জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। গত ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারী-পুরুষ হজ পালনের জন্য সৌদি আরবের মক্কা-মদিনায় যাবেন। সঠিকভাবে হজ পালনের জন্য হজের নিয়মকানুন ও বিধিবিধান আগে জেনে নেওয়া উচিত। এ নিয়েই এবারের বিশেষ আয়োজন।
হজে যাচ্ছেন, আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করুন–‘হে আল্লাহ! আমার হজকে সহজ করুন, কবুল করুন’। দেখবেন আপনার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। হজের দীর্ঘ সফরে ধৈর্য হারাবেন না। সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মানসিকতা রাখবেন, অল্পতে বিচলিত হবেন না।
হজে যাওয়ার আগে: পাসপোর্ট, বিমানের টিকিট সংগ্রহ ও তারিখ নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে ভুলবেন না। নিয়ম মেনে টিকা দিয়ে নিন। হজের নিয়ম জানার জন্য একাধিক বই পড়তে পারেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হজ) ড. মো. মঞ্জুরুল হক জানালেন, এবার যাঁরা হজে যাচ্ছেন, তাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা, টিকা দেওয়া, স্বাস্থ্যসনদ সংগ্রহ, হজের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র সংগ্রহ করা দরকার। হজ প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য তথ্য ঢাকার আশকোনা হজ কার্যালয় থেকে জানা যাবে। হজের প্রয়োজনীয় তথ্য www.hajj.gov.bd ঠিকানার ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
মালপত্রের বিধিনিষেধ
বিমানে উড্ডয়নকালে হাতব্যাগে ছুরি, কাঁচি, দড়ি নেওয়া যাবে না। বিমান কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা অনুযায়ী বিমানে কোনো হজযাত্রী সর্বোচ্চ ৪৬ কেজির বেশি মালপত্র বহন করতে পারবেন না। নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ওষুধ নেওয়া যাবে না। চাল, ডাল, শুঁটকি, গুড় ইত্যাদিসহ পচনশীল খাদ্যদ্রব্য যেমন: রান্না করা খাবার, তরিতরকারি, ফলমূল, পান, সুপারি ইত্যাদি সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
আপনার গন্তব্য ঢাকা থেকে মক্কায় নাকি মদিনায়
আপনার গন্তব্য ঢাকা থেকে মক্কায়, নাকি মদিনায়–তা জেনে নিন। যদি মদিনায় হয়, তাহলে এখন ইহরাম করতে হবে না। যখন মদিনা থেকে মক্কায় যাবেন, তখন ইহরাম করতে হবে। বেশির ভাগ হজযাত্রী আগে মক্কায় যান। যদি মক্কায় যেতে হয়, তাহলে ঢাকা থেকে বিমানে ওঠার আগে ইহরামের নিয়ত করা ভালো।
ইহরাম করার পর সাংসারিক কাজকর্ম নিষেধ–যেমন স্বামী-স্ত্রীর মিলন, পুরুষদের জন্য সেলাই করা জামা, পায়জামা ইত্যাদি পরা, কথা ও কাজে কাউকে কষ্ট দেওয়া, নখ, চুল, দাড়ি-গোঁফ ও শরীরের একটি পশম কাটা বা ছেঁড়া, কোনো ধরনের সুগন্ধি লাগানো, কোনো ধরনের শিকার করা (তবে ক্ষতিকারক প্রাণী মারা যাবে)।
ঢাকা বিমানবন্দরে যা করতে হবে
বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র, বিমানের টিকিট, টিকা দেওয়ার কার্ড, অন্য কাগজপত্র, টাকা, বিমানে পড়ার জন্য ধর্মীয় বই ইত্যাদি গলায় ঝোলানোর ব্যাগে যত্নে রাখুন। সময়মতো বিমানে উঠে নির্ধারিত আসনে বসুন।
জেদ্দা বিমানবন্দর
বিমান থেকে নামার পর দেখবেন, একটি হলঘরে বসার ব্যবস্থা করা আছে। সেখান থেকে ‘বাংলাদেশ প্লাজায়’ পৌঁছাবেন। হজ টার্মিনাল শুধু হজযাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিমানবন্দর টার্মিনালের চারদিক খোলা। সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী তাঁবুর নকশায় করা ছাদ। এই হজ টার্মিনালের স্থপতি একজন বাংলাদেশি। তাঁর নাম ফজলুর রহমান খান। তিনি এফ আর খান নামে পরিচিত।
হজ টার্মিনাল
হজ টার্মিনালের ‘বাংলাদেশ প্লাজায়’ গিয়ে অপেক্ষা করুন। সেখানে অজু করা, নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। বসার জন্য চেয়ারও রয়েছে।
প্রতি ৪৫ জনের জন্য একটি বাসের ব্যবস্থা আছে। মোয়াল্লেমের গাড়ি আপনাকে জেদ্দা থেকে মক্কায় যে বাড়িতে থাকবেন, সেখানে নামিয়ে দেবে।
বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র (যাতে পিলগ্রিম নম্বর, নাম, ট্রাভেল এজেন্টের নাম ইত্যাদি থাকবে) গলায় ঝোলাবেন।
জেদ্দা থেকে মক্কায় পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা সময় লাগবে। চলার পথে তালবিয়া পড়ুন।
তালবিয়া: ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’।
কোন কোন দোয়া মুখস্থ করবেন
কাবা শরিফের চারদিকে ঘোরাকে বলা হয় তাওয়াফ আর এই তাওয়াফ সম্পন্ন করতে হয় কাবাঘরের সাতটি চক্করের মাধ্যমে। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে যাতায়াতকে বলা হয় সাঈ। আপনাকে যেটা মুখস্থ করতে হবে, তার একটি হলো তালবিয়া। তবে এটি শুধু মুখস্থ করলে চলবে না, এগুলোর অর্থও আপনাকে জানতে হবে।
তালবিয়া: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।
হজের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তালিকা
হজের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র সংগ্রহ করা দরকার। যেমন:
আরও কিছু প্রয়োজনীয় মনে হলে তা নিয়ম মেনে সঙ্গে নিতে হবে।
হজ করতে যাচ্ছেন–যাত্রার শুরুতে নিজেকে এমনভাবে মানসিকভাবে তৈরি করে নিন, যেন দেহ-মনে কোনো কষ্ট না থাকে। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে হজ হলো দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত এবং শ্রমসাধ্য ব্যাপার।