শরীর দুর্বল লাগা, অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া, ক্লান্তি অনুভব করা বা কাজে মনোযোগ না থাকা– এসব লক্ষণ আমরা সাধারণত অবহেলা করি। কিন্তু এগুলো শরীরের ভেতরে কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
পানিশূন্যতা শরীর দুর্বল হওয়ার একটি প্রধান কারণ। শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হলে ক্লান্তি দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের কর্মক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে।
ঘুমের ঘাটতি বা অনিদ্রা থেকেও ক্লান্তি সৃষ্টি হয়। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুম কম হলে শরীরের শক্তি কমে যায় এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়।
রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াও দুর্বলতার অন্যতম কারণ। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। ফলে ক্লান্তি অনুভূত হয়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, যেমন– হাইপোথাইরয়েডিজম, শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং শক্তি উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ফলে শরীর অবসন্ন হয়ে পড়ে।
ডায়াবেটিসের কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে দ্রুত ক্লান্তি আসে। একইভাবে হৃদরোগের ক্ষেত্রেও অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
খাবার গ্রহণে অনীহা থাকলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব হয়, যা দুর্বলতার কারণ। দীর্ঘ সময় না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে।
সঠিক চিকিৎসার জন্য দুর্বলতার মূল কারণ নির্ণয় করা জরুরি। জীবনযাপনে পরিবর্তন, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
লেখক : নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।