সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণে ভরপুর শজনে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে
পুষ্টি, ঔষধি গুণ ও সারা বছর ফলন পাওয়া যায় বলে শজনেগাছকে ‘মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ’ বলা হয়। শীতপ্রধান দেশ ছাড়া প্রায় সারা পৃথিবীতেই জন্মে শজনেগাছ। বিশেষ করে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বেশি চাষ হয়।

শজনের পাতা, শিকড় ও অপরিণত শুঁটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়।

এই গাছের বাকল, শুঁটি, পাতা, বাদাম, বীজ, কন্দ, শিকড় এবং ফুলও খাওয়া যায়। সবজির চেয়ে এর পাতার গুণাগুণ আরো বেশি। শজনেপাতায় ৯ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডসহ ৩৮ শতাংশ আমিষ পাওয়া যায়। এ ছাড়া এতে আছে আয়রন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন এ, বি ও সি।
শজনের বীজে থাকে প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। পরিপক্ব শজনের বীজ উদ্ভিজ্জ তেল হিসেবেও পাওয়া যায়, যা রান্নার কাজে বা মেশিনে ব্যবহার করা যেতে পারে। 

শজনের বীজে থাকা আমিষ ব্যাকটেরিয়াকে জমাটবদ্ধ করে আলাদা করে ফেলে। তাই পানীয় জল বিশুদ্ধ করতে বীজ গুঁড়া করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো বলেন, শজনেতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যামিনো এসিড থাকায় এটি ত্বকের এবং চুলের জন্য খুব উপকারী। 

কেবল খাদ্য উপাদানই না, শজনের ঔষধি গুণও অনেক। এর বাকল, শিকড়, ফুল, ফল, পাতা, বীজ ও আঠা বিভিন্ন রোগের প্রতিকার হিসেবে কাজ করে। এই গাছের অনেক অংশ আয়ুর্বেদিক ওষুধে ব্যবহূত হয়। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র মতে, শজনেগাছ ৩০০ রকমের রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।

আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিত্সায় শজনে ব্যবহূত হয়। এতে কার্ডিও-প্রতিরক্ষামূলক এবং প্রদাহ, হাঁপানি, জীবাণু ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধী শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য থাকে, যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, এমনকি শরীরে টিউমার ছড়িয়ে পড়াও প্রতিরোধ করে। 

শজনেগাছের শুকনা পাতায় কমলালেবুর সাত গুণ ভিটামিন সি, দইয়ের চেয়ে ৯ গুণ বেশি প্রোটিন, গাজরের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ভিটামিন এ এবং কলার চেয়ে ১৫ গুণ বেশি পটাসিয়াম থাকে। এ ছাড়া এতে দুধের চেয়ে ১৭ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম এবং পালংশাকের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি আয়রন রয়েছে। শজনেডাঁটায় প্রচুর পটাসিয়াম থাকায় এর পাতার রস, সবজি বা চা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ওজন কমাতেও ভূমিকা রাখে।

শরীর, কান ও মাথা ব্যথার মতো সমস্যায় শজনে বিশেষভাবে উপকারী। শরীরের কোনো স্থানে ব্যথা হলে বা ফুলে গেলে শজনের শিকড়ের প্রলেপ দিলে ব্যথা ও ফোলা সেরে যায়।
এ ছাড়া শজনের আঠা দুধের সঙ্গে খেলে এবং কপালে মালিশ করলে মাথা ব্যথা সেরে যায়। ফুল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে। ফুলের রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে হাঁপানি রোগে উপকার হয়। শজনেপাতার রসের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে খেতে দিলে বাচ্চাদের পেটে জমা গ্যাস দূর হয়। এই রস হূদরোগের চিকিত্সায় এবং রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হয়। শজনেপাতার শাক খেলে জ্বর ও সর্দি দূর হয়।

ক্ষতস্থান সারার জন্য শজনেপাতার পেস্ট উপকারী। শজনের ফল নিয়মিত রান্না করে খেলে গেঁটে বাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। পোকার কামড়ে অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে শজনের রস ব্যবহার করা হয়।

শজনে শরীরের প্রতিরোধক ব্যবস্থা শক্তিশালী করে। এ ছাড়া শরীর থেকে বিষাক্ত দ্রব্য, ভারী ধাতু অপসারণ এবং শরীরে রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি নিতে সহায়তা করে। শ্বাসকষ্ট, মাথা ধরা, মাইগ্রেন, আর্থ্রাইটিস এবং চুল পড়া রোগের চিকিত্সায়ও শজনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

 

 

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com