বেশি দেখা যায়–
যারা দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছেন অথবা কান পাকা রোগের কারণে দীর্ঘ সময় স্টেরয়েড-সংবলিত ড্রপ ব্যবহার করছেন।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।

বাংলাদেশের মতো উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই ছত্রাকের প্রকোপ বেশি। বর্ষা মৌসুমে বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ছত্রাকের বংশবিস্তারে আরও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
যারা নিয়মিত কটনবাড দিয়ে কান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন।
রাস্তা বা ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যারা কান পরিষ্কার করান, তারাও সহজে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি
নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ‘অটোস্কোপ’ যন্ত্রের সাহায্যে কানের ভেতরটা পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করেন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়:

কান পরিষ্কার করা:
প্রথমে মাইক্রোইয়ার সাকার মেশিন বা ড্রাই মপিংয়ের মাধ্যমে কানের ভেতর থেকে ছত্রাকের দলাগুলো বের করে কান শুকানো হয়।

ওষুধ প্রয়োগ:
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রার ছত্রাকরোধী (Antifungal) মলম বা ড্রপ ব্যবহার করতে হয়। যথাযথ মেয়াদে ও পূর্ণ মাত্রায় ওষুধ ব্যবহার করলে এই রোগ থেকে পুরোপুরি মুক্তি সম্ভব।
চুলকানি ও ব্যথার প্রতিকার:
চুলকানি কমানোর জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন এবং ব্যথার পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকলে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:
রোগীর যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে অবশ্যই তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

পরবর্তী ফলোআপ:
ওষুধের কোর্স শেষ হওয়ার পর চিকিৎসকের শিডিউল অনুযায়ী পুনরায় কান পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

জটিলতা প্রতিরোধে সতর্কতা ও পরামর্শ
কানের চুলকানির বিষয়টি অবহেলা করলে বা ভুলভাবে মোকাবিলা করলে কানের পর্দার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। অটোমাইকোসিস মূলত বহিঃকর্ণের রোগ হলেও, যাদের কান পাকা সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এটি মিশ্র সংক্রমণ তৈরি করতে পারে। কানের পর্দা অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য অসতর্কতায় দীর্ঘমেয়াদি শ্রবণশক্তি কমার ঝুঁকি থাকে।
কানে প্রায়ই কটনবাড, দিয়াশলাইয়ের কাঠি, মুরগির পালক বা চুলের ক্লিপ ব্যবহারের অভ্যাস অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই ধরনের বস্তুর ব্যবহারের ফলে কানে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি হতে পারে। তাই কানে যেকোনো ধরনের সমস্যা অনুভব করলে নিজে নিজে কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে দ্রুত একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতনতাই পারে আমাদের সুস্থ রাখতে।

[নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট]

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com