সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

এই গরমে কী খাবেন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে
চলছে গ্রীষ্মকাল। বৈশাখ অর্ধেক পেরিয়ে গেছে, এরপর আসছে গ্রীষ্মের আরেকটি মাস—জ্যৈষ্ঠ। বসন্তের শেষ, অর্থাৎ চৈত্র মাস থেকেই আবহাওয়া শুষ্ক হয় এবং তীব্র গরম পড়তে থাকে। এ বছর এল নিনোর প্রভাব বিরাজমান, তাই বেশ কয়েকটি তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হব আমরা।

এমন বৈরী আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন। 

 

পানি পান জরুরি

দাবদাহ মোকাবেলায় বিশুদ্ধ পানি পান করার বিকল্প নেই। গরমে আরামের জন্য অনেকেই শরবত, লাচ্ছি বা ইলেকট্রোলাইট ড্রিংকস পান করেন, যা সাময়িক শান্তি দিলেও পানির মতো হাইড্রেট করে না। এর পাশাপাশি গ্রহণ করতে হবে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার।

গরমে কিছু খাবার গ্রহণ করলে শরীরে উল্টো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, খাদ্যতালিকা থেকে সেসব বাদ দেওয়াই উত্তম। এর মধ্যে আছে— 

* অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত, কোমল পানীয় ও ড্রিংক পাউডার।

* অতিরিক্ত মাত্রায় চা বা কফি খেলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

* অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে।

 

* তেলতেলে ভাজাপোড়া খাবার।

* অতিরিক্ত মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার।

* অতিরিক্ত চর্বি ও মসলাযুক্ত গুরুপাক খাবার।

* গরু ও খাসির মাংস।

* প্রসেস ফুড, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি।

 

অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত খেলে সেটি উল্টো অসমোসিসের মাধ্যমে দেহের কোষগুলোর মধ্যে থাকা পানি শুষে নেয়, দেখা দেয় পানিশূন্যতা। পানিশূন্যতা কাটাতে অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় পান করলে উল্টো দেখা দিতে পারে অবসাদ, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা তীব্র মাথা ব্যথা। ঘন ঘন চিনিযুক্ত শরবত খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও কঠিন হয়ে যাবে। গরমের মধ্যে তেলতেলে ভাাজাপোড়া খাবার খেলে দেহে ট্রান্সফ্যাট বেড়ে যেতে পারে। এতে দেখা দিতে পারে অ্যাসিডিটি,  গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য, এমনকি আলসারও হতে পারে।

 

যে খাবার স্বস্তি দেবে

খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে সহজপাচ্য ও পর্যাপ্ত ক্যালরিসমৃদ্ধ সুষম খাবার। আমিষ, শর্করা, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেলের পাশপাশি খাবারে ফাইবার থাকাও জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—

* সম্ভব হলে লাল চালের ভাত ও লাল আটার রুটি খাওয়া উচিত। এ ধরনের খাবারে ক্যালরি অপেক্ষাকৃত কম, সঙ্গে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার। লাল চাল ও আটা হজম হয় ধীরে ধীরে, দ্রুত ক্ষুধা পায় না।

* আমিষ হিসেবে মাছের ঝোল খাওয়া যেতে পারে।

* দুধের পরিবর্তে টক দইয়ের শরবত বা মাঠা রাখতে পারেন। উচ্চমানের প্রোবায়োটিক খাবার দই, যা অন্ত্রের খারাপ ব্যাকটেরিয়া দমন করে ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে। এতে বাড়ে হজম ক্ষমতা।

* চিড়া খেলে শরীরে প্রশান্তি আসবে। দই, কলা বা দুধ দিয়ে চিড়া খাওয়া যেতে পারে। এতে পেট ঠাণ্ডা থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যাবে।

* পানিশূন্যতা পূরণে ডাবের পানি, তরমুজ, বাঙ্গি, বেলের শরবত, তাজা ফলের রস, খাওয়ার স্যালাইন কিংবা লেবুর শরবত বেশ কাজের। তবে অবশ্যই চিনি কম থাকতে হবে। এতে শরীরের পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ব্যালান্স হবে ইলেকট্রোলাইটও।

 

তীব্র রোদ পরিহার

তীব্র রোদে ঘরে থাকাই শ্রেয়। ভরদুপুরের বদলে বিকেল বা সন্ধ্যায় বের হওয়া উচিত। রোদে বের হতে হলে সঙ্গে নিন ছাতা, রোদচশমা এবং বিশুদ্ধ পানির বোতল। সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

লেখক : পুষ্টিবিদ

উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটাল, উত্তরা, ঢাকা

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com